পেনাংয়ে অবৈধভাবে উৎপাদিত ও বিক্রি হওয়া প্রথাগত ওষুধের একটি বড় সিন্ডিকেটের কার্যক্রম ভেঙে দিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। নিবন্ধনবিহীন ওষুধ ও উৎপাদন সরঞ্জামসহ প্রায় ২৪ মিলিয়ন রিঙ্গিত মূল্যের সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। একযোগে চালানো অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন পাঁচজন, যাদের মধ্যে একজনকে এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গোপন তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান
পেনাং স্বাস্থ্য দপ্তরের ফার্মাসিউটিক্যাল এনফোর্সমেন্ট শাখা দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায়। জেলার ১৩টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়, যার মধ্যে তিনটি ছিল কারখানা। এসব স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ও জব্দের বিস্তারিত
অভিযানে ৩৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী পাঁচজন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন মালয়েশীয় নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশি, যারা কারখানার কর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছে। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৮৮ হাজার প্রস্তুত ওষুধ, ২৩ হাজারের বেশি আধা-প্রস্তুত পণ্য, পাঁচ শতাধিক কাঁচামালের প্যাকেট, ৩৬টি যন্ত্র এবং দুটি ডিজিটাল ডিভাইস।
ক্ষতিকর উপাদানের সন্দেহ
পেনাং স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক দাতুক ডা. ফাজিলাহ শেখ আলাউদ্দিন জানান, জব্দ করা অধিকাংশ ওষুধ ছিল নিবন্ধনবিহীন চীনা প্রথাগত চিকিৎসা পণ্য। এসব পণ্যে স্টেরয়েড, পেনিসিলিন ও অ্যালোপিউরিনলের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকার জোরালো সন্দেহ রয়েছে। এই ধরনের উপাদান জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন
এই চক্রের কার্যক্রম ওষুধ বিক্রয় আইন এবং বিষ আইন লঙ্ঘন করেছে বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জাওয়াওয়ি আবদুল্লাহ বলেন, সিন্ডিকেটটি পরস্পর সংযুক্ত একাধিক স্থানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল।
একাধিক স্থানে ভাগ করা উৎপাদন প্রক্রিয়া
তদন্তে দেখা গেছে, কাঁচামাল সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ, লেবেলিং, গুদামজাত ও বিপণন—এই প্রতিটি ধাপ আলাদা আলাদা স্থানে করা হতো। এভাবে কাজ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর চেষ্টা করছিল।
দেশীয় বাজার ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটটি ২০২০ সাল থেকে সক্রিয় ছিল। তারা স্থানীয় প্রথাগত ওষুধের দোকান ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করত। কিছু পণ্য ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হয়েছে বলেও তথ্য মিলেছে। ব্যথানাশক ও গেঁটেবাতের মতো রোগের চিকিৎসার নামে এসব ওষুধ প্রতি বাক্স প্রায় ২০ রিঙ্গিত দামে বিক্রি করা হতো।
শাস্তির বিধান
এই ঘটনায় নিয়ন্ত্রণাধীন ওষুধ ও প্রসাধনী বিধিমালার একটি ধারায় মামলা করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা, তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে জরিমানার অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















