সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হামলায় একটি সম্পূর্ণ তরমুজখেত ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দাবি, এতে তার অন্তত আট লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগের কোনো বিরোধের জের ধরেই এই নাশকতা চালানো হয়েছে।
ঘটনার স্থান ও সময়
ঘটনাটি ঘটেছে জৈন্তাপুর উপজেলার দরবাস্তা ইউনিয়নের দাইয়া গ্রামে। গত ২০ জানুয়ারি রাত প্রায় নয়টা থেকে ২১ জানুয়ারি সকাল আটটার মধ্যে অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকজন মাঠে ঢুকে তরমুজগাছ কেটে ফেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির বিবরণ
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহাম্মদ আহমদ আলী, বয়স তিপ্পান্ন। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে বেদু হাওরে অবস্থিত একটি স্থানীয় মসজিদের মালিকানাধীন জমিতে পাঁচ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। ছোট পরিসরের কৃষক হিসেবে এটাই ছিল তার প্রথমবার তরমুজ চাষ।
ক্ষতির পরিমাণ ও ফসলের অবস্থা
দুর্বৃত্তরা প্রায় নয়শ থেকে এক হাজার তরমুজগাছ কেটে ফেলে। গাছগুলোতে তখন ফুল ও ফল ধরতে শুরু করেছিল। ফলে পুরো খেতই সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকের হিসাব অনুযায়ী, এতে অন্তত আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কৃষকের বক্তব্য
আহমদ আলী বলেন, রাতারাতি পুরো খেত ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সামনে বাজারজাত করে খরচ উঠিয়ে নেওয়ার যে আশা ছিল, তা একেবারে শেষ হয়ে গেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ফসলের সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ কৃষকের জন্য অত্যন্ত বড়। তার মতে, তরমুজগুলো রমজানের আগেই বাজারে তোলার উপযোগী হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হামলায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গেছে।
পুলিশের অবস্থান
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















