নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, প্রায় এক লাখ ষাট হাজার বছর আগেই চীনে পাথরযুগের এক বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ঘটেছিল। সে সময়ের মানবগোষ্ঠী শুধু সাধারণ পাথরের অস্ত্র নয়, বরং কাটাকাটি, ছিদ্র করা ও করাতের মতো কাজে ব্যবহারের জন্য উন্নত ও জটিল সরঞ্জাম তৈরি করেছিল।
নতুন আবিষ্কারের তাৎপর্য
আন্তর্জাতিক গবেষক দল জানিয়েছে, পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন যৌগিক সরঞ্জামের প্রমাণ মিলেছে এই গবেষণায়। হাতলযুক্ত পাথরের যন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে মানব বিবর্তন ও প্রযুক্তি বিকাশ সম্পর্কে দীর্ঘদিনের ধারণা নতুনভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ধারণার বদল
এতদিন ধরে ধারণা ছিল, মধ্য প্লাইস্টোসিন যুগের শেষভাগে পূর্ব এশিয়ার মানব প্রযুক্তিতে তেমন উদ্ভাবন বা জটিলতার ছাপ ছিল না। কিন্তু নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে, চীনের প্রাচীন মানবগোষ্ঠী ছিল অনেক বেশি সৃজনশীল ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ। তারা উন্নত মানের সরঞ্জাম তৈরি করে নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়েছিল।
গবেষকদের বিশ্লেষণ
গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সিগো প্রত্নস্থলসহ আগের বিভিন্ন আবিষ্কারও প্রমাণ করে যে মধ্য থেকে শেষ প্লাইস্টোসিন যুগে চীনের মানবগোষ্ঠীর জ্ঞানগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ছিল উল্লেখযোগ্য। আফ্রিকা ও ইউরেশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের সমসাময়িক মানবদের সঙ্গে তাদের দক্ষতার তুলনা করলে স্পষ্ট হয়, তারা কোনো অংশেই পিছিয়ে ছিল না।

আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রকাশনা
এই গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া, চীন, নরওয়ে, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা অংশ নেন। তাঁদের গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনস-এ প্রকাশিত হয়েছে।
সিগো প্রত্নস্থলের ভূমিকা
চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশে অবস্থিত সিগো প্রত্নস্থলটি ২০১৭ সালে আবিষ্কৃত হয়। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সেখানে ধারাবাহিক খননকাজ চালানো হয়। এখান থেকে পাওয়া হাতলযুক্ত বোরারসহ বিভিন্ন পাথরের সরঞ্জামই প্রাচীন চীনে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের শক্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















