রিয়াদের উচ্চাভিলাষী নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা। সৌদি আরব রাজধানীর নিউ মুরাব্বা এলাকায় নির্মাণাধীন বিশাল ঘনকাকৃতির মুকাব মেগাপ্রকল্পের কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির অর্থায়ন ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নতুন করে পর্যালোচনা করছে দেশটির নীতিনির্ধারক মহল। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ভিশন দুই হাজার ত্রিশে পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত
মুকাব ছিল সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন দুই হাজার ত্রিশ কর্মসূচির অন্যতম প্রতীকী প্রকল্প। রিয়াদের নিউ মুরাব্বা উন্নয়ন এলাকার কেন্দ্রে পরিকল্পিত এই প্রকল্পকে ঘিরে ছিল ব্যাপক আন্তর্জাতিক আগ্রহ। তবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের অংশ হিসেবে সৌদি আরবের সার্বভৌম তহবিল এখন বড় বড় ভবিষ্যতনির্ভর প্রকল্প থেকে কিছুটা সরে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মুকাবের কাজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে।

বিশাল পরিকল্পনা, কঠিন বাস্তবতা
মুকাবের নকশা ছিল চোখ ধাঁধানো। চারশ মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের ধাতব ঘনকের ভেতরে থাকত একটি বিশাল গম্বুজ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রদর্শনী ব্যবস্থা। ভেতরে নির্মাণের কথা ছিল তিনশ মিটারের বেশি উচ্চতার ধাপে ধাপে উঠতে থাকা কাঠামো। প্রকল্পটির ধারণা তুলে ধরে আগে বলা হয়েছিল, মুকাবে প্রবেশ মানে যেন আরেক জগতে পা রাখা। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু তৈরি করতে গিয়ে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে।
নির্মাণ থামলেও আশপাশের উন্নয়ন চলবে
সূত্রগুলোর মতে, মুকাব প্রকল্পে মাটি খনন ও পাইলিংয়ের পরবর্তী সব কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে নিউ মুরাব্বা এলাকার আশপাশের আবাসিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন কাজ চলমান থাকবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুরো প্রকল্প বাতিল নয়, বরং কেন্দ্রীয় কাঠামোটি নিয়ে নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত মিলছে।
তেলের দামে চাপ, অগ্রাধিকার বদল

সৌদি অর্থনীতিতে তেলের দাম প্রত্যাশিত পর্যায়ে না থাকায় ভিশন দুই হাজার ত্রিশ বাস্তবায়নে আর্থিক চাপ বাড়ছে। ফলে সরকার ও সার্বভৌম তহবিল এখন অবকাঠামো, বিশ্ব মেলা দুই হাজার ত্রিশ, ফুটবল বিশ্বকাপ দুই হাজার চৌত্রিশ, দিরিয়াহ সংস্কৃতি অঞ্চল ও কিদ্দিয়া পর্যটন প্রকল্পের মতো তুলনামূলকভাবে দ্রুত লাভজনক উদ্যোগে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও খনিজ খাতেও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যয় ও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন
সম্পত্তি পরামর্শক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, পুরো নিউ মুরাব্বা উন্নয়ন এলাকার ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার। শুরুতে দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও এখন তা দুই হাজার চল্লিশ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান ও জাতীয় উৎপাদনে বড় অবদান রাখার কথা ছিল।

বিতর্কেও ছিল মুকাব
মুকাবের নকশা প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনাও দেখা যায়। অনেকেই এর আকৃতিকে মক্কার পবিত্র কাবার সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানান। এসব বিতর্কও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাকে আরও জটিল করে তোলে।
ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি মুকাব প্রকল্প নিয়ে মন্তব্য না এলেও সাম্প্রতিক বক্তব্যে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পের সময়সূচি ও পরিধি বদলানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে রিয়াদের আকাশরেখা বদলে দেওয়ার কথা যে মুকাবের, তার ভবিষ্যৎ এখনো স্পষ্ট নয়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















