ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে নাটকীয় ঝড়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। ওয়াশিংটন থেকে ইউরোপ, চীন ও রাশিয়া—সবখানেই প্রশ্ন একটাই, এই শক্তি প্রদর্শনের পর ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে।
হঠাৎ গ্রেপ্তার ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা
মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে এবং দেশটি সহিংসতায় ডুবে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা আপাতত ভিন্ন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রোদ্রিগেজকে শপথ করিয়ে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। সেনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমর্থন পাওয়ায় সরকার পরিচালনায় একটি ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। এতে স্পষ্ট, এই পরিবর্তন হঠাৎ হলেও ভেতরের সমন্বয় ছাড়া ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, আপাতত ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব তারা নিজেরাই সামলাবে। তিনি সরাসরি বিরোধীদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার কথা বলেননি। বরং সামরিক সমর্থনপুষ্ট সরকারের সঙ্গে কাজ করতেই আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তেল অবরোধ শিথিল করা এবং দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রয়োজন।
ওয়াশিংটনের এই অবস্থান আসলে চাপ তৈরির কৌশল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দীর্ঘদিনের মধ্যপ্রাচ্য হস্তক্ষেপের অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্র আর নতুন করে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রগঠন প্রকল্পে জড়াতে চাইছে না। তাই সীমিত নিয়ন্ত্রণ ও সমঝোতার পথেই এগোচ্ছে তারা।
নির্বাচনের প্রশ্নে বাড়ছে চাপ
স্থিতিশীলতার পর সামনে সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হচ্ছে নির্বাচন। দেশটির ভেতরে ও বাইরে থেকে ইতিমধ্যেই নতুন নির্বাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কংগ্রেসের উভয় দল এবং ইউরোপের সরকারগুলো চাইছে ভেনেজুয়েলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আন্তর্জাতিক অর্থ সহায়তার দরজাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে। এই পথ খুলতে হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ও ভেনেজুয়েলার সামরিক শক্তিকেন্দ্রগুলোর মধ্যে কঠিন দরকষাকষি হবে। তবে ক্ষমতা ভাগাভাগির কোনো সমঝোতা যদি বিরোধীদের সুযোগ কমিয়ে দেয়, তাহলে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
প্রবাসী ভেনেজুয়েলানদের ভূমিকা
সংঘাত ও অর্থনৈতিক সংকটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় আশি লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা এই মানুষদের অনেকের ওপর এখন দেশে ফেরার চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিপুলসংখ্যক ভেনেজুয়েলানও সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদার আওতায় রয়েছে। সামনে এই প্রবাসীরাই ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। তবে সামরিক সমর্থিত সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার কারণে দেশটি আপাতত বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশ্ন একটাই, এই স্থিতিশীলতা কি শেষ পর্যন্ত জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















