যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেন ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আচরণকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত সমর্থক বয়কটকে তিনি সমর্থন করেছেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্লাটার বলেন, সুইস আইনজীবী ও দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ মার্ক পিয়েথের মন্তব্য বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। গত সপ্তাহে সুইস পত্রিকা ডার বুন্ড-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিয়েথ যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ দেখতে না যাওয়ার পরামর্শ দেন।

মার্ক পিয়েথের সতর্কবার্তা
ডার বুন্ড-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্ক পিয়েথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়ার বিষয়ে সমর্থকদের সতর্ক থাকা উচিত। তাঁর মতে, সব দিক বিবেচনা করলে দর্শকদের জন্য একটাই পরামর্শ—যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়াই ভালো। টেলিভিশনেই খেলা দেখা বেশি নিরাপদ। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর যদি কোনো দর্শক কর্তৃপক্ষের মনপসন্দ না হন, তাহলে ভাগ্য ভালো হলে পরের ফ্লাইটেই তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
ব্লাটার তাঁর পোস্টে পিয়েথের এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখেন, এই বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তোলা একেবারেই যৌক্তিক।
যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজকত্ব নিয়ে প্রশ্ন
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কঠোর আচরণ। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদী অবস্থানও সমালোচনার কারণ হয়ে উঠেছে।

ইউরোপ ও আফ্রিকা থেকেও বয়কটের ইঙ্গিত
জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওকে গ্যোটলিশ শুক্রবার হামবুর্গার মর্গেনপোস্ট পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এখন সময় এসেছে বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে সত্যিই গুরুত্ব দিয়ে ভাবার।
ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়ার পর আফ্রিকার দুটি শক্তিশালী ফুটবল দেশের সমর্থকদের পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে যায়। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের নাগরিকরা আগেই ভিসা না থাকলে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নিরাপত্তা যাচাই ও স্ক্রিনিংয়ের ঘাটতি’ এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ।
এ ছাড়া বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা ইরান ও হাইতির সমর্থকরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না। এই দুই দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকাতেই অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















