যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজারো অভিবাসী পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে বোস্টন থেকে। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে সাতটি লাতিন আমেরিকার দেশ থেকে আসা ৮ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষের আইনি মর্যাদা বাতিলের প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। এই রায়ে আপাতত বহাল থাকছে তাঁদের মানবিক প্যারোলের সুবিধা।
বিচারকের আদেশে স্থগিত প্রশাসনের সিদ্ধান্ত
বোস্টনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি শনিবার রাতে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাঁর আদেশে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আপাতত কিউবা, হাইতি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাস থেকে আসা অভিবাসীদের মানবিক প্যারোল বাতিল করতে পারবে না। এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও গ্রিনকার্ডধারীরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের স্পনসর করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন।
পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচির পটভূমি
আগের প্রশাসনের সময়ে আধুনিকায়ন করা পারিবারিক পুনর্মিলন প্যারোল কর্মসূচির মাধ্যমে এসব পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে এসে ভিসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অনেকেই এ জন্য নিজ দেশে ঘরবাড়ি বিক্রি করেছেন, চাকরি ছেড়েছেন এবং নতুন জীবনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। সেপ্টেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত অভিবাসন সংস্থাগুলোর জন্য বিপুল বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ডিসেম্বরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ঘোষণা দেয়, এসব কর্মসূচি তাদের নতুন অভিবাসন নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে যথাযথ যাচাই ছাড়াই বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।
![]()
বিচারকের পর্যবেক্ষণ ও যুক্তি
বিচারক তালওয়ানি বলেন, প্রতারণার অভিযোগের পক্ষে প্রশাসন কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এসব মানুষ বাস্তবে নিজ দেশে ফিরতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও কোনো বাস্তব বিশ্লেষণ করা হয়নি। নীতির এই হঠাৎ পরিবর্তনকে তিনি খামখেয়ালি ও যুক্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
বৃহত্তর আইনি লড়াইয়ের অংশ
এই আদেশ একটি শ্রেণি মামলা থেকে এসেছে, যেখানে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা সাময়িক প্যারোল সুবিধা বাতিলের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এর আগে একই মামলায় প্রায় চার লাখ অভিবাসীর প্যারোল বাতিলের উদ্যোগও সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরে উচ্চ আদালতে সে আদেশ পরিবর্তিত হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















