০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
চীন-জাপান উত্তেজনা ঘিরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিরল বৈঠক, সমর্থন জোটাতে বেইজিংয়ের প্রচেষ্টা কতটা সফল বিটকয়েন ৬০ হাজার ডলারের দোরগোড়ায়, ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ ছেড়ে সরে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিশাল বিনিয়োগে অ্যামাজনের ঝুঁকি, শেয়ারপতনে বাজারের সতর্কবার্তা চাঁদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা, সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ নির্বাচন ঘিরে কড়া নির্দেশনা: সামাজিক মাধ্যমে কিছুই শেয়ার করতে পারবে না পুলিশ খুলনায় মাথায় গুলি করে যুবক হত্যা, আধিপত্য ও মাদক বিরোধে চাঞ্চল্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতের গুলি, শিশুসহ পাঁচজন আহত চট্টগ্রাম বন্দরে অনিশ্চয়তা ঘনীভূত, আমদানি-রফতানি ও রমজান বাজারে বড় ঝুঁকির শঙ্কা চীন কিউবাকে সমর্থন দিল যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে: কূটনীতি জোরালো হলো  হঠাৎ ট্রাম্পের ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দিল্লিতে বিস্ময়

মার্কিন বিনিয়োগে বালুচিস্তানের রেকো দিক খনি: বিরল খনিজের বৈশ্বিক দৌড়ে নতুন মোড়

যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের বালুচিস্তানে অবস্থিত রেকো দিক খনিতে ১৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। ‘প্রজেক্ট ভল্ট’ নামে একটি বৃহৎ কৌশলগত উদ্যোগের অংশ হিসেবে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল ধাতুর বাজার পুনর্গঠনের লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এটিই একমাত্র বড় বিনিয়োগ।

প্রজেক্ট ভল্টের কৌশল ও অর্থায়ন

২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে প্রজেক্ট ভল্ট ঘোষিত হয়, যার তত্ত্বাবধানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এই প্রকল্পের জন্য সংস্থাটি ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে, যা তাদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অর্থায়ন। গত এক বছরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পের জন্য মোট ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের আগ্রহপত্র জারি করা হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের জন্য অনুমোদিত হয়েছে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ, যা কৌশলগত খনিজ মজুত গড়ে তোলার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ।

Cash bonanza or another begging bowl? Pakistan hails Reko Diq as US 'Project  Vault' entry, but will it backfire on Asim Munir?

রেকো দিকের ভাণ্ডার ও ভৌগোলিক গুরুত্ব

বালুচিস্তানের রেকো দিক অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামা ও স্বর্ণ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখানে প্রায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন টন আকরিক রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় তামা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ মজুত আছে। চাগাই পর্বতমালার আগ্নেয়গিরি অবশিষ্টাংশ ঘেরা এই অঞ্চল ভৌগোলিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কোয়েটা-তাফতান রেলপথ ও আফগানিস্তান সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

আইনি বিরোধের ইতিহাস

২০১১ সালে রেকো দিক খনিকে ঘিরে পাকিস্তান সরকার ও একটি আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানির মধ্যে বড় আইনি বিরোধ দেখা দেয়। অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি লঙ্ঘন এবং খনির অধিকার বাতিল নিয়ে এই বিরোধ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই জটিলতার পর নতুন বিনিয়োগ উদ্যোগ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

Barrick will restart Reko Diq project in deal ending decade-old dispute |  Pakistan Today

বৈশ্বিক খনিজ প্রতিযোগিতায় নতুন বার্তা

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি রূপান্তর, প্রযুক্তি শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে রেকো দিক প্রকল্পে মার্কিন বিনিয়োগ শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বিরল খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল ও আঞ্চলিক প্রভাবের ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন-জাপান উত্তেজনা ঘিরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিরল বৈঠক, সমর্থন জোটাতে বেইজিংয়ের প্রচেষ্টা কতটা সফল

মার্কিন বিনিয়োগে বালুচিস্তানের রেকো দিক খনি: বিরল খনিজের বৈশ্বিক দৌড়ে নতুন মোড়

০৬:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের বালুচিস্তানে অবস্থিত রেকো দিক খনিতে ১৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। ‘প্রজেক্ট ভল্ট’ নামে একটি বৃহৎ কৌশলগত উদ্যোগের অংশ হিসেবে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল ধাতুর বাজার পুনর্গঠনের লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এটিই একমাত্র বড় বিনিয়োগ।

প্রজেক্ট ভল্টের কৌশল ও অর্থায়ন

২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে প্রজেক্ট ভল্ট ঘোষিত হয়, যার তত্ত্বাবধানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এই প্রকল্পের জন্য সংস্থাটি ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে, যা তাদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অর্থায়ন। গত এক বছরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পের জন্য মোট ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের আগ্রহপত্র জারি করা হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের জন্য অনুমোদিত হয়েছে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ, যা কৌশলগত খনিজ মজুত গড়ে তোলার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ।

Cash bonanza or another begging bowl? Pakistan hails Reko Diq as US 'Project  Vault' entry, but will it backfire on Asim Munir?

রেকো দিকের ভাণ্ডার ও ভৌগোলিক গুরুত্ব

বালুচিস্তানের রেকো দিক অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামা ও স্বর্ণ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখানে প্রায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন টন আকরিক রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় তামা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ মজুত আছে। চাগাই পর্বতমালার আগ্নেয়গিরি অবশিষ্টাংশ ঘেরা এই অঞ্চল ভৌগোলিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কোয়েটা-তাফতান রেলপথ ও আফগানিস্তান সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

আইনি বিরোধের ইতিহাস

২০১১ সালে রেকো দিক খনিকে ঘিরে পাকিস্তান সরকার ও একটি আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানির মধ্যে বড় আইনি বিরোধ দেখা দেয়। অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি লঙ্ঘন এবং খনির অধিকার বাতিল নিয়ে এই বিরোধ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই জটিলতার পর নতুন বিনিয়োগ উদ্যোগ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

Barrick will restart Reko Diq project in deal ending decade-old dispute |  Pakistan Today

বৈশ্বিক খনিজ প্রতিযোগিতায় নতুন বার্তা

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি রূপান্তর, প্রযুক্তি শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে রেকো দিক প্রকল্পে মার্কিন বিনিয়োগ শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বিরল খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল ও আঞ্চলিক প্রভাবের ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।