০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
সহজ ও আধ্যাত্মিক জীবনের পথে এক গ্রাম টোকিওর পথে পুরোনো প্রেম, না কি নতুন শুরু? সম্পর্কের জটিলতায় ভরপুর এক ভিন্নধর্মী প্রেমকাহিনি অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য: সাফল্যের সোপান নাকি বিপর্যয়ের সূচনা? পর্যটনেই ভর করে বদলে যাবে গ্রেট নিকোবর: বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন অর্থনীতির স্বপ্ন পাঞ্জাবে নতুন ধারার চার্চে ভিড়, বিশ্বাস নাকি বিতর্ক—ধর্মান্তর আইন ঘিরে বাড়ছে উত্তাপ লুকিয়ে থাকা থেকে আশার পথে: বস্তারে মাওবাদী প্রভাব কমার পেছনের বাস্তব চিত্র ব্রিটেনে সহায়ক মৃত্যুর আইন থমকে: জনসমর্থন থাকলেও সংসদে কেন আটকে গেল বিতর্কিত বিল চীনের ছোট শহরে বার্গারের দখল: নতুন বাজারে ঝুঁকি নিয়েও এগোচ্ছে বহুজাতিক ফাস্টফুড জায়ান্ট চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা ফ্রিজড মানি ছাড় নিয়ে বিভ্রান্তি, আলোচনার আগেই নতুন শর্ত তুলল ইরান

রেকর্ড অতিদরিদ্র্যে যুক্তরাজ্য, সবচেয়ে চাপে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটি

তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দারিদ্র্য সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় আটষট্টি লাখ মানুষ অতিদরিদ্র অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক দশমাংশে দাঁড়িয়েছে।

অতি দারিদ্র্যের সংজ্ঞা ও বাস্তব চিত্র

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পরিবার ঘরভাড়াসহ আবাসন খরচ মেটানোর পর মধ্যম আয়ের চল্লিশ শতাংশেরও কম আয় নিয়ে চলতে বাধ্য, তাদেরই ধরা হচ্ছে অতিদরিদ্র হিসেবে। দুটি সন্তানসহ একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এই আয় বছরে আনুমানিক মাত্র ষোল হাজার চারশ পাউন্ডের কাছাকাছি। বাস্তবে এই অঙ্ক দিয়ে বর্তমান বাজারদরে স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

ক্ষুধা ও দারিদ্রের শিকার হচ্ছে যুক্তরাজ্যের শিশুরা | চ্যানেল আই অনলাইন

শিশুদারিদ্র্যের ভয়াবহ বিস্তার

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যটি শিশুদারিদ্র্য নিয়ে। যুক্তরাজ্যে এখন প্রায় পঁয়তাল্লিশ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে। টানা তিন বছর ধরে এই সংখ্যা বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গভীর সংকেত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির চাপে সরকার কল্যাণ নীতিতে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

দুই শিশুর সীমা বাতিলের সিদ্ধান্ত

বর্তমান সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে কল্যাণসুবিধার ওপর আরোপিত দুই শিশুর সীমা তুলে নেওয়া হবে। আগে তৃতীয় সন্তানের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা না পাওয়ায় স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো আরও বিপাকে পড়েছিল। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় কয়েকশ কোটি পাউন্ড বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটিতে প্রভাব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কমিউনিটিগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। লন্ডন ও উত্তর ইংল্যান্ডের শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশই মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

৫৭% প্রতিবন্ধী উপহাসের শিকার, সবচেয়ে বেশি প্রতিবেশীর কাছে

প্রতিবন্ধী ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংকট

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এই অর্থনৈতিক দুর্দশার সবচেয়ে বড় শিকারদের মধ্যে রয়েছেন। আবাসন সংকট ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিদিনই আরও গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে যাচ্ছেন বলে মত সমাজকর্মীদের।

আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি নীতি পরিবর্তনেই এই সংকট কাটবে না। শিশুদারিদ্র্য ও অতিদরিদ্র্য নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি, পরিকল্পিত এবং কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরি। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আগামী বছরগুলোতে এই সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ ও আধ্যাত্মিক জীবনের পথে এক গ্রাম

রেকর্ড অতিদরিদ্র্যে যুক্তরাজ্য, সবচেয়ে চাপে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটি

০৮:০৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দারিদ্র্য সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় আটষট্টি লাখ মানুষ অতিদরিদ্র অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক দশমাংশে দাঁড়িয়েছে।

অতি দারিদ্র্যের সংজ্ঞা ও বাস্তব চিত্র

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পরিবার ঘরভাড়াসহ আবাসন খরচ মেটানোর পর মধ্যম আয়ের চল্লিশ শতাংশেরও কম আয় নিয়ে চলতে বাধ্য, তাদেরই ধরা হচ্ছে অতিদরিদ্র হিসেবে। দুটি সন্তানসহ একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এই আয় বছরে আনুমানিক মাত্র ষোল হাজার চারশ পাউন্ডের কাছাকাছি। বাস্তবে এই অঙ্ক দিয়ে বর্তমান বাজারদরে স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

ক্ষুধা ও দারিদ্রের শিকার হচ্ছে যুক্তরাজ্যের শিশুরা | চ্যানেল আই অনলাইন

শিশুদারিদ্র্যের ভয়াবহ বিস্তার

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যটি শিশুদারিদ্র্য নিয়ে। যুক্তরাজ্যে এখন প্রায় পঁয়তাল্লিশ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে। টানা তিন বছর ধরে এই সংখ্যা বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গভীর সংকেত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির চাপে সরকার কল্যাণ নীতিতে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

দুই শিশুর সীমা বাতিলের সিদ্ধান্ত

বর্তমান সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে কল্যাণসুবিধার ওপর আরোপিত দুই শিশুর সীমা তুলে নেওয়া হবে। আগে তৃতীয় সন্তানের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা না পাওয়ায় স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো আরও বিপাকে পড়েছিল। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় কয়েকশ কোটি পাউন্ড বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটিতে প্রভাব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কমিউনিটিগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। লন্ডন ও উত্তর ইংল্যান্ডের শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশই মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

৫৭% প্রতিবন্ধী উপহাসের শিকার, সবচেয়ে বেশি প্রতিবেশীর কাছে

প্রতিবন্ধী ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংকট

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এই অর্থনৈতিক দুর্দশার সবচেয়ে বড় শিকারদের মধ্যে রয়েছেন। আবাসন সংকট ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিদিনই আরও গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে যাচ্ছেন বলে মত সমাজকর্মীদের।

আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি নীতি পরিবর্তনেই এই সংকট কাটবে না। শিশুদারিদ্র্য ও অতিদরিদ্র্য নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি, পরিকল্পিত এবং কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরি। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আগামী বছরগুলোতে এই সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।