শারজাহয়ে আরবি কনটেন্টের সৃজনশীলতা ও মানবিক বার্তার উদযাপন হয়ে উঠল শামস পুরস্কারের দ্বিতীয় আসর। রোববার সন্ধ্যায় হাউস অব উইজডমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কনটেন্ট নির্মাতা ও উদ্ভাবকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। শারজাহর উপশাসক ও শারজাহ মিডিয়া কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ সুলতান বিন আহমেদ বিন সুলতান আল কাসিমি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে শেখ সুলতান বলেন, আরবি কনটেন্ট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও পরিচয়ের বাহক। এই পুরস্কারের মাধ্যমে সেই শক্তিকেই সামনে আনা হচ্ছে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে অর্থবহ ও ইতিবাচক বার্তাবাহী কনটেন্ট তৈরিতে আরও উৎসাহিত করেন।
![]()
বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীরা
এবারের আসরে বিভিন্ন বিভাগে সেরা কনটেন্ট নির্মাতাদের সম্মান জানানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাঈদ জাসিম সেরা অপ্রযোজিত চলচ্চিত্র চিত্রনাট্য বিভাগে প্রথম হন। সিরিয়ার লিন জায়াত সেরা অপ্রযোজিত টেলিভিশন ধারাবাহিক চিত্রনাট্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেন। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা হন আমিরাতের খলিফা আল সাইদি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ভিডিও বিভাগে প্রথম হন আহমেদ আল হাবসি।
আরব পডকাস্ট বিভাগে লেবাননের মোহাম্মদ কাইস উপস্থাপিত ‘আই হ্যাভ আ কোয়েশ্চন’ সেরা নির্বাচিত হয়। ইরাকের হাসান থামির পান সেরা কনটেন্ট নির্মাতার স্বীকৃতি। দুই হাজার পঁচিশ সালের সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হন মারাম আলি এবং সেরা অভিনেতা হন মাজেদ আল মিসরি।
বিশেষ সম্মান ও মানবিক বার্তা
অনুষ্ঠানে তরুণ মেলিয়া হাসানকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়। তাঁর সাহসী জীবনযাত্রা, অনুপ্রেরণামূলক পথচলা ও মানবিক প্রভাবকে আরবি কনটেন্টে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বিচারক প্যানেল, পৃষ্ঠপোষক ও অংশীদারদেরও সম্মান জানানো হয়।
সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার প্ল্যাটফর্ম
অনুষ্ঠানের শুরুতে শামস পুরস্কার নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। শারজাহ মিডিয়া সিটি উদ্যোগে চালু হওয়া এই পুরস্কারের লক্ষ্য আরব প্রতিভাকে সমর্থন দেওয়া এবং আরবি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তুলে ধরা অর্থবহ কনটেন্টের প্রসার ঘটানো। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরবি কনটেন্টের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার কথা জানানো হয়।
ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে সৃজনশীলতা
শারজাহ মিডিয়া সিটির মহাপরিচালক রশিদ আবদুল্লাহ আল ওবাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, শামস পুরস্কার একটি নতুন যাত্রার সূচনা। শুরু থেকেই লক্ষ্য স্পষ্ট ছিল, সৃজনশীলতায় বিনিয়োগ মানেই ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। তিনি জানান, শামস স্টুডিওস প্রকল্পের মাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য পেশাদার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা আরবি মিডিয়া জগতে বড় পরিবর্তন আনবে।
অনুষ্ঠানে শারজাহ রেডিওর সহযোগিতায় নির্মিত একটি গান পরিবেশন করা হয়। গানটি শারজাহর সাংস্কৃতিক ও মানবিক গুরুত্ব তুলে ধরে জাতীয় পরিচয় ও গর্বের অনুভূতি প্রকাশ করে।
বিস্তৃত অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি
এবারের আসরে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট এক হাজার দুইশ দশটি কাজ জমা পড়ে। আটটি প্রধান বিভাগে এই অংশগ্রহণ আরবি সৃজনশীলতার বৈচিত্র্য ও আগ্রহের চিত্র তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে শারজাহর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও পুরস্কারপ্রাপ্তরা উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















