০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম বন্ধে অন্ধ্রের ভাবনা, মন্ত্রিসভার বিশেষ কমিটি গঠন সাংবাদিকদের প্রশ্নে নীরব বিসিসিআই সভাপতি, বাংলাদেশ ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান নেই ভারতের শিশু নির্যাতনের অভিযোগে শারমিন একাডেমির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার বিশ্ব অস্থিরতার যুগে ভারত-ইইউ ঘনিষ্ঠতা বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতি দিতে পারে: জয়শঙ্কর ডলারের বিপরীতে নতুন তলানিতে রুপি, বাজারে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ইরানকে অর্ধশতক ধরে পিছিয়ে রেখেছে এই মোহ ট্রাম্পের আর্কটিক নাটক ও বৈশ্বিক বাজারে শীতল হাওয়া কোটা প্রশ্নে অনড়তা, নীতিমালার সংঘাত আর অব্যাহতি—আফসানা বেগমের অভিযোগে গ্রন্থকেন্দ্রের ভেতরের গল্প বাংলাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে নারীর সংকট পুনে বিমানবন্দরে বোমা আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ফুটপাতি হাঁকডাক, মান নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক’ নাম থাকলেও বাস্তবে তার ছাপ মিলছে না আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায়—এমন অভিযোগ তুলছেন দর্শনার্থীরা। শুক্রবার দুপুরে মেলার একাধিক স্টলে ‘বাইছা লন ভাই এক শ, দেইখা লন ভাই এক শ’ ধরনের উচ্চস্বরে হাঁকডাক শুনে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এই দৃশ্য আন্তর্জাতিক মানের প্রদর্শনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মেলার মান ও ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ
দর্শনার্থীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মানের দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যের বদলে কিছু স্টলে ফুটপাতের মতো পরিবেশে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। উচ্চস্বরে দর হাঁকিয়ে ক্রেতা টানার এই প্রবণতা মেলার পরিবেশ নষ্ট করছে। এতে শুধু ক্রেতারা বিরক্ত হচ্ছেন না, দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬

কী ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে
মেলার বিভিন্ন স্টলে শিশুদের খেলনা, আচার, চকোলেট, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, প্রসাধনী, লেডিস ব্যাগ, কসমেটিকস ও জুয়েলারিসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তবে একাধিক দর্শনার্থীর দাবি, এসব পণ্যের অনেকটাই ফুটপাতি মানের হলেও দাম রাখা হচ্ছে তুলনামূলক বেশি। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও কিছু পণ্য যাচাই ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা
কাপাসিয়া থেকে আসা রোকসানা আহম্মেদ বলেন, এটাকে আন্তর্জাতিক মেলা না বলে ফুটপাত বলাই ভালো। এখানে কোনো শৃঙ্খলা বা পরিবেশ নেই। প্রতিবছর মেলায় আসি, কিন্তু এক শ টাকার হাঁকডাক এবার ভালো লাগেনি। কোথাও আবার কম দামের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে, মানের তুলনায় দাম অনেক বেশি।

রেবেকা সুলতানা পলি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় নিম্নমানের পণ্য থাকার কোনো যুক্তি নেই। এখানে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য থাকার কথা। কিন্তু অনেক স্টলে বিএসটিআই অনুমোদনহীন পণ্য দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

জমে উঠেছে ঢাকা বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়ীদের মুখে স্বস্তির হাসি

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাঁকডাক করে মূল্যছাড়ের কথা না বললে ক্রেতারা অন্য স্টলে চলে যান। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে তাদের এমন পদ্ধতি নিতে হচ্ছে। তাদের দাবি, এতে বিক্রি বাড়ছে এবং ক্রেতাদের আগ্রহও তৈরি হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা নিয়ে ভোক্তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কেউ যদি পণ্যের দাম বা মান নিয়ে অভিযোগ করেন, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেলার সময়সূচি ও আয়োজন
৩০তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার এই আয়োজন চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এবারের আসরে মোট ৩২৭টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম বন্ধে অন্ধ্রের ভাবনা, মন্ত্রিসভার বিশেষ কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ফুটপাতি হাঁকডাক, মান নিয়ে প্রশ্ন

০৫:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক’ নাম থাকলেও বাস্তবে তার ছাপ মিলছে না আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায়—এমন অভিযোগ তুলছেন দর্শনার্থীরা। শুক্রবার দুপুরে মেলার একাধিক স্টলে ‘বাইছা লন ভাই এক শ, দেইখা লন ভাই এক শ’ ধরনের উচ্চস্বরে হাঁকডাক শুনে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এই দৃশ্য আন্তর্জাতিক মানের প্রদর্শনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মেলার মান ও ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ
দর্শনার্থীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মানের দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যের বদলে কিছু স্টলে ফুটপাতের মতো পরিবেশে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। উচ্চস্বরে দর হাঁকিয়ে ক্রেতা টানার এই প্রবণতা মেলার পরিবেশ নষ্ট করছে। এতে শুধু ক্রেতারা বিরক্ত হচ্ছেন না, দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬

কী ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে
মেলার বিভিন্ন স্টলে শিশুদের খেলনা, আচার, চকোলেট, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, প্রসাধনী, লেডিস ব্যাগ, কসমেটিকস ও জুয়েলারিসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তবে একাধিক দর্শনার্থীর দাবি, এসব পণ্যের অনেকটাই ফুটপাতি মানের হলেও দাম রাখা হচ্ছে তুলনামূলক বেশি। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও কিছু পণ্য যাচাই ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা
কাপাসিয়া থেকে আসা রোকসানা আহম্মেদ বলেন, এটাকে আন্তর্জাতিক মেলা না বলে ফুটপাত বলাই ভালো। এখানে কোনো শৃঙ্খলা বা পরিবেশ নেই। প্রতিবছর মেলায় আসি, কিন্তু এক শ টাকার হাঁকডাক এবার ভালো লাগেনি। কোথাও আবার কম দামের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে, মানের তুলনায় দাম অনেক বেশি।

রেবেকা সুলতানা পলি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় নিম্নমানের পণ্য থাকার কোনো যুক্তি নেই। এখানে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য থাকার কথা। কিন্তু অনেক স্টলে বিএসটিআই অনুমোদনহীন পণ্য দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

জমে উঠেছে ঢাকা বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়ীদের মুখে স্বস্তির হাসি

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাঁকডাক করে মূল্যছাড়ের কথা না বললে ক্রেতারা অন্য স্টলে চলে যান। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে তাদের এমন পদ্ধতি নিতে হচ্ছে। তাদের দাবি, এতে বিক্রি বাড়ছে এবং ক্রেতাদের আগ্রহও তৈরি হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা নিয়ে ভোক্তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কেউ যদি পণ্যের দাম বা মান নিয়ে অভিযোগ করেন, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেলার সময়সূচি ও আয়োজন
৩০তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার এই আয়োজন চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এবারের আসরে মোট ৩২৭টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।