কংগ্রেসের ভেতরের অস্বস্তি আবার ও প্রকাশ্যে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত রইলেন তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর। সংসদের বাজেট অধিবেশন সামনে রেখে কংগ্রেসের সংসদীয় কৌশল নির্ধারণ বৈঠকে তাঁর না থাকা নতুন করে নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্বের গুঞ্জন উসকে দিল।
দুবাই সফরের ব্যাখ্যা
দলের সূত্রের দাবি, দুবাইয়ে একটি সাহিত্য উৎসবে অংশ নিয়ে দেশে ফেরার পথে থাকায় শশী থারুর বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি। আগেই তিনি দলকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলেও জানানো হয়েছে। দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে।

কোচির ঘটনার পর ক্ষোভ
এর আগেই দিল্লিতে কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের কৌশলগত বৈঠকে ও যাননি থারুর। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, সংসদে তিনি কখনও দলের অবস্থানের বাইরে যাননি এবং নীতিগতভাবে তাঁর একমাত্র প্রকাশ্য ভিন্নমত ছিল একটি সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে। তবে দলীয় সূত্র বলছে, কোচিতে সাম্প্রতিক এক কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী মঞ্চে থাকা বারোজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম উল্লেখ করলেও শশী থারুরের নাম না নেওয়ায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও উপেক্ষিত মনে করেন।
উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগ
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, কেরালা থেকে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির তিন সদস্যের একজন হওয়া সত্ত্বেও বারবার তাঁকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন থারুর। ওই দিন মঞ্চে একই সারিতে বসে ও তাঁর নাম না ডাকার ঘটনা ই সম্পর্কের টানাপড়েন কে প্রকাশ্যে এনে দেয়।

কেরালার রাজনীতিতে প্রভাব
কেরালায় আগামী বছরের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। সেখানে ক্ষমতাসীন বাম জোটকে সরাতে মরিয়া কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী বিজেপিও। এমন সময় দলের ভেতরের এই টানাপড়েন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অস্থায়ী সমঝোতার পর ফের দূরত্ব
গত ডিসেম্বরে লোকসভায় এক আলোচনায় দলের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখে শশী থারুরের সঙ্গে নেতৃত্বের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল বলে মনে করা হয়। কিন্তু রাজ্যভিত্তিক মতপার্থক্য ও পুরনো ক্ষোভ আবারও সামনে চলে এসেছে। গত কয়েক মাসে অন্তত তিনবার বড় দলীয় বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















