০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মিনিয়াপোলিসে ভিডিওর সঙ্গে সাংঘর্ষিক সরকারি দাবি, ফেডারেল গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহত

মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি বর্ণনা সাংঘর্ষিক হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ঘটনার পটভূমি
শনিবার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযানের সময় আলেক্স প্রেট্টি নামের ৩৭ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, প্রেট্টি ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। তবে পথচারীদের ধারণ করা একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেট্টির হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, তিনি একটি মোবাইল ফোন ধরে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ধারণ করছিলেন।

Trump administration defends killing American in Minneapolis, contradicts  videos - CNA

 

ভিডিওতে কী দেখা গেছে
যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ফেডারেল কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছিলেন। সে সময় প্রেট্টি অন্যদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এক কর্মকর্তা তার দিকে মরিচ স্প্রে ছোড়েন, এরপর একাধিক কর্মকর্তা তাকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। কিছুক্ষণ পর তার পিঠের দিকে তাক করে খুব কাছ থেকে একাধিক গুলি ছোড়া হয়। ভিডিওতে প্রেট্টির হাতে কোনো বন্দুক দেখা যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের অবস্থান
মিনিয়াপোলিসের পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা প্রকাশ্যে বলেন, ভিডিওই সবকিছু স্পষ্ট করে দিচ্ছে। তার ভাষায়, প্রেট্টি কোনোভাবেই বন্দুক তাক করেছিলেন এমন প্রমাণ তিনি দেখেননি। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারাও জানান, প্রেট্টির বৈধ অস্ত্র বহনের অনুমতি থাকলেও ঘটনার সময় তিনি তা ব্যবহার করেননি।

Trump administration defends killing American in Minneapolis, contradicts  videos

 

দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ও বাড়তে থাকা উত্তেজনা
চলতি মাসেই মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে এটি দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু। এর আগে রেনি গুড নামে এক নারী গাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সেই ঘটনাতেও সরকারি বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় শহরজুড়ে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ আবারও ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ঘটনাগুলো আমেরিকার মূল্যবোধকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। রাজ্যের অনুরোধে একজন ফেডারেল বিচারক প্রেট্টির মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।

Trump administration defends killing American in Minneapolis, contradicts  videos - CNA

মানবিক দিক
আলেক্স প্রেট্টি ছিলেন ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতালের একজন নিবিড় পরিচর্যা নার্স। তার মৃত্যুর পর শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী ঘটনাস্থলে ফুল ও মোমবাতি রেখে শ্রদ্ধা জানান। সহকর্মীরা জানান, প্রেট্টি ছিলেন সহানুভূতিশীল ও মানবিক মানুষ। তাদের ভাষায়, এই মৃত্যু কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনে ফিরছে বাঘ, তবে ঘনিয়ে আসছে খাদ্যসংকট

মিনিয়াপোলিসে ভিডিওর সঙ্গে সাংঘর্ষিক সরকারি দাবি, ফেডারেল গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহত

০১:৫০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি বর্ণনা সাংঘর্ষিক হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ঘটনার পটভূমি
শনিবার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযানের সময় আলেক্স প্রেট্টি নামের ৩৭ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, প্রেট্টি ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। তবে পথচারীদের ধারণ করা একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেট্টির হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, তিনি একটি মোবাইল ফোন ধরে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ধারণ করছিলেন।

Trump administration defends killing American in Minneapolis, contradicts  videos - CNA

 

ভিডিওতে কী দেখা গেছে
যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ফেডারেল কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছিলেন। সে সময় প্রেট্টি অন্যদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এক কর্মকর্তা তার দিকে মরিচ স্প্রে ছোড়েন, এরপর একাধিক কর্মকর্তা তাকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। কিছুক্ষণ পর তার পিঠের দিকে তাক করে খুব কাছ থেকে একাধিক গুলি ছোড়া হয়। ভিডিওতে প্রেট্টির হাতে কোনো বন্দুক দেখা যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের অবস্থান
মিনিয়াপোলিসের পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা প্রকাশ্যে বলেন, ভিডিওই সবকিছু স্পষ্ট করে দিচ্ছে। তার ভাষায়, প্রেট্টি কোনোভাবেই বন্দুক তাক করেছিলেন এমন প্রমাণ তিনি দেখেননি। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারাও জানান, প্রেট্টির বৈধ অস্ত্র বহনের অনুমতি থাকলেও ঘটনার সময় তিনি তা ব্যবহার করেননি।

Trump administration defends killing American in Minneapolis, contradicts  videos

 

দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ও বাড়তে থাকা উত্তেজনা
চলতি মাসেই মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে এটি দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু। এর আগে রেনি গুড নামে এক নারী গাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সেই ঘটনাতেও সরকারি বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় শহরজুড়ে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ আবারও ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ঘটনাগুলো আমেরিকার মূল্যবোধকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। রাজ্যের অনুরোধে একজন ফেডারেল বিচারক প্রেট্টির মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।

Trump administration defends killing American in Minneapolis, contradicts  videos - CNA

মানবিক দিক
আলেক্স প্রেট্টি ছিলেন ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতালের একজন নিবিড় পরিচর্যা নার্স। তার মৃত্যুর পর শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী ঘটনাস্থলে ফুল ও মোমবাতি রেখে শ্রদ্ধা জানান। সহকর্মীরা জানান, প্রেট্টি ছিলেন সহানুভূতিশীল ও মানবিক মানুষ। তাদের ভাষায়, এই মৃত্যু কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়।