দীর্ঘ বিরতির পর উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আবারও আলোচনায় ফিরছে ভারত। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পিয়ূষ গোয়াল এই ঘোষণা দেন এমন এক সময়ে, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় দুই বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসলামাবাদের টানাপোড়েন নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ তৈরি করেছে।
জিসিসির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ
উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন—নিয়ে গঠিত এই জোটের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক হাজার বছরের পুরোনো বলে উল্লেখ করেন পিয়ুষ গোয়াল। তাঁর ভাষ্য, প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পণ্য ও সেবার অবাধ প্রবাহ বাড়াবে, নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি আরও জানান, জিসিসি অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সেসব দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এই জোটের ভেতরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রভাব
ভারত-জিসিসি আলোচনা পুনরারম্ভের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সমঝোতা। দুই দেশ কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে পুরোনো সামরিক সহযোগিতাকে নতুনভাবে সক্রিয় করেছে। এর আগে পাহালগাম হামলাকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে ওঠে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
আমিরাত-পাকিস্তান সম্পর্কে শীতলতা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বল হয়েছে। ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত একটি বড় চুক্তি বাতিল করে আমিরাত, কারণ তারা কোনো স্থানীয় অংশীদার চূড়ান্ত করতে পারেনি। একই সময়ে ভারতের সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা দ্রুত বাড়ছে। দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০৩২ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা আঞ্চলিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

আঞ্চলিক বাণিজ্য রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান
বিশ্লেষকদের মতে, জিসিসির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রবাসী শ্রমবাজার এবং বিনিয়োগ প্রবাহ—সব ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তান-সৌদি ঘনিষ্ঠতা ও আমিরাতের নীতিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারণ করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















