চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থা দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার ও শনিবার কর্মবিরতি প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করা হবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
দাবি পূরণ না হলে ফের আন্দোলন
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সংশ্লিষ্ট চুক্তির অর্থনৈতিক দিক সম্পর্কে উপদেষ্টা পুরোপুরি অবগত নন। আলোচনার মাধ্যমে দেশের স্বার্থবিরোধী বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। তিনি আরও জানান, কোনো রাষ্ট্রবিরোধী চুক্তি অনুমোদন করা হবে না বলে উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন।

সীমিত কার্যক্রমে বন্দর ও কাস্টমস
আন্দোলনের মধ্যেও আংশিক কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যাংক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা রাখা হয় এবং কাস্টমস ও বন্দরের অল্প অংশে কার্যক্রম সীমিতভাবে চলতে থাকে। প্রয়োজনীয় পণ্য খালাসে আগ্রহীদের এই সীমিত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোজার আগে বন্দর বন্ধ ‘অমানবিক’ মন্তব্য
নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, রোজার আগে বন্দর বন্ধ করে এমন আন্দোলন অমানবিক ও অনুচিত। বন্দর সচল রেখেও দাবি তোলা যেত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্দোলন প্রত্যাহার না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেন তিনি। বন্দর বন্ধ থাকায় উড়োজাহাজের জ্বালানি আটকে গিয়ে বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়ছে বলে জানান উপদেষ্টা। এ ঘটনায় সত্যতা যাচাইয়ে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

উত্তেজনা, অবরোধ ও নিরাপত্তা জোরদার
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বন্দরে গেলে উপদেষ্টার গাড়িবহর ঘিরে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। স্লোগান ও অবরোধের মুখে প্রায় পনেরো মিনিট পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় গাড়িবহর ভেতরে প্রবেশ করে। টানা পঞ্চম দিনে গড়ানো এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছিল নতুন মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বৈশ্বিক অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।
এদিকে বন্দরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং কয়েকটি প্রবেশদ্বার বন্ধ রাখা হয়েছে। বহির্নোঙর ও জেটিতে পণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে, বন্ধ রয়েছে পণ্য খালাস ও যান চলাচল। রপ্তানিমুখী একাদশ হাজারের বেশি কনটেইনার বন্দরে আটকে পড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















