চীনের একটি নতুন অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারতের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এখনো এই ভাইরাসের কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায় গবেষকদের এই দাবি নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
নিপাহ ভাইরাসের ভয়াবহতা
নিপাহ ভাইরাস অত্যন্ত প্রাণঘাতী। সংক্রমণের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিপাহের নতুন প্রাদুর্ভাবে অন্তত পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

চীনা গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার
ওয়াহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষকেরা জানিয়েছেন, ভিভি১১৬ নামে একটি মুখে খাওয়ার অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে। এই ওষুধটি মূলত কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত প্রাণঘাতী মাত্রার নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হ্যামস্টারদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ এই ওষুধ ব্যবহারে বেঁচে গেছে।
গবেষকদের মতে, এটি প্রথমবারের মতো প্রমাণ দিল যে ভিভি১১৬ নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসায় বাস্তব সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে।
পরীক্ষার ফল ও কার্যকারিতা
গবেষণায় ব্যবহৃত সোনালি হ্যামস্টারদের ক্ষেত্রে ভিভি১১৬ প্রয়োগের পর বেঁচে থাকার হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সঙ্গে এই ওষুধ ফুসফুস, প্লীহা ও মস্তিষ্কে ভাইরাসের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। এসব অঙ্গই নিপাহ সংক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পরিচিত।

ভবিষ্যৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা
গবেষকেরা বলছেন, ভিভি১১৬ শুধু সংক্রমণ প্রতিরোধে নয়, উচ্চঝুঁকিতে থাকা গোষ্ঠীর জন্যও কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মী ও পরীক্ষাগারকর্মীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য এটি প্রতিরোধমূলক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিপাহ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এটি সহজলভ্য চিকিৎসা বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















