০৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
ইরানে নীরবতার মূল্য কত প্রাণ ইমিগ্রেশন অভিযানে আস্থা সংকট: মিনিয়াপলিসের রক্তপাত ঘিরে ভেতর থেকেই প্রশ্ন ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল আমেরিকার বিভক্ত বাস্তবতা, মিনিয়াপলিসের রক্তাক্ত সপ্তাহান্ত চীনে শীর্ষ সেনা নেতার পতন: শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ ‘প্রিন্সলিং’-এর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান হোয়াটসঅ্যাপের নতুন কড়া নিরাপত্তা মোড, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ দিল্লিতে বৃষ্টিতে তাপমাত্রা হুড়মুড় করে কমল, কিন্তু বাতাসের দম বন্ধই রইল চীনা পর্যটক কমলেও স্বস্তিতে জাপান, ব্যবসায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা কম উদীয়মান চীন কীভাবে বৈশ্বিক জনসেবার সরবরাহকারী হয়ে উঠছে মুকাব প্রকল্পে হঠাৎ ব্রেক, ব্যয় ও বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবছে সৌদি আরব কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ট্রাম্পের ধাক্কাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই

শিল্পে মন্দা, ব্যাংকে চাপ: অর্থনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগে এ কে আজাদ

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। শিল্প খাতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার প্রভাবে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন এ কে আজাদ।

শিল্প খাতে কর্মসংস্থান সংকট
এ কে আজাদ বলেন, প্রতি বছর দেশে গড়ে অন্তত ৩০ লাখ নতুন মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়ায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে দেশে বেকারত্বের হার দ্রুত বাড়ছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

শিল্পায়নের নিম্নমুখী প্রভাব চাকরি হারিয়েছে ১৪ লাখ মানুষ: এ কে আজাদ -  shikortvcanada.com

জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নিম্নগতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বুলেটিনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, গত অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরে সেই প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তার মতে, প্রবৃদ্ধির এই পতন দেশের অর্থনীতির ভেতরে জমে থাকা চাপ ও দুর্বলতারই প্রতিফলন।

ব্যাংকিং খাতে বাড়ছে ঝুঁকি
শুধু সামষ্টিক অর্থনীতি নয়, ব্যাংকিং খাতের অবস্থাও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন এ কে আজাদ। তার ভাষায়, বর্তমানে দেশে খেলাপি বা শ্রেণীকৃত ঋণের হার প্রায় ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই হার আরও বেশি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

শিল্পায়নের নিম্নমুখী প্রভাব চাকরি হারিয়েছে ১৪ লাখ মানুষ: এ কে আজাদ -  shikortvcanada.com

সুদের হার ও ঋণপ্রবাহে সংকট
বেসরকারি খাতের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ওপর। শিল্প উদ্যোক্তারা এখন মাত্র ৬ শতাংশ হারে ঋণ পাচ্ছেন, যা শিল্প খাতের টিকে থাকা ও সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে জানান তিনি।

শিল্পায়নের গতি থমকে গেছে
এ কে আজাদের মতে, দেশে শিল্পায়নের গতি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ব্যবসা ও বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রয়োজনেও এখন আর নতুন শিল্প গড়ে উঠছে না। এর একটি বড় প্রমাণ হলো ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির ধারাবাহিক পতন।

তিনি জানান, গত বছর দেশে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছিল এবং চলতি বছর তা আগের বছরের তুলনায় আরও ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই প্রবণতা শিল্প খাতের দুরবস্থার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে নীরবতার মূল্য কত প্রাণ

শিল্পে মন্দা, ব্যাংকে চাপ: অর্থনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগে এ কে আজাদ

০২:৪১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। শিল্প খাতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার প্রভাবে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন এ কে আজাদ।

শিল্প খাতে কর্মসংস্থান সংকট
এ কে আজাদ বলেন, প্রতি বছর দেশে গড়ে অন্তত ৩০ লাখ নতুন মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়ায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে দেশে বেকারত্বের হার দ্রুত বাড়ছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

শিল্পায়নের নিম্নমুখী প্রভাব চাকরি হারিয়েছে ১৪ লাখ মানুষ: এ কে আজাদ -  shikortvcanada.com

জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নিম্নগতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বুলেটিনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, গত অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরে সেই প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তার মতে, প্রবৃদ্ধির এই পতন দেশের অর্থনীতির ভেতরে জমে থাকা চাপ ও দুর্বলতারই প্রতিফলন।

ব্যাংকিং খাতে বাড়ছে ঝুঁকি
শুধু সামষ্টিক অর্থনীতি নয়, ব্যাংকিং খাতের অবস্থাও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন এ কে আজাদ। তার ভাষায়, বর্তমানে দেশে খেলাপি বা শ্রেণীকৃত ঋণের হার প্রায় ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই হার আরও বেশি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

শিল্পায়নের নিম্নমুখী প্রভাব চাকরি হারিয়েছে ১৪ লাখ মানুষ: এ কে আজাদ -  shikortvcanada.com

সুদের হার ও ঋণপ্রবাহে সংকট
বেসরকারি খাতের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ওপর। শিল্প উদ্যোক্তারা এখন মাত্র ৬ শতাংশ হারে ঋণ পাচ্ছেন, যা শিল্প খাতের টিকে থাকা ও সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে জানান তিনি।

শিল্পায়নের গতি থমকে গেছে
এ কে আজাদের মতে, দেশে শিল্পায়নের গতি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ব্যবসা ও বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রয়োজনেও এখন আর নতুন শিল্প গড়ে উঠছে না। এর একটি বড় প্রমাণ হলো ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির ধারাবাহিক পতন।

তিনি জানান, গত বছর দেশে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছিল এবং চলতি বছর তা আগের বছরের তুলনায় আরও ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই প্রবণতা শিল্প খাতের দুরবস্থার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।