মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলায় সন্দেহভাজন অবৈধ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত আঠারো শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। বিস্ফোরণের পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হলেও এখনও কয়েকজন শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের জরুরি যোগাযোগ
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন। তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। এতে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে মিলল মরদেহ, আহত একজন
উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে আঠারোটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। একজন আহত শ্রমিককে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলংয়ে পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় ঠিক কতজন শ্রমিক খনির ভেতরে ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধ কয়লা উত্তোলনের সময় ই বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা ঘোষণা
নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা এবং আহতদের পঞ্চাশ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তদন্তের নির্দেশ ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস
মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দায়ীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার থাকবে।
ইঁদুর গর্ত পদ্ধতিতে খনি কেন ঝুঁকিপূর্ণ
ইঁদুর গর্ত পদ্ধতিতে অত্যন্ত সরু সুড়ঙ্গ খুঁড়ে কয়লা তোলা হয়, যেখানে একজন শ্রমিক কেবল হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করতে পারেন। পরিবেশগত ক্ষতি ও শ্রমিক নিরা পত্তার ঝুঁকির কারণে এই পদ্ধতির খনি বহু আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবু গোপনে এমন কার্যক্রম চলার অভিযোগ রয়েছে, যা আবারও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















