১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা খুলনার আইনজীবী, পরিচয়ে আরেক সফল আমচাষি: রেকর্ড ফলনের অপেক্ষায় শাহাদাত অস্ট্রেলিয়ার খামারে ইঁদুরের উপদ্রব, বিপাকে কৃষকরা ট্রাম্পের চাপেই কি ঘুরে দাঁড়াবে কিউবার অর্থনীতি? কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন ওয়াশিংটনের রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণে মৃত ১১, নিখোঁজ সবার মরদেহ উদ্ধার

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে সংকটে দেশের বস্ত্রশিল্প

রপ্তানিকারকদের সহায়তার উদ্দেশ্যে চালু করা বন্ড সুবিধা এখন দেশের বস্ত্রশিল্পের জন্য বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধার সুযোগ নিয়ে ভুয়া তথ্য দেখিয়ে অতিরিক্ত সুতা ও কাপড় আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি দেশীয় স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলো ধীরে ধীরে টিকে থাকার সক্ষমতা হারাচ্ছে।

বন্ড সুবিধার নামে অনিয়ম
উদ্যোক্তারা জানান, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে একটি চক্র নিয়মিতভাবে সুতা ও কাপড় বাজারে ছাড়ছে। কাগজে কম মানের বা কম পরিমাণ দেখিয়ে বাস্তবে বেশি ও উন্নত মানের সুতা আমদানি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন কারখানার নামেও কাঁচামাল আনা হচ্ছে, যা পরে খোলাবাজারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

খোলাবাজারে অবাধ বিক্রি
নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিনাশুল্কে আমদানিকৃত সুতা ও কাপড় কম দামে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় মিলগুলো টিকতে পারছে না। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ও কাপড় অনেক সময় অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে।

দেশীয় শিল্পের ওপর চাপ
এই অনিয়মের কারণে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত ইতোমধ্যে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে, কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি চলতে থাকলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধে সংকট তৈরি হবে।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে বস্ত্রশিল্প হুমকির মুখে

 

অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা
টেক্সটাইল ও পোশাক খাত দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এই খাত দুর্বল হয়ে পড়লে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

সমাধানে দ্রুত উদ্যোগের দাবি
উদ্যোক্তাদের মতে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশের প্রাইমারি বস্ত্রশিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে সংকটে দেশের বস্ত্রশিল্প

১১:১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

রপ্তানিকারকদের সহায়তার উদ্দেশ্যে চালু করা বন্ড সুবিধা এখন দেশের বস্ত্রশিল্পের জন্য বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধার সুযোগ নিয়ে ভুয়া তথ্য দেখিয়ে অতিরিক্ত সুতা ও কাপড় আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি দেশীয় স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলো ধীরে ধীরে টিকে থাকার সক্ষমতা হারাচ্ছে।

বন্ড সুবিধার নামে অনিয়ম
উদ্যোক্তারা জানান, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে একটি চক্র নিয়মিতভাবে সুতা ও কাপড় বাজারে ছাড়ছে। কাগজে কম মানের বা কম পরিমাণ দেখিয়ে বাস্তবে বেশি ও উন্নত মানের সুতা আমদানি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন কারখানার নামেও কাঁচামাল আনা হচ্ছে, যা পরে খোলাবাজারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

খোলাবাজারে অবাধ বিক্রি
নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিনাশুল্কে আমদানিকৃত সুতা ও কাপড় কম দামে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় মিলগুলো টিকতে পারছে না। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ও কাপড় অনেক সময় অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে।

দেশীয় শিল্পের ওপর চাপ
এই অনিয়মের কারণে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত ইতোমধ্যে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে, কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি চলতে থাকলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধে সংকট তৈরি হবে।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে বস্ত্রশিল্প হুমকির মুখে

 

অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা
টেক্সটাইল ও পোশাক খাত দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এই খাত দুর্বল হয়ে পড়লে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

সমাধানে দ্রুত উদ্যোগের দাবি
উদ্যোক্তাদের মতে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশের প্রাইমারি বস্ত্রশিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা সতর্ক করেছেন।