আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনাকে ঘিরে মস্কোর ভাষ্যে নতুন একটি শব্দ ঘুরে ফিরে আসছে—‘অ্যাঙ্কোরেজ সূত্র’। রুশ নেতৃত্বের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে হওয়া এক শীর্ষ বৈঠকের ভিত্তিতেই নাকি এই সূত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই বৈঠক থেকে এমন কোনো সমঝোতা বা কাঠামোর অস্তিত্ব মেলে না। বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি আলোচনায় নিজের অনমনীয় অবস্থান আড়াল করতেই রাশিয়া এই কল্পিত সূত্রের আশ্রয় নিচ্ছে।
অ্যাঙ্কোরেজ সূত্রের দাবি কোথা থেকে
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ প্রকাশ্যে বলেছেন, এ্যাঙ্করেজ সূত্রের অংশ হিসেবে ভূখণ্ডের প্রশ্ন রাশিয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ ও জানান, মস্কো এমন একটি শান্তি চুক্তি চায়, যা নাকি অ্যাঙ্কোরেজ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে হওয়া মৌলিক বোঝাপড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা
সমস্যা হলো, সেই আলোচিত বৈঠকে কোনো লিখিত বা মৌখিক সমঝোতা হয়নি। বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি নেই। বরং ওই বৈঠকের পরপরই ওয়াশিংটনের সঙ্গে মস্কোর দূরত্ব বেড়েছে। ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা জোরদার করা হয়েছে, রুশ জ্বালানি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও এসেছে।
কল্পিত সূত্রে বাস্তবতা ঢাকার চেষ্টা
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুলোর মতে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে এ্যাঙ্করেজ বৈঠককে একটি যৌথ বোঝাপড়া হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এতে করে আন্তর্জাতিক মহলে এমন ধারণা তৈরি হয় যে, শান্তির পথে বাধা আসলে ইউক্রেন। বাস্তবে মস্কোই আলোচনাকে জটিল করে তুলছে, অথচ কল্পিত সূত্র দেখিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।

ক্রেমলিনের অস্পষ্টতা
এ্যাঙ্করেজ সূত্রের বিস্তারিত জানতে চাইলে ক্রেমলিন মুখপাত্রের জবাব ছিল এড়িয়ে যাওয়ার মতো। তিনি বলেন, আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে বলা বাস্তবসম্মত নয়। এই অস্পষ্টতায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই তথাকথিত সূত্রের ব্যাখ্যা রাশিয়ার কাছ থেকেই জানতে হবে।
যুদ্ধের বাস্তব চিত্র ও চাপ
প্রায় চার বছরের যুদ্ধে রাশিয়া ইউক্রেনের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করতে পেরেছে। প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বিপুল। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে। ছায়া নৌবহরের বিরুদ্ধে অভিযান, মিত্র হারানোর ধাক্কা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা ক্রেমলিনের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে।
প্রচার যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
এই অবস্থায় ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগকে প্রচারমূলক সাফল্য হিসেবে দেখাতে চায়। এ্যাঙ্করেজ ্এর লালগালিচা সংবর্ধনার স্মৃতি বারবার তুলে ধরে মস্কো বোঝাতে চাইছে, তারা এখনও পরাশক্তির মর্যাদায় আছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ই এখানে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রচারণার হাতিয়ার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















