মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলস জেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি র্যাটহোল কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সংঘটিত এই ঘটনাকে রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় খনি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, থাংস্কো এলাকার মাইনসিংগাট অঞ্চলের একটি অবৈধ কয়লাখনিতে সকাল প্রায় ১১টার দিকে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত হয় যে ডিনামাইটজাতীয় বিস্ফোরক থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে এবং এতে অজ্ঞাত গভীরতায় কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েন। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরণস্থল থেকে ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত একজনকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়।

সরকারের পদক্ষেপ ও তদন্ত
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের স্বজনদের জন্য তিন লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তাও ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ খনি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও মালিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতায় জাতীয় ও রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে, যদিও স্থানীয়দের দাবি অধিকাংশ শ্রমিকই আসামের বাসিন্দা।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবৈধ খনন
২০১৪ সালে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল ঝুঁকিপূর্ণ র্যাটহোল পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন ও পরিবহন নিষিদ্ধ করে, যা পরে সুপ্রিম কোর্টও বহাল রাখে। তবু কর্মী ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সমর্থনে অনেক খনি মালিক এখনও অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

পূর্বের দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা
নিষেধাজ্ঞার আগে ও পরে একাধিক খনি দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বড় ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে, একই জেলায় একটি প্লাবিত খনিতে প্রায় ৩৭০ ফুট নিচে ১৫ জন শ্রমিক আটকা পড়েন। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানে মাত্র দুটি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
ঝুঁকিপূর্ণ র্যাটহোল খনন পদ্ধতি
র্যাটহোল খননে প্রায় ৪৫ ফুট গভীর সরু গর্ত খুঁড়ে বসে কাজ করতে হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবু দৈনিক প্রায় দুই হাজার রুপি মজুরির লোভে বহু শ্রমিক এই কাজে যুক্ত হন বলে জানিয়েছেন খনি-বিরোধী কর্মীরা।
পরিবেশ পুনরুদ্ধারে কমিটির অগ্রগতি প্রশ্নবিদ্ধ
অবৈধ কয়লা খনন বন্ধের পর পরিবেশ পুনরুদ্ধার তদারকির জন্য মেঘালয় হাইকোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বি.পি. কাটাকেয়ের নেতৃত্বে এক সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল। তবে কর্মীদের দাবি, কমিটির নিয়মিত প্রতিবেদন সত্ত্বেও বাস্তবে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















