অস্ট্রিয়ার এক পাহাড়ি গ্রামে থাকা একটি গরু বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে প্রাণীর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। শুধু লাঠি দিয়ে শরীর চুলকানোই নয়, প্রয়োজন বুঝে একই হাতিয়ারের ভিন্ন ভিন্ন অংশ ব্যবহার করছে এই গরু। গবেষকদের মতে, এই আচরণ প্রমাণ করে গবাদিপশুর বুদ্ধিমত্তাকে এতদিন আমরা কম গুরুত্ব দিয়েছি।
অপ্রত্যাশিত আচরণে গবেষকদের আগ্রহ
অস্ট্রিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের নোৎস গ্রামে ১৩ বছর বয়সী ব্রাউন সুইস জাতের গরু ভেরোনিকা একটি লাঠি তুলে নিয়ে নিজেই শরীর চুলকাতে শুরু করে। তার মালিক জৈব কৃষক ও বেকার ভিটগার উইগেলে প্রায় এক দশক আগে প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে এই আচরণের ভিডিও গবেষকদের কাছে পৌঁছালে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।

গরুর আচরণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা
ভিয়েনার ভেটেরিনারি মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান বিজ্ঞানী ডক্টর অ্যালিস আওয়ার্সপের্গ ভিডিওটি দেখে নিশ্চিত হন, এটি কোনো দুর্ঘটনাজনিত আচরণ নয়। এরপর তিনি সহ গবেষক ডক্টর আন্তোনিও ওসুনা মাসকারোর সঙ্গে নোৎস গ্রামে গিয়ে ভেরোনিকাকে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত আচরণগত পরীক্ষা চালান। পরীক্ষার জন্য গরুটিকে লম্বা হাতলযুক্ত একটি ব্রাশ দেওয়া হয়।
কখন কোন অংশ, সেটাও জানা
গবেষণায় দেখা যায়, পিঠের মতো শক্ত ও বিস্তৃত অংশ চুলকাতে ভেরোনিকা ব্রাশের শক্ত ব্রিসলযুক্ত দিক ব্যবহার করে। আবার শরীরের নিচের নরম ও সংবেদনশীল অংশে পৌঁছাতে সে মসৃণ হাতলের দিকটি বেছে নেয়। পিঠে চুলকানোর সময় তার নড়াচড়া ছিল জোরালো ও বিস্তৃত, আর নিচের অংশে ছিল ধীর ও নিয়ন্ত্রিত। গবেষকদের মতে, এটি সত্যিকারের নমনীয় হাতিয়ার ব্যবহারের উদাহরণ।

গবাদিপশুর বুদ্ধি নিয়ে নতুন প্রশ্ন
ডক্টর ওসুনা মাসকারো জানান, ভেরোনিকা শুধু একটি বস্তু ব্যবহার করছে না, বরং একই হাতিয়ারের বিভিন্ন অংশ ভিন্ন কাজে লাগাচ্ছে। নিজের মুখ ব্যবহার করে এমন কাজ করা শারীরিকভাবে কঠিন হলেও সে আগেভাগেই ফলাফল বুঝে নড়াচড়া ও ধরা বদলাচ্ছে। এই ধরনের বহুমুখী হাতিয়ার ব্যবহার প্রাণীদের মধ্যে খুব কমই নথিভুক্ত হয়েছে, এর আগে মূলত শিম্পাঞ্জির ক্ষেত্রেই এমন নজির ছিল।
গবেষণার ফল ও বিশেষ তাৎপর্য
গবেষণাটি চলতি মাসের ১৯ তারিখে একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গরুর মধ্যে হাতিয়ার ব্যবহার ও বহুমুখী প্রয়োগ নিয়ে এটিই প্রথম প্রামাণ্য গবেষণা। গবেষকদের ধারণা, ভেরোনিকার দীর্ঘ জীবন, মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং খোলা ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশে বেড়ে ওঠা তার অনুসন্ধানী ও উদ্ভাবনী আচরণ গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

প্রচলিত ধারণার চ্যালেঞ্জ
গবেষণাপত্রে একটি পুরোনো ব্যঙ্গচিত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে গরুকে বোকা ও হাতিয়ার ব্যবহার করতে অক্ষম হিসেবে দেখানো হয়েছিল। গবেষকদের মতে, ভেরোনিকা দেখিয়ে দিয়েছে আসল অযৌক্তিকতা গরুর হাতিয়ার ব্যবহারের কল্পনায় নয়, বরং এমন কিছু কখনো সম্ভব নয় ধরে নেওয়ার মধ্যেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















