বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির অস্থিরতায় নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বিনিয়োগকারীদের ঢল নেমেছে স্বর্ণবাজারে। তারই জেরে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক আউন্স স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার একশো ডলারের ঘর ছুঁয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে, যা চলতি বছরে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার স্পষ্ট প্রতিফলন।
অনিশ্চয়তায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ
দিনের লেনদেনে স্পট স্বর্ণের দাম দুই শতাংশ বেড়ে এক আউন্সে পাঁচ হাজার একশো দশমিক পাঁচ ডলারে ওঠে। পরে কিছুটা কমে থাকলে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় আঠারো শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রা নীতিগত চাপ বিনিয়োগকারীদের আবারও স্বর্ণমুখী করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় ভূমিকা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় পরিসরে স্বর্ণ কিনছে। একই সঙ্গে বাস্তব স্বর্ণ ভিত্তিক তহবিলে বিনিয়োগ আবার বাড়তে শুরু করেছে, যা বাজারকে আরও শক্তিশালী করছে।
ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি বাড়াল চাপ
সাম্প্রতিক উত্তেজনার আরেকটি কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য। তিনি কানাডা যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন করে, তাহলে শতভাগ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা নতুন করে উসকে উঠেছে, যা স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বাড়িয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের নতুন ঢেউ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে প্রথমবারের মতো বিনিয়োগে আসা ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ স্বর্ণ ও রুপায় ঝুঁকছে। এই নতুন ঢেউ মূল্যবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
![]()
সুদের হার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপ
এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক ঘিরে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে। সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ব্যাংকের প্রধানকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাজারে আলাদা উত্তেজনা তৈরি করেছে। সুদের হার কমলে সুদহীন স্বর্ণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, যা দামের ঊর্ধ্বগতি বজায় রাখতে সহায়ক।
ছয় হাজারের পথে স্বর্ণ
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মনে করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম এক আউন্সে ছয় হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। কেউ কেউ এটিকে রক্ষণশীল পূর্বাভাস বলেও উল্লেখ করছেন, অর্থাৎ দাম আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

রুপা ও প্লাটিনামেও রেকর্ড
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও নতুন উচ্চতায় উঠেছে। এক আউন্স রুপার দাম একশো সতেরো ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম এর দামও বহু বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এত বেশি দামে শিল্পখাতে চাহিদা কিছুটা কমতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















