লন্ডন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই চীনের দিকে আরও সক্রিয় হতে চাইছে ব্রিটেন। দীর্ঘদিন ধরে ওঠানামায় ভরা এই সম্পর্ককে স্থিতিশীল ও ধারাবাহিক করতে চায় যুক্তরাজ্য। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বহুল আলোচিত চীন সফরের আগে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বেইজিংয়ে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার উইলসন।
স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ার কৌশল
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিটার উইলসন জানান, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্রিটেন দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে। লন্ডনের লক্ষ্য এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তোলা, যা হবে ধারাবাহিক, স্থিতিশীল এবং পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে।
তিনি বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে এমন বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতে চায় ব্রিটেন, যার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন স্তরে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তাঁর ভাষায়, প্রথমে সম্পর্ককে স্থিতিশীল করা, প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তোলা এবং এরপর বাস্তব ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই এখন লক্ষ্য। এটি একটি বাস্তবমুখী ও ভবিষ্যতপন্থী কৌশল।

স্টারমারের চার দিনের চীন সফর
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে, বুধবার থেকে চার দিনের সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এটি হবে গত আট বছরের মধ্যে কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর, যা কূটনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব
রাষ্ট্রদূত উইলসন জানান, স্টারমারের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল থাকবে। এতে বাণিজ্য ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা থাকবেন। পাশাপাশি প্রায় ৫০টি ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সফরে অংশ নেবেন।
এই সফরের মাধ্যমে ব্রিটেন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার সুযোগ খুঁজছে। দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক একটি স্থায়ী সম্পর্ক গড়াই এখন লন্ডনের মূল লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















