অতীতে ঘটে যাওয়া সব নির্যাতন ও বৈরী আচরণ দলীয়ভাবে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিশোধের রাজনীতি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির পথে না যাওয়ার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, জামায়াত তা বাস্তবেই রক্ষা করেছে।
পথসভায় বক্তব্য
মঙ্গলবার রাতের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে ঢাকায় ফেরার পথে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি জানান, অতীতের সব কষ্ট ও বঞ্চনার হিসাব সামনে এনে প্রতিহিংসার রাজনীতি করার কোনো ইচ্ছা জামায়াতের নেই।

রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি
জামায়াত আমির বলেন, ধোঁকাবাজি, ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজারে কারসাজি—এ ধরনের কর্মকাণ্ডের রাজনীতি তারা করতে চান না। তার ভাষায়, জামায়াতের রাজনীতি ক্ষমতা দখলের জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের সেবক হওয়ার জন্য।
ফ্যাসিবাদী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান
পথসভায় তিনি দোষারোপ, তোষামদি, মিথ্যাচার ও ফ্যাসিবাদী কায়দার রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য এসব পুরোনো ধারা থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে।
৫ তারিখের আগে ও পরে জামায়াতের অবস্থান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ তারিখের আগ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে ৫ তারিখের পর তারা সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের আশ্বস্ত করেছেন এবং সাহস জুগিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দেশে সবাই সমান এবং সবার অধিকারও সমান।

বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যয়
সমাবেশে জামায়াত আমির জানান, আগামীর প্রজন্মের জন্য হিংসামুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, কোনো জালিমকে আর কারও ওপর হাত বাড়াতে দেওয়া হবে না।
সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা
পথসভাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা থেকেই মুকসুদপুর কলেজ মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলার বিভিন্ন ইউনিট থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে জড়ো হন। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ ও এপিবিএনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















