টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তানকে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কা। দেশটির ক্রিকেট বোর্ড সতর্ক করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পর্যটন খাতে ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে থাকা শ্রীলঙ্কার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে।
পাকিস্তান ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। দুই দল সাধারণত কেবল আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয়। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজিত হওয়ায় প্রথম পর্বেই তাদের ম্যাচ নির্ধারিত ছিল, যা ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
আর্থিক ক্ষতি ও পর্যটন নিয়ে শঙ্কা
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, পাকিস্তান যদি নির্ধারিত ম্যাচে অংশ না নেয়, তাহলে বোর্ডের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ তৈরি হবে এবং প্রত্যাশিত পর্যটক আগমন ও কমে যেতে পারে। তারা দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের দীর্ঘ সম্পর্ক ও খেলাটির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় রেখে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে।

টুর্নামেন্ট সূচি ও সম্ভাব্য মুখোমুখি
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে পাকিস্তান নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামবে। অন্যদিকে ভারতের ও একই দিনে নিজেদের প্রথম ম্যাচ রয়েছে। যদিও প্রথম পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তবু দুই দল যদি নকআউট পর্বে ওঠে, তাহলে আবারও মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সরকারিভাবে পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও মধ্যস্থতার চেষ্টা
পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পথ খুঁজছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সংস্থাটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা চালাতে পারেন বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। উদ্দেশ্য একটাই—উচ্চপ্রচারিত এই ম্যাচ ঘিরে তৈরি উত্তেজনা কমানো এবং টুর্নামেন্টের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা।
রাজনীতি নয়, খেলাধুলা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পুনরায় স্পষ্ট করে বলেছেন, খেলাধুলায় রাজনীতির প্রভাব থাকা উচিত নয়। তবু ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার ভেবেচিন্তেই নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, এটি পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া যথাযথ পদক্ষেপ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















