মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের এক কর্মকর্তার গুলিতে নিহত রেনি গুডের পরিবার এখন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে শুরুতেই তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বড় প্রশ্ন—ফেডারেল সরকারের দায়মুক্তির দেয়াল কি এই মামলায় ভাঙা সম্ভব হবে।
আইনি লড়াইয়ের কঠিন বাস্তবতা
রেনি গুডের পরিবারের আইনজীবী আন্তোনিও রোমানুচ্চি স্বীকার করছেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে অনেকেই সহজভাবে মামলা করার কথা বললেও বাস্তবে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা অত্যন্ত জটিল। সংবিধান, সরকারি দায়মুক্তি এবং আইনি ব্যতিক্রমের জটিল ব্যাখ্যার মধ্য দিয়েই যেতে হয় এমন মামলায়।

ঘটনার পটভূমি
সাত জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাঁইত্রিশ বছর বয়সী রেনি গুড। আইস কর্মকর্তা জনাথন রস গুলি চালান বলে অভিযোগ। সরকারি পক্ষের দাবি, গুড নাকি তাকে গাড়ি দিয়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে গুডের পক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ভিডিওতে দেখা যায় তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই মিনেসোটায় আরেক ব্যক্তি অ্যালেক্স প্রেট্টিও অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
সরকারি নীরবতা ও বিতর্ক
রেনি গুডের গুলিবর্ষণের বিষয়ে মার্কিন বিচার বিভাগ ও আইস কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে প্রেট্টির মৃত্যুর ঘটনায় স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ আত্মরক্ষার দাবি করলেও সংবাদমাধ্যমের পর্যালোচিত ভিডিও সেই সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি।
কেন মামলা করা এত কঠিন
সরকারি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে মামলা করা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কঠিন। বিকল্প হিসেবে পরিবার ফেডারেল টর্ট ক্লেইমস অ্যাক্ট আইনের আশ্রয় নিতে পারে, যেখানে দায়িত্ব পালনের সময় ফেডারেল কর্মচারীর কারণে কেউ নিহত বা আহত হলে সরকারকে দায়ী করা যায়। তবে এই আইনে ক্ষতিপূরণ সীমিত, শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ বা জুরি বিচারের সুযোগ নেই।
ডিসক্রিশনারি ব্যতিক্রমের দেয়াল
এই আইনের সবচেয়ে বড় বাধা হলো তথাকথিত ডিসক্রিশনারি ফাংশন এক্সসেপশন। সরকার যদি প্রমাণ করতে পারে যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নীতিগত বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাহলে আদালত সরকারকে দায়মুক্তি দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সরকার এই যুক্তি তুললে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মামলাই শুরুতেই খারিজ হয়ে যায়। রোমানুচ্চির ধারণা, সরকার রসের মারাত্মক শক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে এই ব্যতিক্রমের আওতায় ফেলতে চাইবে।

সংবিধান লঙ্ঘনের প্রশ্ন
তবে এখানেই মামলার মোড় ঘুরতে পারে। গুডের পরিবার যুক্তি দিতে পারে যে রস অযৌক্তিক তল্লাশি ও জব্দের বিরুদ্ধে সংবিধানের সুরক্ষা লঙ্ঘন করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, সংবিধান লঙ্ঘন করলে কি তখনও সরকারি দায়মুক্তি প্রযোজ্য থাকে।
বিচারব্যবস্থার বিভাজন
এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আপিল আদালতের অবস্থান এক নয়। অনেক আদালত আগেই বলেছেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা সংবিধান লঙ্ঘনের স্বাধীনতা রাখেন না। মিনেসোটা যে অঞ্চলের আওতায় পড়ে, সেই আদালতও অতীতে একই মত দিয়েছে। তবে কিছু আদালত আবার ভিন্নভাবে রায় দিয়েছে, যেখানে কর্মকর্তার আচরণ যত খারাপই হোক, সিদ্ধান্তটি নীতিগত হলে দায়মুক্তি বজায় থাকে। এই বিভক্ত অবস্থান গুডের মামলাকে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতে নিয়ে যেতে পারে।
আগের মামলায় নজির
এর আগে আইসের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নজির রয়েছে। নিউইয়র্কে এক ইকুয়েডরীয় নারীর মামলায় আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন, সংবিধান ভঙ্গ হলে সরকার দায়মুক্তি দাবি করতে পারে না। সেই মামলায় সরকার পরে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়। পেনসিলভানিয়ায় এক ভোরের অভিযানের ঘটনাতেও আইস ক্ষতিপূরণ দিয়ে মামলা মিটিয়েছে।
ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির প্রশ্ন
সরকারি নথি অনুযায়ী, এক বছরে আইস সংশ্লিষ্ট মামলায় কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে, যদিও বেশিরভাগ ছিল সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত। তবু রেনি গুডের পরিবারের মামলা যদি এগোয়, সেটি শুধু একজন কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত নয়, বরং ফেডারেল জবাবদিহির সীমা কোথায় শেষ হয়—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















