দেশ কোন পথে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। রাজশাহীতে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এমন মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোটাধিকার রক্ষার মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব। জনগণের অংশগ্রহণেই গণতন্ত্র টিকে থাকে, আর সেই পথ রুদ্ধ করতেই চক্রান্ত চলছে।
পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবনের ঘোষণা
তারেক রহমান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লবকে টেকসই করতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেচ প্রকল্প আবার সচল করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা এই প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হলে রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকের ঘরে ঘরে এর সুফল পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বৃহৎ সেচ প্রকল্পগুলো একসময় উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল। কিন্তু গত ১৬ বছরে পরিকল্পিতভাবে পদ্মাকেন্দ্রিক সেচ প্রকল্পটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে, যার ফলে কৃষকরা আজ ক্ষতিগ্রস্ত।
কৃষকের আয় বাড়লে হাসবে বাংলাদেশ
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই সেচ ব্যবস্থা শুধু রাজশাহীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তরবঙ্গের প্রতিটি প্রান্তরে সেচের পানি পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদন বাড়ে এবং কৃষকের আয় নিশ্চিত হয়। কৃষক হাসলে তবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আম চাষীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষীদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতি মৌসুমেই বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হয়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হবে, যাতে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হয়।
যোগাযোগ ও নারী ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতি
সেচ প্রকল্পের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ ছাড়া প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে মা-বোনেরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন এবং স্বাবলম্বী হবেন।
দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। রাজশাহী বিভাগের আট জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগমে পুরো মহানগর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। জনসভা থেকে তিনি আহ্বান জানান, উন্নয়ন ও ভোটাধিকার রক্ষার এই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















