চীনের একদল গবেষকের দাবি, চীনা একটি উপগ্রহের সঙ্গে স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সাম্প্রতিক ‘নিয়ার-মিস’ ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানটি তাদের চার হাজারের বেশি স্যাটেলাইটকে নিচু কক্ষপথে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সংঘর্ষ না হলেও ঘটনাটি মহাকাশ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ।
নিয়ার-মিসের বিবরণ
স্পেসএক্সের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইকেল নিকলস গত মাসে সামাজিক মাধ্যমে জানান, ১০ ডিসেম্বর চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে একটি উৎক্ষেপণের পরপরই চীনা একটি উপগ্রহ ও স্টারলিংকের একটি স্যাটেলাইট একে অপরের মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করে। এই অল্প ব্যবধানের ঘটনাই পরবর্তী সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তৈরি করে বলে গবেষকদের দাবি।

স্টারলিংকের কক্ষপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
এই ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর আরেকটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে নিকলস জানান, মহাকাশ নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্পেসএক্স তাদের কার্যকর ৯ হাজারের বেশি ইন্টারনেট স্যাটেলাইটের প্রায় অর্ধেককে পৃথিবী থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথ থেকে নামিয়ে ৪৮০ কিলোমিটারে আনতে চায়। গবেষকদের মতে, এটি ছিল বড় পরিসরের একটি কৌশলগত পরিবর্তন।
চীনা গবেষকদের বিশ্লেষণ
চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের সফটওয়্যার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বলেন, সংঘর্ষ না ঘটলেও এই কাছাকাছি আসার ঘটনা ছিল ‘উদ্বেগজনক’ এবং সরাসরি স্টারলিংকের বৃহৎ পরিসরে কক্ষপথ নামানোর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা মহাকাশে ঘন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক পরিচালনার ঝুঁকি স্পষ্ট করে।
চীনা উপগ্রহের পরিচয়
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চীনা মহাকাশযানটি ছিল একটি উচ্চ রেজল্যুশনের পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ। এটি ওই দিন কাইনেটিকা-১ রকেটে করে আরও আটটি পে-লোডের সঙ্গে উৎক্ষেপণ করা হয়।
কে তৈরি করেছে উপগ্রহটি
সোমবার স্পেস অ্যান্ড নেটওয়ার্ক নামের একটি বিশ্লেষণধর্মী মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষক দল জানায়, ইনস্টিটিউটের মেগা-কনস্টেলেশন গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা ওই কক্ষপথে থাকা যন্ত্রটি শনাক্ত করেছে। উপগ্রহটি তৈরি করেছে চ্যাং গুয়াং স্যাটেলাইট টেকনোলজি।
প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
এই ঘটনা মহাকাশে স্যাটেলাইটের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার ফলে নিরাপত্তা ও সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে কক্ষপথ ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















