১০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
মিনেসোটায় হত্যাকাণ্ডের জেরে চাপ, অভিবাসন অভিযানে হোয়াইট হাউসের পিছু হটার ইঙ্গিত ক্ষমতার লাগাম টানছে বাস্তবতা ও জনরোষ, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের কঠোর দখলদারি কৌশলে ধাক্কা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, শিক্ষার্থী আহত নির্বাচিত হলে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে জামায়াত: আমির জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুরা থাকবে জামাই-আদরে: কৃষ্ণ নন্দী বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফ জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি, ময়মনসিংহে প্রশ্ন তারেক রহমানের রেকর্ড নিম্নস্তরের কাছে ভারতীয় রুপি, চাপ বাড়ার পেছনে সাত কারণ নির্বাচনের আগে রংপুরে সেনাপ্রধানের পরিদর্শন গুটি বসন্ত নির্মূলের নেপথ্য নায়ক উইলিয়াম ফোগে আর নেই

রেকর্ড অতিদরিদ্র্যে যুক্তরাজ্য, সবচেয়ে চাপে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটি

তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দারিদ্র্য সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় আটষট্টি লাখ মানুষ অতিদরিদ্র অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক দশমাংশে দাঁড়িয়েছে।

অতি দারিদ্র্যের সংজ্ঞা ও বাস্তব চিত্র

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পরিবার ঘরভাড়াসহ আবাসন খরচ মেটানোর পর মধ্যম আয়ের চল্লিশ শতাংশেরও কম আয় নিয়ে চলতে বাধ্য, তাদেরই ধরা হচ্ছে অতিদরিদ্র হিসেবে। দুটি সন্তানসহ একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এই আয় বছরে আনুমানিক মাত্র ষোল হাজার চারশ পাউন্ডের কাছাকাছি। বাস্তবে এই অঙ্ক দিয়ে বর্তমান বাজারদরে স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

ক্ষুধা ও দারিদ্রের শিকার হচ্ছে যুক্তরাজ্যের শিশুরা | চ্যানেল আই অনলাইন

শিশুদারিদ্র্যের ভয়াবহ বিস্তার

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যটি শিশুদারিদ্র্য নিয়ে। যুক্তরাজ্যে এখন প্রায় পঁয়তাল্লিশ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে। টানা তিন বছর ধরে এই সংখ্যা বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গভীর সংকেত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির চাপে সরকার কল্যাণ নীতিতে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

দুই শিশুর সীমা বাতিলের সিদ্ধান্ত

বর্তমান সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে কল্যাণসুবিধার ওপর আরোপিত দুই শিশুর সীমা তুলে নেওয়া হবে। আগে তৃতীয় সন্তানের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা না পাওয়ায় স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো আরও বিপাকে পড়েছিল। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় কয়েকশ কোটি পাউন্ড বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটিতে প্রভাব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কমিউনিটিগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। লন্ডন ও উত্তর ইংল্যান্ডের শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশই মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

৫৭% প্রতিবন্ধী উপহাসের শিকার, সবচেয়ে বেশি প্রতিবেশীর কাছে

প্রতিবন্ধী ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংকট

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এই অর্থনৈতিক দুর্দশার সবচেয়ে বড় শিকারদের মধ্যে রয়েছেন। আবাসন সংকট ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিদিনই আরও গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে যাচ্ছেন বলে মত সমাজকর্মীদের।

আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি নীতি পরিবর্তনেই এই সংকট কাটবে না। শিশুদারিদ্র্য ও অতিদরিদ্র্য নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি, পরিকল্পিত এবং কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরি। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আগামী বছরগুলোতে এই সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মিনেসোটায় হত্যাকাণ্ডের জেরে চাপ, অভিবাসন অভিযানে হোয়াইট হাউসের পিছু হটার ইঙ্গিত

রেকর্ড অতিদরিদ্র্যে যুক্তরাজ্য, সবচেয়ে চাপে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটি

০৮:০৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দারিদ্র্য সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় আটষট্টি লাখ মানুষ অতিদরিদ্র অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক দশমাংশে দাঁড়িয়েছে।

অতি দারিদ্র্যের সংজ্ঞা ও বাস্তব চিত্র

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পরিবার ঘরভাড়াসহ আবাসন খরচ মেটানোর পর মধ্যম আয়ের চল্লিশ শতাংশেরও কম আয় নিয়ে চলতে বাধ্য, তাদেরই ধরা হচ্ছে অতিদরিদ্র হিসেবে। দুটি সন্তানসহ একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এই আয় বছরে আনুমানিক মাত্র ষোল হাজার চারশ পাউন্ডের কাছাকাছি। বাস্তবে এই অঙ্ক দিয়ে বর্তমান বাজারদরে স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

ক্ষুধা ও দারিদ্রের শিকার হচ্ছে যুক্তরাজ্যের শিশুরা | চ্যানেল আই অনলাইন

শিশুদারিদ্র্যের ভয়াবহ বিস্তার

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যটি শিশুদারিদ্র্য নিয়ে। যুক্তরাজ্যে এখন প্রায় পঁয়তাল্লিশ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে। টানা তিন বছর ধরে এই সংখ্যা বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গভীর সংকেত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির চাপে সরকার কল্যাণ নীতিতে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

দুই শিশুর সীমা বাতিলের সিদ্ধান্ত

বর্তমান সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে কল্যাণসুবিধার ওপর আরোপিত দুই শিশুর সীমা তুলে নেওয়া হবে। আগে তৃতীয় সন্তানের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা না পাওয়ায় স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো আরও বিপাকে পড়েছিল। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় কয়েকশ কোটি পাউন্ড বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কমিউনিটিতে প্রভাব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কমিউনিটিগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। লন্ডন ও উত্তর ইংল্যান্ডের শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশই মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

৫৭% প্রতিবন্ধী উপহাসের শিকার, সবচেয়ে বেশি প্রতিবেশীর কাছে

প্রতিবন্ধী ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংকট

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এই অর্থনৈতিক দুর্দশার সবচেয়ে বড় শিকারদের মধ্যে রয়েছেন। আবাসন সংকট ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিদিনই আরও গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে যাচ্ছেন বলে মত সমাজকর্মীদের।

আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি নীতি পরিবর্তনেই এই সংকট কাটবে না। শিশুদারিদ্র্য ও অতিদরিদ্র্য নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি, পরিকল্পিত এবং কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরি। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আগামী বছরগুলোতে এই সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।