০১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: মঙ্গলবার হবে ইরানে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুবন্ধন দিবস’, হরমুজ প্রণালী খোলা না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নষ্টের হুমকি জ্বালানি সংকটে বন্ধ শত শত ট্রলার ও লাইটার জাহাজ, সাগরে মাছ ধরা বন্ধ স্ট্যাফোর্ডে উন্মোচিত অনন্য ‘মিহরাব’: ঐতিহ্য, শিল্প ও কমিউনিটির মিলনে গড়া এক স্থায়ী পরিচয় আগুনের উপর খালি পায়ে হাঁটা! মানবতার জন্য সাহসী উদ্যোগে মুগ্ধ জনতা ওল্ড বেইলিতে বিস্ফোরক মামলায় তরুণের অস্বীকার: কলেজে বোমা হামলার হুমকি ঘিরে তীব্র উদ্বেগ ইরান হামলার পর বদলে গেল যুদ্ধের হিসাব: তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাতের নতুন সমীকরণ নেব্রাস্কার ভোটের ময়দানে উদীয়মান স্বাধীন নেতা: শ্রমিকদের কণ্ঠস্বরের প্রতীক ড্যান ওসবর্ন ইলিনয়সের প্রগতি যোদ্ধারা: ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে নতুন যুগের সূচনা ইরানে বিপ্লব থেকে বংশপরিচয়ে শাসন: মোজতবা খামেনির ক্ষমতা অর্জন কি বিপর্যয়ের সূচনা? সোনার স্বর্ণযুগ ধুঁকছে: যুদ্ধের ছায়ায় হারাচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের খ্যাতি

দেশেই ড্রোন উৎপাদন: চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমান বাহিনীর চুক্তি

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোন উৎপাদনের জন্য একটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা
মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে ড্রোন উৎপাদন, সংযোজন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

দেশেই তৈরি হবে ড্রোন, চীনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি

দেশে আধুনিক ড্রোন কারখানা স্থাপন
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে একটি আধুনিক ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই কেন্দ্র যৌথভাবে পরিচালিত হবে এবং এতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিল্প দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কোন ধরনের ড্রোন তৈরি হবে
প্রাথমিক পর্যায়ে বিমান বাহিনী মাঝারি উচ্চতায় উড্ডয়ন সক্ষম এবং কম সময় আকাশে অবস্থান করতে পারে এমন ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের দক্ষতা অর্জন করবে। পাশাপাশি রানওয়ে ছাড়াই সরাসরি উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম ড্রোন উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিমান বাহিনী নিজস্ব নকশায় ড্রোন তৈরি করবে।

সামরিক ও বেসামরিক কাজে ব্যবহার
এই ড্রোনগুলো শুধু সামরিক কার্যক্রমেই নয়, মানবিক সহায়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে দেশের নিরাপত্তা ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সামরিক ড্রোন উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চীনের সঙ্গে চুক্তি

স্বনির্ভরতার পথে অগ্রগতি
এই চুক্তির ফলে দেশীয় পর্যায়ে ড্রোন উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও সুগম হবে। জাতীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ড্রোন সরবরাহের সক্ষমতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষ প্রযুক্তি কর্মী তৈরির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এই উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী। এছাড়া বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: মঙ্গলবার হবে ইরানে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুবন্ধন দিবস’, হরমুজ প্রণালী খোলা না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নষ্টের হুমকি

দেশেই ড্রোন উৎপাদন: চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমান বাহিনীর চুক্তি

১২:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোন উৎপাদনের জন্য একটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা
মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে ড্রোন উৎপাদন, সংযোজন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

দেশেই তৈরি হবে ড্রোন, চীনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি

দেশে আধুনিক ড্রোন কারখানা স্থাপন
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে একটি আধুনিক ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই কেন্দ্র যৌথভাবে পরিচালিত হবে এবং এতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিল্প দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কোন ধরনের ড্রোন তৈরি হবে
প্রাথমিক পর্যায়ে বিমান বাহিনী মাঝারি উচ্চতায় উড্ডয়ন সক্ষম এবং কম সময় আকাশে অবস্থান করতে পারে এমন ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের দক্ষতা অর্জন করবে। পাশাপাশি রানওয়ে ছাড়াই সরাসরি উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম ড্রোন উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিমান বাহিনী নিজস্ব নকশায় ড্রোন তৈরি করবে।

সামরিক ও বেসামরিক কাজে ব্যবহার
এই ড্রোনগুলো শুধু সামরিক কার্যক্রমেই নয়, মানবিক সহায়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে দেশের নিরাপত্তা ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সামরিক ড্রোন উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ, চীনের সঙ্গে চুক্তি

স্বনির্ভরতার পথে অগ্রগতি
এই চুক্তির ফলে দেশীয় পর্যায়ে ড্রোন উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও সুগম হবে। জাতীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ড্রোন সরবরাহের সক্ষমতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষ প্রযুক্তি কর্মী তৈরির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এই উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী। এছাড়া বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।