০৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
সহজ ও আধ্যাত্মিক জীবনের পথে এক গ্রাম টোকিওর পথে পুরোনো প্রেম, না কি নতুন শুরু? সম্পর্কের জটিলতায় ভরপুর এক ভিন্নধর্মী প্রেমকাহিনি অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য: সাফল্যের সোপান নাকি বিপর্যয়ের সূচনা? পর্যটনেই ভর করে বদলে যাবে গ্রেট নিকোবর: বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন অর্থনীতির স্বপ্ন পাঞ্জাবে নতুন ধারার চার্চে ভিড়, বিশ্বাস নাকি বিতর্ক—ধর্মান্তর আইন ঘিরে বাড়ছে উত্তাপ লুকিয়ে থাকা থেকে আশার পথে: বস্তারে মাওবাদী প্রভাব কমার পেছনের বাস্তব চিত্র ব্রিটেনে সহায়ক মৃত্যুর আইন থমকে: জনসমর্থন থাকলেও সংসদে কেন আটকে গেল বিতর্কিত বিল চীনের ছোট শহরে বার্গারের দখল: নতুন বাজারে ঝুঁকি নিয়েও এগোচ্ছে বহুজাতিক ফাস্টফুড জায়ান্ট চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা ফ্রিজড মানি ছাড় নিয়ে বিভ্রান্তি, আলোচনার আগেই নতুন শর্ত তুলল ইরান

অলিম্পিক নিরাপত্তা ঘিরে ইতালিতে ক্ষোভ, মার্কিন অভিবাসন বাহিনীর উপস্থিতি মানতে নারাজ রাজনীতিকরা

মিলান–কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিক সামনে রেখে ইতালিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী বাহিনীর একটি ইউনিট অলিম্পিকের নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত হবে—এই খবরে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। ইতালির বর্তমান ও সাবেক আইনপ্রণেতা, স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজ এ নিয়ে সরব হয়ে উঠেছে।

কী নিয়ে আপত্তি বাড়ছে

ইতালির রাজনীতিকদের বড় অংশের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন অভিযান ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার পর এমন বাহিনীর উপস্থিতি অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহরে অভিবাসন দমনের সময় প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে অনেকে অগ্রহণযোগ্য বলছেন।

Italians furious over deployment of ICE agents to bolster US security at Winter  Olympics | RNZ News

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছে, এই বাহিনী ইতালিতে কোনো অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম চালাবে না। তাদের ভূমিকা সীমিত থাকবে কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতায়। অলিম্পিকের সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইতালির কর্তৃপক্ষের হাতেই—এ কথাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

Italians furious over deployment of ICE agents to bolster US security at Winter  Olympics | CNN

ইতালির সরকারের অবস্থান

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অলিম্পিকে যে প্রতিনিধিরা আসছেন তারা মাঠপর্যায়ের অভিযানকারী নন, বরং তদন্ত ও ঝুঁকি বিশ্লেষণে দক্ষ বিশেষজ্ঞ। তারা কেবল কূটনৈতিক মিশনের ভেতরে কাজ করবেন, প্রকাশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকবেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই সুরে বলেন, রাস্তায় শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি ইতালিরই।

আজ ঢাকা আসছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে সরকারকে স্পষ্ট সীমা টানার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এমন বাহিনীর উপস্থিতি ইতালির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। মিলানের মেয়র জুসেপ্পে সালা আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, অলিম্পিক নিরাপত্তায় তাদের প্রয়োজন নেই এবং মিলানে তারা স্বাগত নন। কয়েকজন সংসদ সদস্য একে সহিংস ও নিয়ন্ত্রণহীন বাহিনী হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইতালিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন।

জনমত ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি

ইতালির গণমাধ্যমে খবর ছড়াতেই অনলাইন পিটিশন শুরু হয়েছে। মিলানে বসবাসরত বহু মার্কিন নাগরিক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

Italians furious over deployment of ICE agents to bolster US security at Winter  Olympics

সামনে কী

অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক আয়োজনে নিরাপত্তা সহযোগিতা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেই সীমা কোথায় টানা উচিত—এই প্রশ্নই এখন ইতালির রাজনৈতিক কেন্দ্রে। সরকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালালে ও বিরোধী শিবির ও স্থানীয় প্রশাসনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ ও আধ্যাত্মিক জীবনের পথে এক গ্রাম

অলিম্পিক নিরাপত্তা ঘিরে ইতালিতে ক্ষোভ, মার্কিন অভিবাসন বাহিনীর উপস্থিতি মানতে নারাজ রাজনীতিকরা

০১:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

মিলান–কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিক সামনে রেখে ইতালিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী বাহিনীর একটি ইউনিট অলিম্পিকের নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত হবে—এই খবরে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। ইতালির বর্তমান ও সাবেক আইনপ্রণেতা, স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজ এ নিয়ে সরব হয়ে উঠেছে।

কী নিয়ে আপত্তি বাড়ছে

ইতালির রাজনীতিকদের বড় অংশের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন অভিযান ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার পর এমন বাহিনীর উপস্থিতি অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহরে অভিবাসন দমনের সময় প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে অনেকে অগ্রহণযোগ্য বলছেন।

Italians furious over deployment of ICE agents to bolster US security at Winter  Olympics | RNZ News

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছে, এই বাহিনী ইতালিতে কোনো অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম চালাবে না। তাদের ভূমিকা সীমিত থাকবে কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতায়। অলিম্পিকের সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইতালির কর্তৃপক্ষের হাতেই—এ কথাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

Italians furious over deployment of ICE agents to bolster US security at Winter  Olympics | CNN

ইতালির সরকারের অবস্থান

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অলিম্পিকে যে প্রতিনিধিরা আসছেন তারা মাঠপর্যায়ের অভিযানকারী নন, বরং তদন্ত ও ঝুঁকি বিশ্লেষণে দক্ষ বিশেষজ্ঞ। তারা কেবল কূটনৈতিক মিশনের ভেতরে কাজ করবেন, প্রকাশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকবেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই সুরে বলেন, রাস্তায় শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি ইতালিরই।

আজ ঢাকা আসছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে সরকারকে স্পষ্ট সীমা টানার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এমন বাহিনীর উপস্থিতি ইতালির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। মিলানের মেয়র জুসেপ্পে সালা আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, অলিম্পিক নিরাপত্তায় তাদের প্রয়োজন নেই এবং মিলানে তারা স্বাগত নন। কয়েকজন সংসদ সদস্য একে সহিংস ও নিয়ন্ত্রণহীন বাহিনী হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইতালিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন।

জনমত ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি

ইতালির গণমাধ্যমে খবর ছড়াতেই অনলাইন পিটিশন শুরু হয়েছে। মিলানে বসবাসরত বহু মার্কিন নাগরিক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

Italians furious over deployment of ICE agents to bolster US security at Winter  Olympics

সামনে কী

অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক আয়োজনে নিরাপত্তা সহযোগিতা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেই সীমা কোথায় টানা উচিত—এই প্রশ্নই এখন ইতালির রাজনৈতিক কেন্দ্রে। সরকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালালে ও বিরোধী শিবির ও স্থানীয় প্রশাসনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।