০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
শেহবাজ-ইরান ফোনালাপ: যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শেহবাজ-ইরান ফোনালাপ: যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ধ্বংসাবশেষে প্রাণহানি, উত্তেজনা নতুন মাত্রায় সিলেটে পুকুরে ডুবে শিশুমৃত্যু, বিষণ্নতায় ডুবল বিশ্বনাথ ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, তবে কিছু মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার ঘোষণা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র স্বাধীনতা দিবসে নওগাঁয় ১৭৫ শিল্পীর একমঞ্চে নজির, সাংস্কৃতিক উচ্ছ্বাসে মুখর শহর হবিগঞ্জে তাহেরীর মাহফিল ঘিরে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি বৈদ্যুতিক বাসে রূপান্তর, চাকরি হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন এপিএসআরটিসি কর্মীরা

প্রজাতন্ত্রে আদিবাসীদের প্রাপ্য কি সত্যিই নিশ্চিত হয়েছে?

রিপাবলিক ডের মঞ্চে আদিবাসী নৃত্য দেখে মুগ্ধ হওয়া সহজ। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। স্বাধীন ভারতের ভেতরে আদিবাসীরা কি সত্যিই ন্যায্য অংশ পেয়েছে?

আদিবাসীরা এই ভূখণ্ডের প্রাচীনতম মানুষদের মধ্যে অন্যতম। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তাদের জীবন সবচেয়ে বেশি বদলে দিয়েছে। অথচ গণতন্ত্র তাদের কাছে নতুন ছিল না। বহু আগেই তাদের সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল সমবায় ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে।

উপনিবেশিক অবহেলা, স্বাধীনতার পরও ছায়া

ব্রিটিশ শাসন ছিল প্রয়োজনকেন্দ্রিক। যেসব অঞ্চল উপনিবেশিক স্বার্থে জরুরি ছিল না, সেগুলো প্রায় উপেক্ষিতই থেকে যায়। বহু আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা প্রশাসনের বাইরে ছিল। ভোটাধিকার সীমিত থাকায় রাজনীতির মূল স্রোতেও তারা জায়গা পায়নি।

স্বাধীনতার পর ভূমি সংস্কার আসে। কিন্তু আদিবাসীদের সঙ্গে ভূমির সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা খুব কমই হয়েছে। জমি তাদের কাছে সম্পত্তি নয়, পরিচয়। সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করেই নীতিনির্ধারণ হয়েছে।

Promotion of Tribal Cultural Heritage and its importance to decolonisation  and nation building: How the Modi govt has taken strides in this direction

উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ

বড় বাঁধ, কারখানা ও শিল্প প্রকল্প গড়ে উঠেছে আদিবাসী এলাকাতেই। খনিজ আর বনসম্পদ সেখানে ছিল। কিন্তু উন্নয়নের লাভ আদিবাসীদের ঘরে পৌঁছায়নি।

হাজার হাজার মানুষ উচ্ছেদ হয়েছেন। পুনর্বাসন হয়নি অনেকেরই। বিদ্যুৎ, সেচ কিংবা কাজ—এসব সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত থেকেছেন। ফলে বন ছেড়ে শহর বা চা-বাগানে কাজ খোঁজার প্রবণতা বেড়েছে।

সংস্কৃতি কি শুধু প্রদর্শনী?

শিক্ষা ও ভাষার ক্ষেত্রেও অবহেলা স্পষ্ট। কোনো আদিবাসী ভাষাই সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়নি। মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা এখনও অধিকাংশের কাছে অধরা।

আদিবাসী সংস্কৃতি কেবল উৎসবের মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সেই সংস্কৃতিকে দেশের সামগ্রিক জীবনে জায়গা দিতে হবে। এই প্রশ্ন আজও ততটাই প্রাসঙ্গিক, যতটা ছিল বহু বছর আগে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেহবাজ-ইরান ফোনালাপ: যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা

প্রজাতন্ত্রে আদিবাসীদের প্রাপ্য কি সত্যিই নিশ্চিত হয়েছে?

০৬:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

রিপাবলিক ডের মঞ্চে আদিবাসী নৃত্য দেখে মুগ্ধ হওয়া সহজ। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। স্বাধীন ভারতের ভেতরে আদিবাসীরা কি সত্যিই ন্যায্য অংশ পেয়েছে?

আদিবাসীরা এই ভূখণ্ডের প্রাচীনতম মানুষদের মধ্যে অন্যতম। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তাদের জীবন সবচেয়ে বেশি বদলে দিয়েছে। অথচ গণতন্ত্র তাদের কাছে নতুন ছিল না। বহু আগেই তাদের সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল সমবায় ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে।

উপনিবেশিক অবহেলা, স্বাধীনতার পরও ছায়া

ব্রিটিশ শাসন ছিল প্রয়োজনকেন্দ্রিক। যেসব অঞ্চল উপনিবেশিক স্বার্থে জরুরি ছিল না, সেগুলো প্রায় উপেক্ষিতই থেকে যায়। বহু আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা প্রশাসনের বাইরে ছিল। ভোটাধিকার সীমিত থাকায় রাজনীতির মূল স্রোতেও তারা জায়গা পায়নি।

স্বাধীনতার পর ভূমি সংস্কার আসে। কিন্তু আদিবাসীদের সঙ্গে ভূমির সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা খুব কমই হয়েছে। জমি তাদের কাছে সম্পত্তি নয়, পরিচয়। সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করেই নীতিনির্ধারণ হয়েছে।

Promotion of Tribal Cultural Heritage and its importance to decolonisation  and nation building: How the Modi govt has taken strides in this direction

উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ

বড় বাঁধ, কারখানা ও শিল্প প্রকল্প গড়ে উঠেছে আদিবাসী এলাকাতেই। খনিজ আর বনসম্পদ সেখানে ছিল। কিন্তু উন্নয়নের লাভ আদিবাসীদের ঘরে পৌঁছায়নি।

হাজার হাজার মানুষ উচ্ছেদ হয়েছেন। পুনর্বাসন হয়নি অনেকেরই। বিদ্যুৎ, সেচ কিংবা কাজ—এসব সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত থেকেছেন। ফলে বন ছেড়ে শহর বা চা-বাগানে কাজ খোঁজার প্রবণতা বেড়েছে।

সংস্কৃতি কি শুধু প্রদর্শনী?

শিক্ষা ও ভাষার ক্ষেত্রেও অবহেলা স্পষ্ট। কোনো আদিবাসী ভাষাই সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়নি। মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা এখনও অধিকাংশের কাছে অধরা।

আদিবাসী সংস্কৃতি কেবল উৎসবের মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সেই সংস্কৃতিকে দেশের সামগ্রিক জীবনে জায়গা দিতে হবে। এই প্রশ্ন আজও ততটাই প্রাসঙ্গিক, যতটা ছিল বহু বছর আগে।