জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের পরিবেশ নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘাতের খবর থাকলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন মাঠে একটি ইতিবাচক ও স্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ব্যালট গণনা শেষ হলে অধিকাংশ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই ঘোষণা করা সম্ভব হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড়জোর শেষ রাত বা পরদিন ফল প্রকাশ হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নির্বাচনী পরিবেশ ও রাজনৈতিক বক্তব্য
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন মানেই রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের এজেন্ডা, প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহার নিয়ে আলোচনা হবে। সভা-সমাবেশে বক্তৃতা-বিবৃতিতে একে অপরের ভালো-মন্দ দিক তুলে ধরা স্বাভাবিক। এসব বক্তব্যের মধ্য থেকেই জনগণ বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে, কাকে ভোট দেবে। তিনি এসব রাজনৈতিক বক্তব্যকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন বলে জানান।
আচরণবিধি বাস্তবায়নে অগ্রগতি
তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থী ও দলের অঙ্গীকারনামা এবং মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের কারণে আচরণবিধি বাস্তবায়ন প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করা গেছে। অতীতের অনেক নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনী পরিবেশ মাঠে-ঘাটে অনেক ভালো বলে নির্বাচন কমিশনের মূল্যায়ন। গণমাধ্যমে আসা খবর এবং সরাসরি মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই এই মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগ, মামলা ও জরিমানার চিত্র
নির্বাচন কমিশনার জানান, ৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২৮টি নির্বাচনী এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এই সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ১৪৪টি ঘটনায় জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মোট জরিমানার পরিমাণ ৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি ৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি আসনে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি সক্রিয় রয়েছে। জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জজ পর্যায়ের বিচারকরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ করে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে এবং গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি করে মামলা রুজু হচ্ছে। কোথাও জরিমানা, কোথাও সাজা—সব মিলিয়ে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম জোরালোভাবে চলছে।

পরামর্শ, নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং তাদের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে উঠে আসা বিষয়গুলো দ্রুত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নজরে আনা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















