যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি ও প্রযুক্তি-আসক্তির অভিযোগে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে এক ঐতিহাসিক বিচার। বিচার শুরুর ঠিক আগে টিকটক সমঝোতায় পৌঁছালেও মেটার ইনস্টাগ্রাম ও গুগলের ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা চলবে। এই বিচারকে প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এক মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মামলার মূল অভিযোগ, শিশুদের বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখতে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তিকর নকশা ও ফিচার তৈরি করেছে। এতে কিশোরদের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ ও আত্মহত্যাপ্রবণ চিন্তা বাড়ছে বলে বাদীপক্ষের দাবি। মামলার কেন্দ্রীয় চরিত্র এক ১৯ বছর বয়সী তরুণী, যার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে এমন হাজারো মামলার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে জুরি নির্বাচন শুরু হয়েছে। এই প্রথম প্রযুক্তি জায়ান্টদের শিশু ব্যবহারকারীদের ক্ষতির অভিযোগে জুরির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিচার চলবে কয়েক সপ্তাহ, যেখানে শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই বিচারকে তামাক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে হওয়া ঐতিহাসিক মামলার সঙ্গে তুলনা করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মেটা ও গুগল বলছে, তারা শিশু সুরক্ষায় নানা ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের জন্য এককভাবে সামাজিক মাধ্যমকে দায়ী করা ঠিক নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বহু অঙ্গরাজ্য ও স্কুল জেলা ইতোমধ্যে আলাদা মামলায় নেমেছে, যেখানে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে।
এই বিচার শুধু ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের প্রশ্ন নয়, বরং ভবিষ্যতে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম কতটা নিরাপদ হবে, তার দিকনির্দেশনাও ঠিক করে দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















