দক্ষিণ ফিলিপাইনের সমুদ্রে আবারও নেমে এল শোকের ছায়া। যাত্রী ও পণ্যবাহী একটি তিনতলা ফেরি ডুবে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১০ জন। দেশটির কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান রাতভর চললেও যাত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
গভীর রাতে বিপৎসংকেত, চার ঘণ্টার মাথায় বিপর্যয়
এমভি ত্রিশা কেরস্টিন থ্রি নামের ফেরিটি সোমবার রাত দেড়টার কিছু আগে বিপৎসংকেত পাঠায়। তার চার ঘণ্টা আগেই এটি মিন্দানাও দ্বীপের জাম্বোয়াঙ্গা শহরের বন্দর থেকে ছেড়েছিল। কোস্ট গার্ডের হিসাবে, ফেরিটিতে মোট ৩৪৪ জন থাকার কথা ছিল। শুরুতে সংখ্যা বেশি ধরা হলেও পরে জানা যায়, তালিকাভুক্ত কয়েকজন যাত্রী ফেরিতে ওঠেননি।
বেঁচে ফেরা মানুষের চোখে ভয়াবহ মুহূর্ত

বাসিলান প্রদেশের গভর্নরের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, খালি পায়ে বেঁচে ফেরা মানুষদের কম্বলে জড়িয়ে স্ট্রেচারে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহগুলো কালো ব্যাগে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফেরিটি বালুক-বালুক দ্বীপের পূর্বে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ডুবে যায়। এটি সেই পথের কাছাকাছি, যেখানে ২০২৩ সালে আরেকটি ফেরিতে আগুন লাগার ঘটনায় ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
পরিবারের ফোনে ভারী হৃদয় উদ্ধারকারীদের
ইসাবেলা শহরের উদ্ধারকর্মী শেরিল বালন্দো জানান, নিখোঁজদের স্বজনদের ফোনে তাদের অফিস ভরে গেছে। প্রতিটি ফোন ধরতে গিয়ে বুকের ভেতর কষ্ট অনুভব করছেন তারা। তার ভাষায়, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চলায় এখনো কারও নামের চূড়ান্ত তালিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আবহাওয়া নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

কোস্ট গার্ডের এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় সাগর উত্তাল ছিল। তবে কয়েকজন বেঁচে ফেরা যাত্রী এই বক্তব্য মানতে নারাজ। আইনজীবী জুন গুরো বলেন, তখন ঝড় বা খারাপ আবহাওয়া ছিল না, তবু কীভাবে ফেরিটি ডুবল, তা তদন্ত করা জরুরি।
শেষ বার্তা হয়ে রইল আর্তনাদ
ডুবে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সামুদ্রিক একাডেমি থেকে সদ্য পাস করা কাইল পানসালাং তার ভাইকে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে লেখা ছিল, নৌকাটি কাত হয়ে যাচ্ছে, দয়া করে সাহায্য করো। সেই বার্তাই পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পুরোনো সমস্যা, বারবার প্রাণহানি
বাসিলান প্রদেশের জরুরি সেবাকর্মীরা জানান, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আহত ও বেঁচে ফেরা মানুষ সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাত হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে আন্তঃদ্বীপ যাতায়াতে অনেক মানুষ এখনো সস্তা ও দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত নৌযানে নির্ভর করেন। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনায় বারবার ঝরে যাচ্ছে প্রাণ।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















