০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মার্কিন তুলা ব্যবহৃত বাংলাদেশি পোশাকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মাবলম্বীর দেশ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান পরিকল্পনা ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, প্রতিপক্ষকে তীব্র আক্রমণে তারেক রহমান পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা সম্পন্নে এক সপ্তাহ সময় বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট এখন থেকেই ভোট পাহারার ডাক: জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের আহ্বান শফিকুর রহমানের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দারের পদত্যাগ জিম্বাবুয়ের দুর্দান্ত জয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানকে আট উইকেটে হার শিল্পায়িত খাদ্যকে ভালোবাসতে শিখুন, দুশ্চিন্তা নয় শয়তানের দালাল ছিলেন এপস্টিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ৮২ ঘণ্টার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

ফেব্রুয়ারির বইমেলা বর্জনের ঘোষণা ৩২১ প্রকাশকের, ঈদের পর আয়োজনের দাবি জোরালো

ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত অমর একুশে বইমেলায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের ৩২১টি প্রকাশনা সংস্থা। পাঠকশূন্যতার আশঙ্কা, মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তারা জানিয়েছেন, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলায় অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ঈদুল ফিতরের পর উপযুক্ত সময়ে বইমেলা আয়োজন করা হলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং মেলা সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবেন।

নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা ও রমজানের প্রভাব

প্রকাশকদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং রমজান মাসের সময়সূচি বিবেচনায় ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে, রোজার দিনে তীব্র গরম ও যানজটের কারণে পাঠক উপস্থিতি কমে যাবে, ফলে পাঠকবিহীন মেলা আয়োজক ও প্রকাশক—উভয়ের জন্যই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

প্রকাশকদের একজন জানান, কষ্টার্জিত পুঁজি নিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। ঈদের পর আয়োজন হলে তারা পূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে অংশ নেবেন।

কর্মীদের মানবিক দিক নিয়ে উদ্বেগ

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বইমেলার স্টলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজ করেন। সারাদিন রোজা রেখে ইফতার ও তারাবির পর তাদের দিয়ে কাজ করানো অমানবিক হবে বলেই মনে করছেন প্রকাশকরা। কর্মীদের এই কষ্টের মধ্যে ফেলতে তারা অনিচ্ছুক।

এ ছাড়া গত দেড় বছরে প্রকাশনা শিল্প চরম মন্দার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, আরেকটি ব্যর্থ মেলায় অংশ নিলে অবশিষ্ট পুঁজিও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

আয়োজকদের ভিন্ন যুক্তি

বইমেলা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঈদের পর আয়োজন করলে এপ্রিল মাসের তাপপ্রবাহ, ধুলাবালি, ঝড়-বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর ঝুঁকি মেলার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে আগ্রহী প্রকাশনা সংস্থাগুলোর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে স্টলের জন্য আবেদন করেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিতও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত প্রকাশকরা

মেলা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া প্রকাশকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা বইমেলার বিপক্ষে নন। বরং ঈদের পর আয়োজন হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতিও মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে রোজার মধ্যে নিশ্চিত ব্যবসায়িক ক্ষতির ঝুঁকি তারা নিতে চান না বলেই এই সিদ্ধান্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন তুলা ব্যবহৃত বাংলাদেশি পোশাকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ফেব্রুয়ারির বইমেলা বর্জনের ঘোষণা ৩২১ প্রকাশকের, ঈদের পর আয়োজনের দাবি জোরালো

০৬:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত অমর একুশে বইমেলায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের ৩২১টি প্রকাশনা সংস্থা। পাঠকশূন্যতার আশঙ্কা, মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তারা জানিয়েছেন, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলায় অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ঈদুল ফিতরের পর উপযুক্ত সময়ে বইমেলা আয়োজন করা হলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং মেলা সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবেন।

নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা ও রমজানের প্রভাব

প্রকাশকদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং রমজান মাসের সময়সূচি বিবেচনায় ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে, রোজার দিনে তীব্র গরম ও যানজটের কারণে পাঠক উপস্থিতি কমে যাবে, ফলে পাঠকবিহীন মেলা আয়োজক ও প্রকাশক—উভয়ের জন্যই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

প্রকাশকদের একজন জানান, কষ্টার্জিত পুঁজি নিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। ঈদের পর আয়োজন হলে তারা পূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে অংশ নেবেন।

কর্মীদের মানবিক দিক নিয়ে উদ্বেগ

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বইমেলার স্টলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজ করেন। সারাদিন রোজা রেখে ইফতার ও তারাবির পর তাদের দিয়ে কাজ করানো অমানবিক হবে বলেই মনে করছেন প্রকাশকরা। কর্মীদের এই কষ্টের মধ্যে ফেলতে তারা অনিচ্ছুক।

এ ছাড়া গত দেড় বছরে প্রকাশনা শিল্প চরম মন্দার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, আরেকটি ব্যর্থ মেলায় অংশ নিলে অবশিষ্ট পুঁজিও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

আয়োজকদের ভিন্ন যুক্তি

বইমেলা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঈদের পর আয়োজন করলে এপ্রিল মাসের তাপপ্রবাহ, ধুলাবালি, ঝড়-বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর ঝুঁকি মেলার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে আগ্রহী প্রকাশনা সংস্থাগুলোর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে স্টলের জন্য আবেদন করেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিতও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত প্রকাশকরা

মেলা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া প্রকাশকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা বইমেলার বিপক্ষে নন। বরং ঈদের পর আয়োজন হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতিও মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে রোজার মধ্যে নিশ্চিত ব্যবসায়িক ক্ষতির ঝুঁকি তারা নিতে চান না বলেই এই সিদ্ধান্ত।