০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন ব্ল্যাকপিঙ্কের ১০ বছর: উদযাপনের অপেক্ষায় ভক্তরা, কিন্তু বাড়ছে হতাশা

মিনিয়াপোলিসে গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত, ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে নির্বাচনী উত্তাপ চরমে

মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে এক মাসের মধ্যে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন অভিযান এখন সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ের কেন্দ্রে চলে এসেছে। একদিকে রিপাবলিকানরা প্রশাসনের কড়া অবস্থান রক্ষায় নামছে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এই ঘটনাকে ভোটের বছরে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে।

ফেডারেল অভিযানে প্রাণহানি
চলতি মাসে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন বিরোধী অভিযান ঘিরে সংঘর্ষের সময় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। শনিবার নিহত হন আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটি। এর আগে সাত জানুয়ারি রেনে গুড নামে আরেকজন নিহত হন। এই মৃত্যুগুলো শহরজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে দেয় এবং টানা বিক্ষোভ শুরু হয়।

Minneapolis shootings put Trump's immigration surge at center of election-year  fight - Americas - The Jakarta Post

ডেমোক্র্যাটদের অর্থায়ন আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা চাক শুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলে তার দল সেই অর্থায়নের বিপক্ষে ভোট দেবে। এই দপ্তরের অধীনেই রয়েছে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা। জানুয়ারির শেষ নাগাদ সরকার চালানোর অর্থ না পেলে আংশিক শাটডাউনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। শুমারের মতে, জননিরাপত্তার স্বার্থে এই সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

দলীয় ভাঙন ছাপিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটরাও এবার কণ্ঠ মিলিয়েছেন, যারা সাধারণত আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে সাবধানী থাকেন। নেভাদার সিনেটর ক্যাথরিন কোর্তেজ মাস্তো বলেন, এই অভিযান আমেরিকানদের নিরাপদ রাখার বদলে নাগরিক ও বৈধ অভিবাসীদের ওপর নিষ্ঠুরতা চালাচ্ছে।

Minneapolis shootings put Trump's immigration surge at center of election-year  fight | Reuters

ট্রাম্পের অনড় অবস্থান
সব সমালোচনার মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, মিনিয়াপোলিসের এই অভিযানই তার নির্বাচনী জয়ের অন্যতম ভিত্তি। তিনি দুই নাগরিকের মৃত্যুর জন্য বিরোধীদের দায়ী করে বলেন, এটি ডেমোক্র্যাটদের সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ফল।

অস্ত্রাধিকারের প্রশ্নে অস্বস্তি
আইনসম্মতভাবে অস্ত্র বহনকারী এক নাগরিকের গুলিতে নিহত হওয়া রিপাবলিকানদের জন্য বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করেছে। অস্ত্রাধিকারের পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো বলছে, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র বহন করা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। মিনেসোটা গান ওনার্স ককাস জানিয়েছে, এই অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

জনমত জরিপে বিভাজন
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাট ভোটাররা ট্রাম্পের অভিবাসন কৌশলের বিরোধী। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও একটি বড় অংশ মনে করে, গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম হলেও ক্ষতি কমানো উচিত। স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশও বলছে, অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাণহানি এড়ানোই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।

Minneapolis shootings put Trump's immigration surge at center of election-year  fight By Reuters

রিপাবলিকানদের মধ্যেই প্রশ্ন
মুখোশ পরা সশস্ত্র এজেন্টদের সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের সংঘর্ষের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে। লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি বলেছেন, প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। প্রতিনিধি পরিষদে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য চাওয়া হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের অতিরিক্ত চাপ
ডেমোক্র্যাটরা এই অভিযানকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের মতে, এটি শুধু অভিবাসন প্রশ্ন নয়, নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়ও। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেছেন, সহিংস অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাজ করা হবে, তবে অযথা আতঙ্ক ও সহিংসতা সৃষ্টি করলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, মিনিয়াপোলিস এখন জাতীয় রাজনীতির এক পরীক্ষাগার। সামনে নির্বাচনে অভিবাসন নীতি, আইন শৃঙ্খলা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এই শহরের ঘটনাই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন

মিনিয়াপোলিসে গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত, ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে নির্বাচনী উত্তাপ চরমে

০১:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে এক মাসের মধ্যে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন অভিযান এখন সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ের কেন্দ্রে চলে এসেছে। একদিকে রিপাবলিকানরা প্রশাসনের কড়া অবস্থান রক্ষায় নামছে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এই ঘটনাকে ভোটের বছরে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে।

ফেডারেল অভিযানে প্রাণহানি
চলতি মাসে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন বিরোধী অভিযান ঘিরে সংঘর্ষের সময় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। শনিবার নিহত হন আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটি। এর আগে সাত জানুয়ারি রেনে গুড নামে আরেকজন নিহত হন। এই মৃত্যুগুলো শহরজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে দেয় এবং টানা বিক্ষোভ শুরু হয়।

Minneapolis shootings put Trump's immigration surge at center of election-year  fight - Americas - The Jakarta Post

ডেমোক্র্যাটদের অর্থায়ন আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা চাক শুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলে তার দল সেই অর্থায়নের বিপক্ষে ভোট দেবে। এই দপ্তরের অধীনেই রয়েছে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা। জানুয়ারির শেষ নাগাদ সরকার চালানোর অর্থ না পেলে আংশিক শাটডাউনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। শুমারের মতে, জননিরাপত্তার স্বার্থে এই সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

দলীয় ভাঙন ছাপিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটরাও এবার কণ্ঠ মিলিয়েছেন, যারা সাধারণত আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে সাবধানী থাকেন। নেভাদার সিনেটর ক্যাথরিন কোর্তেজ মাস্তো বলেন, এই অভিযান আমেরিকানদের নিরাপদ রাখার বদলে নাগরিক ও বৈধ অভিবাসীদের ওপর নিষ্ঠুরতা চালাচ্ছে।

Minneapolis shootings put Trump's immigration surge at center of election-year  fight | Reuters

ট্রাম্পের অনড় অবস্থান
সব সমালোচনার মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, মিনিয়াপোলিসের এই অভিযানই তার নির্বাচনী জয়ের অন্যতম ভিত্তি। তিনি দুই নাগরিকের মৃত্যুর জন্য বিরোধীদের দায়ী করে বলেন, এটি ডেমোক্র্যাটদের সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ফল।

অস্ত্রাধিকারের প্রশ্নে অস্বস্তি
আইনসম্মতভাবে অস্ত্র বহনকারী এক নাগরিকের গুলিতে নিহত হওয়া রিপাবলিকানদের জন্য বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করেছে। অস্ত্রাধিকারের পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো বলছে, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র বহন করা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। মিনেসোটা গান ওনার্স ককাস জানিয়েছে, এই অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

জনমত জরিপে বিভাজন
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাট ভোটাররা ট্রাম্পের অভিবাসন কৌশলের বিরোধী। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও একটি বড় অংশ মনে করে, গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম হলেও ক্ষতি কমানো উচিত। স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশও বলছে, অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাণহানি এড়ানোই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।

Minneapolis shootings put Trump's immigration surge at center of election-year  fight By Reuters

রিপাবলিকানদের মধ্যেই প্রশ্ন
মুখোশ পরা সশস্ত্র এজেন্টদের সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের সংঘর্ষের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে। লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি বলেছেন, প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। প্রতিনিধি পরিষদে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য চাওয়া হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের অতিরিক্ত চাপ
ডেমোক্র্যাটরা এই অভিযানকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের মতে, এটি শুধু অভিবাসন প্রশ্ন নয়, নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়ও। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেছেন, সহিংস অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাজ করা হবে, তবে অযথা আতঙ্ক ও সহিংসতা সৃষ্টি করলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, মিনিয়াপোলিস এখন জাতীয় রাজনীতির এক পরীক্ষাগার। সামনে নির্বাচনে অভিবাসন নীতি, আইন শৃঙ্খলা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এই শহরের ঘটনাই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।