যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে বন্দি বিনিময় নিয়ে গোপন আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চললেও এখন তা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গিটমোতে আটক শেষ আফগান বন্দি মোহাম্মদ রহিমের মুক্তি প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এর জেরে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক যোগাযোগ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
গোপন আলোচনা ও প্রকাশ্য টানাপোড়েন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আফগানিস্তানে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের মধ্যে নীরব আলোচনা চলেছে। গত এক বছরে অন্তত পাঁচজন মার্কিন নাগরিক মুক্তি পেলেও বাকি বন্দিদের ভাগ্য নিয়ে আলোচনা থমকে গেছে। আলোচনায় জড়িত একাধিক সূত্র বলছে, শেষ পর্যায়ে এসে গিটমো বন্দি মোহাম্মদ রহিমই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

তালেবানের স্পষ্ট দাবি
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে আটক দুই মার্কিন নাগরিকের মুক্তির পাশাপাশি গিটমোতে আটক আফগান বন্দির ভাগ্যও পরিষ্কার করতে হবে। তার ভাষায়, তাদের বন্দিকে মুক্তি দিতেই হবে। এই বক্তব্যকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন চাপ হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন বন্দিদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধ
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, আফগানিস্তানে অন্তত তিনজন মার্কিন নাগরিক আটক রয়েছেন। তবে তালেবান বলছে, তাদের কাছে মাত্র দুইজন আছেন। এই দুইজন হলেন একাডেমিক ডেনিস ওয়াল্টার কয়েল এবং সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য পলিনেসিস জ্যাকসন। তৃতীয় ব্যক্তি মাহমুদ হাবিবের অবস্থান নিয়ে দ্বন্দ্ব সবচেয়ে গভীর। এফবিআইয়ের দাবি, ২০২২ সালে আফগানিস্তানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তালেবান নেতৃত্ব তা অস্বীকার করছে এবং বলছে, কাউকে দরকষাকষির জন্য আটক করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিলেও গত এক বছরে একাধিকবার দূত পাঠিয়ে বন্দি মুক্তির চেষ্টা করেছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের সময় অন্তত চারজন মার্কিন নাগরিক মুক্তি পেয়েছেন, তবে তা কোনো বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সব মার্কিন নাগরিক মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তালেবানের সঙ্গে কোনো প্রকাশ্য কূটনৈতিক অগ্রগতি হবে না।

গিটমো বন্দি মোহাম্মদ রহিমের প্রেক্ষাপট
মোহাম্মদ রহিম ২০০৮ সাল থেকে গিটমোতে আটক রয়েছেন। তিনি আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের জন্য কুরিয়ার ও দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আল-কায়েদার হামলার বিষয়ে তার আগাম জ্ঞান ছিল। সিনেট রিপোর্ট অনুযায়ী, তাকে দীর্ঘ সময় ঘুম বঞ্চনার মতো কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতির মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তার পরিবার দাবি করছে, তিনি নির্দোষ এবং তালেবান প্রশাসনের কাছে তার মুক্তির অনুরোধ জানাচ্ছে।

আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
আলোচনায় যুক্ত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তিতে ই মোহাম্মদ রহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। অন্যদিকে মাহমুদ হাবিবির পরিবার বলছে, হাবিবি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত গিটমো বন্দিকে নিয়ে কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য নয়। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার পর দুই পক্ষের অবিশ্বাস আরও বেড়েছে। ফলে বন্দি বিনিময় নয়, বরং কূটনৈতিক অচলাবস্থাই এখন প্রধান বাস্তবতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















