০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় লন্ডনের নদী বাঁচাতে ‘সুপার সিউয়ার’: শতবর্ষ পুরোনো সংকটের আধুনিক সমাধান এনবিআরের ‘হয়রানি’ অভিযোগে অটোখাতে সংকটের শঙ্কা, যুক্তিসঙ্গত শুল্ক কাঠামোর দাবি বারভিডার সাতক্ষীরার উন্নয়নে ১৬ দফা দাবি: ঢাকায় যুবকদের মানববন্ধনে জোরালো বার্তা ধানমন্ডিতে ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু ৬১% আমেরিকানের চোখে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে আইবিএমের ঝড়: ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কি বদলে দেবে সবকিছু? মস্তিষ্কের সংকেতেই চলবে প্রযুক্তি, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নতুন আশার নাম ‘সিঙ্ক্রন’ মেট গালার থিমে শরীরের ভাষা: পাঁচ নারী শিল্পীর দৃষ্টিতে নতুন শিল্পভাবনা ইউটিউবে নতুন সুবিধা: ফ্রি ব্যবহারকারীরাও এবার ভিডিও দেখবেন ছোট ভাসমান পর্দায়

ডাকসু বিতর্কে উত্তাল দেশ, কটূক্তির জেরে বহিষ্কার জামায়াত নেতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুকে নিয়ে এক বিতর্কিত মন্তব্য রাজনীতি ও সমাজে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। ‘মাদকের আড্ডা’ ও ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থান’ হিসেবে ডাকসুর অতীত তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়ায় বরগুনার এক জামায়াতে ইসলামি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় এক নির্বাচনী জনসভায়। সেখানে বক্তৃতার সময় জামায়াতে ইসলামির জেলা পর্যায়ের নেতা ও একজন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শামীম আহসান বলেন, ডাকসু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবির সেখানে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে, কারণ আগে ডাকসু মাদক ও অনৈতিকতার কেন্দ্র ছিল। তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

ডাকসু নিয়ে 'কুরুচিপূর্ণ' মন্তব্য, জামায়াত নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ

বক্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা একে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার প্রতি অবমাননাকর বলে আখ্যা দেন। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

এই প্রেক্ষাপটে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামি দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা আমির মহিবুল্লাহ হারুন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শামীম আহসানকে জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তার সদস্যপদ স্থগিত করে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এমন বেফাঁস ও কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে শুধু শিক্ষার্থী সমাজ নয়, দেশের মানুষের অনুভূতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দলের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে জামায়াত নেতার ক্ষমা প্রার্থনা

জামায়াতের শীর্ষ জেলা নেতৃত্বের ভাষ্য, সংগঠন হিসেবে তারা শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়। কোনো নেতার কথাবার্তা যদি সেই সীমা অতিক্রম করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অনিবার্য।

এই ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনীতি ও বক্তব্যের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা আবারও কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়

ডাকসু বিতর্কে উত্তাল দেশ, কটূক্তির জেরে বহিষ্কার জামায়াত নেতা

০৮:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুকে নিয়ে এক বিতর্কিত মন্তব্য রাজনীতি ও সমাজে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। ‘মাদকের আড্ডা’ ও ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থান’ হিসেবে ডাকসুর অতীত তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়ায় বরগুনার এক জামায়াতে ইসলামি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় এক নির্বাচনী জনসভায়। সেখানে বক্তৃতার সময় জামায়াতে ইসলামির জেলা পর্যায়ের নেতা ও একজন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শামীম আহসান বলেন, ডাকসু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবির সেখানে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে, কারণ আগে ডাকসু মাদক ও অনৈতিকতার কেন্দ্র ছিল। তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

ডাকসু নিয়ে 'কুরুচিপূর্ণ' মন্তব্য, জামায়াত নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ

বক্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা একে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার প্রতি অবমাননাকর বলে আখ্যা দেন। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

এই প্রেক্ষাপটে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামি দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা আমির মহিবুল্লাহ হারুন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শামীম আহসানকে জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তার সদস্যপদ স্থগিত করে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এমন বেফাঁস ও কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে শুধু শিক্ষার্থী সমাজ নয়, দেশের মানুষের অনুভূতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দলের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে জামায়াত নেতার ক্ষমা প্রার্থনা

জামায়াতের শীর্ষ জেলা নেতৃত্বের ভাষ্য, সংগঠন হিসেবে তারা শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়। কোনো নেতার কথাবার্তা যদি সেই সীমা অতিক্রম করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অনিবার্য।

এই ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনীতি ও বক্তব্যের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা আবারও কেন্দ্রে উঠে এসেছে।