র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কার্যক্ষমতা বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে সরাসরি একশ তেষট্টি যান কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। টেন্ডার ছাড়াই এই ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
এই সিদ্ধান্তের আওতায় র্যাবের জন্য কেনা হবে তিনটি জিপ, একশটি টহল পিকআপ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ষাটটি মাইক্রোবাস। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত প্রকল্প ‘র্যাব বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি’ কর্মসূচির অধীনেই এই যানগুলো সংগ্রহ করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বাহিনীর দীর্ঘদিনের যান সংকট দূর করে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানেই থাকবে সরকারি অর্থ
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানান, সরকারি অর্থ রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের মধ্যেই রাখতে চায় সরকার। দেশের প্রথম গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন হওয়ায় সেখান থেকেই যান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অনুমোদন কোনো নির্বাচনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নয়। আজ কেবল নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পুরো ক্রয় প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে এবং যানগুলো ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে। অর্ডার পাওয়ার পর প্রগতি প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ জাপান থেকে আমদানি করবে।
জরুরি প্রয়োজন ও আইনি ভিত্তি
সভা সূত্র জানায়, দুই হাজার পঁচিশ–ছাব্বিশ অর্থবছরে এসব যান র্যাবের জন্য জরুরি প্রয়োজন। খোলা দরপত্র পদ্ধতিতে সময় বেশি লাগায় সরকারি ক্রয় আইনের বিশেষ ধারার আওতায় সরাসরি ক্রয়ের প্রস্তাব আনা হয়। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখা এবং বাহিনীর প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন পায় দুই হাজার আঠারোর সাত নভেম্বর। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে দুই হাজার আঠারোর ডিসেম্বর থেকে দুই হাজার ছাব্বিশের জানুয়ারি পর্যন্ত।
বৈঠকের অন্যান্য সিদ্ধান্ত
একই বৈঠকে ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে বহুমুখী পরিবহন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের তালিকা থেকে প্রত্যাহারের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন পায়। পর্যাপ্ত জমির অভাব ও দীর্ঘদিন অগ্রগতি না থাকায় প্রকল্পটি তালিকা থেকে সরানোর সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের আলু চাষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাবটি আরও যাচাইয়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভোলার গ্যাস তরলীকৃত আকারে নৌপথে পরিবহনের একটি প্রস্তাবও বৈঠক থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















