দৈনন্দিন জীবনে ইমেইল ব্যবহারের ধরন বদলে দিতে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল আনছে গুগল। জনপ্রিয় ইমেইল সেবা জিমেইলে যুক্ত হচ্ছে এমন সব সুবিধা, যা ব্যবহারকারীর ইনবক্স থেকে নিজে নিজেই কাজের তালিকা তৈরি করবে, পুরোনো ইমেইল খুঁজে দেবে প্রশ্নের মাধ্যমে এবং ইমেইল লেখার কাজ ও সহজ করবে। তবে এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে জিমেইল
প্রায় দুই বছর আগে অনুসন্ধান সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল গুগল। এবার সেই একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে জিমেইলে। চলতি মাস থেকে ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে জিমেইলের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল, যার কিছু সুবিধা বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যাবে, আবার কিছু সুবিধার জন্য মাসিক অর্থ দিতে হবে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারী এখন সরাসরি প্রশ্ন লিখে ইমেইল খুঁজতে পারবেন। যেমন, গত মাসে যে নিয়োগকারীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তার নাম কী—এমন প্রশ্ন লিখলেই প্রাসঙ্গিক ইমেইল সামনে চলে আসবে। পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে নতুন ধরনের ইনবক্স, যেখানে ইমেইলের ভেতরে আলোচিত কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা করে কাজের তালিকা হিসেবে দেখাবে।

ইনবক্স ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন
ইমেইল ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই অনেকের জন্য চাপের কারণ। পড়া, উত্তর দেওয়া বা উপেক্ষা করার মধ্যে উপেক্ষাই সবচেয়ে সহজ পথ হওয়ায় অপঠিত ইমেইল এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইনবক্স এই অভ্যাস বদলাতে চায়। এটি সাম্প্রতিক ইমেইল বিশ্লেষণ করে আজকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও করণীয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরবে।
পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দেখা গেছে, অপ্রয়োজনীয় প্রচারমূলক বার্তা বাদ দিয়ে কেবল গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন ও কাজ সামনে এনে দেয় এই ইনবক্স। ব্যস্ত অভিভাবক বা অফিস কর্মীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিনা মূল্যের নতুন সুবিধা
এর আগে যেসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধা কেবল অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকদের জন্য ছিল, সেগুলোর কিছু এখন বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর আগের লেখার ধরন বিশ্লেষণ করে উত্তর প্রস্তাব করা, দীর্ঘ ইমেইল আলোচনার স্বয়ংক্রিয় সারসংক্ষেপ দেখানো এবং নির্দেশনা লিখে ইমেইল খসড়া তৈরির সুবিধা। যাঁরা লেখালেখিতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের জন্য এসব টুল সহায়ক হতে পারে।

অর্থপ্রদানের সুবিধা ও উন্নত অনুসন্ধান
যাঁরা মাসিক সাবস্ক্রিপশন নেবেন, তাঁদের জন্য আরও উন্নত সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রশ্নভিত্তিক ইমেইল অনুসন্ধান, পুরো বাক্য নতুন করে লেখার পরামর্শ দেওয়া এবং ভাষা সংশোধনের মতো টুল এতে অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে প্রশ্ন লিখে ইমেইল খোঁজার সুবিধাটি বড় ইনবক্স ব্যবহারকারীদের জন্য কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।
গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন
এই সব সুবিধা চালু করতে জিমেইলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারীকে ব্যবহারকারীর পুরো ইনবক্সে প্রবেশাধিকার দিতে হয়। গুগলের দাবি, স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণ হলেও কর্মীরা ব্যবহারকারীর ইমেইল পড়েন না এবং এই তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হয় না।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান বললেই যে তারা তথ্য দেখতে পারবে না, তা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব নয়। আইনি প্রয়োজনে অনুসন্ধান পরোয়ানার ভিত্তিতে ব্যবহারকারীর তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দিতে হয়। নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথনও সেই তথ্যভাণ্ডারের অংশ হয়ে উঠছে।
এক গোপনীয়তা অধিকারকর্মী মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইমেইলকে পুরোপুরি ব্যক্তিগত ভাবা ঠিক নয়। যে সেবা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠান এবং আইনি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে এতে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। ফলে ইমেইলে যত বেশি তথ্য রাখা হবে, ঝুঁকিও তত বাড়বে।

ব্যবহার না করতে চাইলে কী করবেন
এই নতুন সুবিধাগুলোর বেশির ভাগই ব্যবহারকারীর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকবে। কেউ যদি এগুলো ব্যবহার করতে না চান, তবে সেটিংসে গিয়ে স্মার্ট ফিচার অপশন বন্ধ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা নেবেন নাকি গোপনীয়তার ঝুঁকি এড়াবেন, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর হাতেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















