দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে লাহোরে আবার শুরু হয়েছে বসন্ত উৎসব। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর মধ্যরাত পেরোতেই শহরের আকাশ ভরে ওঠে রঙিন ঘুড়িতে। তবে এবার উৎসব ঘিরে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নানা শর্ত, যাতে অতীতের মতো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা না ঘটে।
তিন দিনের এই উৎসব চলবে আট ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ধারালো সুতা ও উদ্যাপনকালে গুলিবর্ষণে মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনার পর দুই হাজার সাত সালে বসন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনে উচ্ছ্বাস, নিরাপত্তায় কড়াকড়ি
লাহোরের দিল্লি গেটে ঘুড়ি উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করেন পাঞ্জাবের তথ্য মন্ত্রী আজমা বুখারি। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে, মানুষ আনন্দের সঙ্গে বসন্ত উদ্যাপন করছে। নারী, শিশু, প্রবীণসহ সব বয়সী মানুষ স্বাধীনভাবে উৎসবে অংশ নিচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুরো শহরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং উৎসব চলাকালে প্রাণহানি ঠেকাতে বিস্তৃত নিরাপত্তা শর্ত কার্যকর করা হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিদর্শন ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ও প্রস্তুতি
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেন, পঁচিশ বছর পর লাহোরের আকাশে ফিরেছে ঘুড়ি। সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে উৎসব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি নিরাপত্তা নির্দেশনা মানার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি নওয়াজ শরিফকে ধন্যবাদ জানান মানুষের জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে আনার জন্য।
উৎসবের প্রস্তুতি দেখতে তিনি লিবার্টি চকে যান, নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা দণ্ড ব্যবহারের পরামর্শ দেন। শহরজুড়ে বিশেষ বাসসেবাও চালু করা হয়েছে, যাতে মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারে।
রঙিন ঘুড়িতে ভরা আকাশ, উৎসবে নারীর অংশগ্রহণ
রাতের আকাশে অসংখ্য ঘুড়ি তারার জায়গা দখল করেছে। ছাদে ছাদে উৎসবের আমেজ, রাস্তায় তরুণদের ভিড়—সব মিলিয়ে লাহোর যেন ফিরে পেয়েছে পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য। নারীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, কেউ ঘুড়ি ওড়ানোর অপেক্ষায়, কেউ মেহেদি ও রঙিন পোশাকে ঐতিহ্যবাহী আনন্দে মেতে উঠেছেন।

নিষেধাজ্ঞা, শর্ত ও জরুরি প্রস্তুতি
শান্তি ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। ধর্মীয় গ্রন্থ, উপাসনালয়, রাজনৈতিক দল বা জাতীয় প্রতীকের ছবি থাকা ঘুড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেবল সাধারণ একরঙা বা বহুরঙা ঘুড়ি ওড়ানো যাবে।
ধাতব তার ও নাইলনের সুতা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা দণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শহরে প্রবেশকারী যানবাহনে কঠোর তল্লাশি চলছে, নিষিদ্ধ সামগ্রী জব্দ করা হচ্ছে। আকাশে গুলিবর্ষণ বা অস্ত্র প্রদর্শনের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
জরুরি সেবাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধ প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















