০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কলেজ বাছাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারস্থ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির পাহাড়, কোন দলের কী অঙ্গীকার কলেজ বাছাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা, ভরসা নাকি বিভ্রান্তি আধুনিকতার বিস্মৃত প্রতিভা ব্রুস গফ, শিকাগোর নতুন প্রদর্শনীতে উজ্জ্বল পুনরাবিষ্কার রোবটের সঙ্গে নাচতে গিয়ে পড়ে গেলেন কার্ডি বি, সুপার বোলের আগে সান ফ্রান্সিসকোতে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছবিতে কবিতা রচনা করা এক আলোকচিত্রশিল্পীর জীবনকথা ক্রিপ্টনের ধ্বংসের অন্তরঙ্গ গল্পে নতুন ‘সুপারগার্ল’, ট্রেলারে আবেগ আর প্রতিশোধের ইঙ্গিত ভাবনার প্রত্যাবর্তনে অন্ধকার থ্রিলার ‘অ্যানোমি’, নতুন অধ্যায়ে অভিনেত্রী তাজমহলের ইতিহাস ঘিরে বিতর্কে নতুন আগুন, বলিউডের চলচ্চিত্রে পুরোনো ষড়যন্ত্রের পুনর্জাগরণ ম্যান্ডেলসন কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগের চাপেও অনড় স্টারমার, টালমাটাল ব্রিটিশ রাজনীতি

ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির পাহাড়, কোন দলের কী অঙ্গীকার

সমকালের একটি শিরোনাম “ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির পাহাড়, কোন দলের কী অঙ্গীকার”

অতীতে অঙ্গীকার বাস্তবায়নের হার কম হলেও এবারের সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে রয়েছে প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি। বিএনপির ইশেতহারে রয়েছে ৯ অগ্রাধিকার এবং ৫১ পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি। জামায়াতে ইসলামী দিয়েছে ২৬ অগ্রাধিকার আর ৪১ পরিকল্পনা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ইশতেহারে ১২ অগ্রাধিকারে রয়েছে ৩৬ প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা। এসব মূল প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দলগুলোর ইশতেহারে রয়েছে ছোট ছোট আরও শতাধিক অঙ্গীকার।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলছে, বিএনপি ও জামায়াতের ইশতেহার বাস্তবতাবিবর্জিত ও অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী। প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নযোগ্য হতে হলে সবার আগে সুশাসন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। তা না হলে এসব প্রতিশ্রুতি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, বাম দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টও নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছে। সেগুলোতেও দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বিএনপি কিংবা জামায়াত নেতৃত্বাধীন কোনো জোটই ইশতেহার দেয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের গড়া দল এনসিপি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক হয়ে ৩০ আসনে লড়লেও আলাদা ও দীর্ঘ ইশতেহার দিয়েছে।

বিএনপির ইশতেহার ৪৪ পৃষ্ঠাজুড়ে বিস্তৃত। জামায়াতের ইশতেহারের আকার ৮৬ পৃষ্ঠা, তবে তা ছবিতে পূর্ণ। এনসিপির ইশতেহারও ৮৬ পৃষ্ঠার।

তিন দলের ইশতেহারে মিল
বিএনপি ও জামায়াত– উভয় দলের ইশতেহারে রয়েছে ক্ষমতায় গেলে ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠন করার কথা। এনসিপি অঙ্গীকার করেছে, সরকারে গেলে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করবে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি– তিন দলেরই উদ্দেশ্য, কমিশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণহত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সত্য উদ্ঘাটন করা।

তবে দলগুলোর সূত্র বলছে, এর মাধ্যমে অনুশোচনা প্রকাশের বিনিময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের যে নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তারা এই সুযোগ পাবেন না, তাদের বিচার হবে। দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী-সমর্থকদের যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নেই, তাদের ক্ষমা প্রার্থনা, অনুশোচনা প্রকাশের সুযোগ দিয়ে অতীতের ক্ষত নিষ্পত্তি করা হবে।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”ভোটের যাত্রায় ঈদের আমেজ”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন লাখো মানুষ। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। কোথাও বাসের সংকট, কোথাও ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা—সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এ ছাড়া মহাসড়কে যাত্রাপথে ছিল যানজটও। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটল গতকাল।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। চার দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীশ্রী শিবরাত্রি ব্রতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ থেকে টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকছে।

গতকাল ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি ছিল। সব মিলিয়ে কেউ পেয়েছেন চার দিন, কেউ পেয়েছেন পাঁচ দিন ছুটি। এতে ঈদের মতো ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে।

গতকাল মঙ্গলবার অফিস ছুটির পর রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ভিড় আরও বেড়ে যায়। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই কমলাপুর, বিমানবন্দর ও গাজীপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ দেখা গেছে।

 

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর চান ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা”

গত প্রায় দেড় বছরে দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে, তাতে বিনিয়োগ করা কঠিন ছিল—এমনটাই মনে করেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। এখন তারা চান আগামীকাল শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন শেষ হোক। পাশাপাশি ক্ষমতা হস্তান্তর হোক মসৃণ ও নিয়মতান্ত্রিক। তারা বলছেন, ফলাফল যা-ই হোক দেশে নতুন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে যেন শান্তিপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব একটা পরিবেশ তৈরি হয়।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য থাকলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। দুর্বল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে ছিল ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার। ফলে এ সরকারের আমলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা নেমে আসে, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। আবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব ও আস্থার সংকট ছিল। আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা এখন তাকিয়ে আছেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রত্যাশায়। সে রকমটা হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগ উদ্যোগ নতুন করে পথ চলতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন তারা।

শিল্পোদ্যোক্তারা মনে করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী শাসনামলে যারা ব্যাংক থেকে টাকা লুট করেছে, দুর্বৃত্তায়নে জড়িত ছিল তাদের শাস্তি হতে হবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। কিন্তু এজন্য গোটা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে কিংবা তাদের ব্যবসা করতে না দিয়ে দুর্বৃত্তায়নের ক্ষত দূর করা যাবে না।

বাংলাদেশের পরবর্তী রূপান্তরে ব্যবসায়ীরা অংশীদার হতে চান। তাদের প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। তারা মনে করেন জ্বালানিসহ যেসব বড় সংকট রয়েছে সেগুলোর টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা গেলে তিন বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারবে।

স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক তপন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এ সময়ে কিছু শিল্পকে ভুগতে হয়েছে। অতিসম্প্রতি বন্দরে কার্যক্রম স্থবির ছিল। সব মিলিয়ে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা ছিল। এখন সময় এসেছে একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব নেয়ার। আমাদের প্রত্যাশা তারা অন্তত দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করবেন। এ রকম ঘনবসতিপূর্ণ দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি খুব জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা সামনে একটা ভালো সময় আসবে।’

দেশের স্বার্থের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের নিজেদের স্বার্থও জড়িত উল্লেখ করে তপন চৌধুরী জানান, তারা কোনোক্রমেই অস্থির পরিস্থিতি হতে পারে এমন ঝুঁকিতে যেতে চান না। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যারা কারখানা পরিচালনায় রয়েছেন তারা চান দেশটা মসৃণভাবে চলুক। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সমষ্টিগতভাবে বিশ্বাস করি যে যারা শিল্প-কারখানা চালায়, তারা যে সরকারই আসুক তাদের পূর্ণ সমর্থন করবে। যারাই সরকার গঠন করুক তারা ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সমর্থন পাবে। কারণ আমরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি অ্যাফর্ড করতে পারব না। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের দিকে দৃষ্টি দিলেই বোঝা যায় যে আমরা খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। কাজেই দেশটা সুন্দরভাবে পরিচালিত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’

 

মানবজমিনের একটি শিরোন “ব্যালটের ভোটে বুলেটের থ্রেট”

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। গতকাল সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। আগামীকাল সকাল থেকে দেশের তিন শতাধিক আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। কিন্তু ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। ইতিমধ্যে নানা শঙ্কার কথা গোয়েন্দা রিপোর্টেও উঠে এসেছে। প্রার্থী ও ভোটাররা আগে থেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। এবারের ব্যালটে সবচেয়ে বড় থ্রেট বুলেট। আর ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, সংঘর্ষ, সহিংসতা, ভোটপ্রদানে বাধার শঙ্কাও আছে আলোচনায়। গোয়েন্দা রিপোর্টে দেশের কম-বেশি সব আসনে ঘটে যাওয়া সংঘাতের চিত্র উঠে এসেছে। সবক’টি সংসদীয় আসনের অতিঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘাত হতে পারে- এমন কেন্দ্রের তালিকাও করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে জানানো হয়েছে। অস্ত্রের ব্যবহার করতে পারে এমন পেশাদার শুটারদের তালিকা করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন প্রার্থীর হয়ে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই করতে পারে- এমন সন্ত্রাসীদের তালিকা করে তাদেরকে ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর বাইরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ সব কেন্দ্রে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোট বানচালের জন্য যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, নানা শঙ্কার কথা মাথায় রেখে এবারের জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, আনসার, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা ছক সাজিয়েছে। সবক’টি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ নেই সেসব এলাকায় সিসি ক্যামেরার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটের নিরাপত্তায় ২৫ হাজারের বেশি বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে পুলিশ। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। এবারের ভোটের নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী এক লাখ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনী তিন হাজার ৭৩০, পুলিশ এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড তিন হাজার ৫৮৫, র‍্যাব সাত হাজার ৭০০ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন।

গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে ১৩টি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা-৭, পাবনা-১ ও ৩, খুলনা-৫, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৪, শেরপুর-৩, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-৬ ও চট্টগ্রাম-১৫। গোয়েন্দাদের তালিকায় মধ্যম ঝুঁকি রয়েছে এমন একটি তালিকাও করেছেন। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে উঠে এসেছে, ঢাকা-১০, নারায়ণগঞ্জ-৩, ময়মনসিংহ-১০, ময়মনসিংহ-১১, নেত্রকোণা-৩, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ফরিদপুর-৪, সুনামগঞ্জ-২, মৌলভীবাজার-৩, কুমিল্লা-১১, চাঁদপুর-৪, নোয়াখালী-২, চট্টগ্রাম-১৪ ও চট্টগ্রাম-১৬, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও-৩, লালমনিরহাট-১, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২, খুলনা-৪, সাতক্ষীরা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-২, ভোলা-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-২, টাঙ্গাইল-৮, রংপুর-৩, রংপুর-৪, গাইবান্ধা-৫, বগুড়া-২, বগুড়া-৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-১, রাজশাহী-২, নাটোর-১, সিরাজগঞ্জ-৪, কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহ-৩।

আরেকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিভাগওয়ারী অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ভোট বানচাল করতে পারে এমন তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকায় দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগের ২২টি আসন, ময়মনসিংহের ৮, সিলেটের ২, চট্টগ্রামের ১৬, রংপুর বিভাগে ৭, রাজশাহী বিভাগের ১০, খুলনা ও বরিশালের ১৩ আসন রয়েছে। এ সব আসনের প্রায় ২৯০৬টি কেন্দ্রকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা বিভাগের আসনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে- টাঙ্গাইল-১ এর ২৭, টাঙ্গাইল-৪ এর ১১, টাঙ্গাইল-৮-এর ৯, কিশোরগঞ্জ-৪ এর ৪৮, কিশোরগঞ্জ-৫ এর ৩০, মানিকগঞ্জ-১ এর ৩৪, মুন্সীগঞ্জ-১ এর ১৭, ঢাকা-২ এর ১০, ঢাকা-৩ এর সাত, ঢাকা-৪ এর ৭০, ঢাকা-৭ এর ৯০, ঢাকা-৮ এর ৫৪, ঢাকা ১০-এর ৪৮, ঢাকা-১ এর ৬৩ এবং ঢাকা-১৫ এর ২৮টি কেন্দ্র আছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২ এর ৪৪, নারায়ণগঞ্জ-৩ এর ৩৯, নারায়ণগঞ্জ-৪৩ এর ২৭, ফরিদপুর-৪ এর ১৮, শরীয়তপুর-১ এর ৫৪, শরীয়তপুর-২ এর ৩৮ এবং মাদারীপুর-৩ এর ৫২টি কেন্দ্র এই তালিকায় রয়েছে।

রংপুরের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি আসনের মধ্যে আছে- পঞ্চগড়-১ এর ১৪টি, ঠাকুরগাঁও-১ এর ৮৪, ঠাকুরগাঁও-৩ এর ১১, লালমনিরহাট-১ এর ৪০ রংপুর-৩ এর ৩৩, রংপুর-৪ এর ৩১ এবং গাইবান্ধা-৫ এর ৩২টি কেন্দ্র। রাজশাহীর কেন্দ্রগুলোর মধ্যে- বগুড়া-২ এর ২৬, বগুড়া-৪ এর ৩১, বগুড়া-৫ এর ৪১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এর ২৫, রাজশাহী-১ এর ৫৪, রাজশাহী-২ এর ২৮, নাটোর-১ এর ১৩, সিরাজগঞ্জ-১ এর ৫২, সিরাজগঞ্জ-২ এর ১৮, সিরাজগঞ্জ-৪ এর ২৯, পাবনা-১ এর ছয় এবং পাবনা-২৩ এর ১৪টি কেন্দ্র আছে। অধিক ঝুঁকির মধ্যে আছে- খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া-১ এর ৭২, কুষ্টিয়া-৩ এর ২২, চুয়াডাঙ্গা-১ এর ১৬, ঝিনাইদহ-৩ এর ২১, ঝিনাইদহ-৪ এর সাত, যশোর-২ এর ১৮, যশোর-৫ এর ১৩, খুলনা-২ এর ৪৯, খুলনা-৩ এর ২১, খুলনা-৪ এর ৫৮, খুলনা-৫ এর ৪০, সাতক্ষীরা-১ এর পাঁচ এবং বাগেরহাট-১ এর ৫৯টি কেন্দ্র। বরিশালের অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে-বরগুনা-২ এর ১৪টি, ঝালকাঠি-১ এর ১৮, পটুয়াখালী-২ এর ২১, পটুয়াখালী-৩ এর ৮০টি। ভোলার চারটি (১, ২, ৩ ও ৪) আসনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা যথাক্রমে-১০, ৭১, ৪৩ এবং ২৫টি। বরিশাল ১, ৩ এবং ৫ আসনের যেক’টি কেন্দ্র অতিরিক্ত ব্যালট পেপার এবং দেশীয় অস্ত্রের ঝুঁকিতে আছে সেগুলো যথাক্রমে- ২, ৩১ এবং ১০০টি। এছাড়া আছে পিরোজপুর-২-এর ২৮ এবং পিরোজপুর-৩ এর ৪৭টি কেন্দ্র।

সিলেট বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জ-২ এর ১৩টি এবং মৌলভীবাজার-৩ এর ৫০ কেন্দ্র রয়েছে অধিক ঝুঁকিতে। চট্টগ্রাম বিভাগের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কুমিল্লা-৪ এর ১০, কুমিল্ল-৯ এর ১৮, কুমিল্লা-১১ এর ৫০, চাঁদপুর-৩ এর ৩৮, নোয়াখালী-২ এর দুই, নোয়াখালী-৬ এর ছয়, চট্টগ্রাম-২ এর ৩, চট্টগ্রাম-১০ এর ৯৪, চট্টগ্রাম-১১ এর ৪৬, চট্টগ্রাম-১৪ এর ৫১, চট্টগ্রাম-১৫ এর ৫৯, চট্টগ্রাম-১৬৭ এর ৪১, ফেনী-১ এর ২৫, ফেনী-৩ এর ৩০, লক্ষ্মীপুর-২ এর ৫৭ এবং লক্ষ্মীপুর-৩ এর ৬৮টি কেন্দ্র আছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৫১টি আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কলেজ বাছাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারস্থ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক

ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির পাহাড়, কোন দলের কী অঙ্গীকার

০৭:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সমকালের একটি শিরোনাম “ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির পাহাড়, কোন দলের কী অঙ্গীকার”

অতীতে অঙ্গীকার বাস্তবায়নের হার কম হলেও এবারের সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে রয়েছে প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি। বিএনপির ইশেতহারে রয়েছে ৯ অগ্রাধিকার এবং ৫১ পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি। জামায়াতে ইসলামী দিয়েছে ২৬ অগ্রাধিকার আর ৪১ পরিকল্পনা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ইশতেহারে ১২ অগ্রাধিকারে রয়েছে ৩৬ প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা। এসব মূল প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দলগুলোর ইশতেহারে রয়েছে ছোট ছোট আরও শতাধিক অঙ্গীকার।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলছে, বিএনপি ও জামায়াতের ইশতেহার বাস্তবতাবিবর্জিত ও অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী। প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নযোগ্য হতে হলে সবার আগে সুশাসন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। তা না হলে এসব প্রতিশ্রুতি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, বাম দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টও নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছে। সেগুলোতেও দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বিএনপি কিংবা জামায়াত নেতৃত্বাধীন কোনো জোটই ইশতেহার দেয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের গড়া দল এনসিপি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক হয়ে ৩০ আসনে লড়লেও আলাদা ও দীর্ঘ ইশতেহার দিয়েছে।

বিএনপির ইশতেহার ৪৪ পৃষ্ঠাজুড়ে বিস্তৃত। জামায়াতের ইশতেহারের আকার ৮৬ পৃষ্ঠা, তবে তা ছবিতে পূর্ণ। এনসিপির ইশতেহারও ৮৬ পৃষ্ঠার।

তিন দলের ইশতেহারে মিল
বিএনপি ও জামায়াত– উভয় দলের ইশতেহারে রয়েছে ক্ষমতায় গেলে ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠন করার কথা। এনসিপি অঙ্গীকার করেছে, সরকারে গেলে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করবে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি– তিন দলেরই উদ্দেশ্য, কমিশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণহত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সত্য উদ্ঘাটন করা।

তবে দলগুলোর সূত্র বলছে, এর মাধ্যমে অনুশোচনা প্রকাশের বিনিময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের যে নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তারা এই সুযোগ পাবেন না, তাদের বিচার হবে। দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী-সমর্থকদের যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নেই, তাদের ক্ষমা প্রার্থনা, অনুশোচনা প্রকাশের সুযোগ দিয়ে অতীতের ক্ষত নিষ্পত্তি করা হবে।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”ভোটের যাত্রায় ঈদের আমেজ”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন লাখো মানুষ। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। কোথাও বাসের সংকট, কোথাও ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা—সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এ ছাড়া মহাসড়কে যাত্রাপথে ছিল যানজটও। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটল গতকাল।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। চার দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীশ্রী শিবরাত্রি ব্রতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ থেকে টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকছে।

গতকাল ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি ছিল। সব মিলিয়ে কেউ পেয়েছেন চার দিন, কেউ পেয়েছেন পাঁচ দিন ছুটি। এতে ঈদের মতো ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে।

গতকাল মঙ্গলবার অফিস ছুটির পর রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ভিড় আরও বেড়ে যায়। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই কমলাপুর, বিমানবন্দর ও গাজীপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ দেখা গেছে।

 

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর চান ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা”

গত প্রায় দেড় বছরে দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে, তাতে বিনিয়োগ করা কঠিন ছিল—এমনটাই মনে করেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। এখন তারা চান আগামীকাল শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন শেষ হোক। পাশাপাশি ক্ষমতা হস্তান্তর হোক মসৃণ ও নিয়মতান্ত্রিক। তারা বলছেন, ফলাফল যা-ই হোক দেশে নতুন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে যেন শান্তিপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব একটা পরিবেশ তৈরি হয়।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য থাকলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। দুর্বল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে ছিল ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার। ফলে এ সরকারের আমলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা নেমে আসে, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। আবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব ও আস্থার সংকট ছিল। আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা এখন তাকিয়ে আছেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রত্যাশায়। সে রকমটা হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগ উদ্যোগ নতুন করে পথ চলতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন তারা।

শিল্পোদ্যোক্তারা মনে করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী শাসনামলে যারা ব্যাংক থেকে টাকা লুট করেছে, দুর্বৃত্তায়নে জড়িত ছিল তাদের শাস্তি হতে হবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। কিন্তু এজন্য গোটা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে কিংবা তাদের ব্যবসা করতে না দিয়ে দুর্বৃত্তায়নের ক্ষত দূর করা যাবে না।

বাংলাদেশের পরবর্তী রূপান্তরে ব্যবসায়ীরা অংশীদার হতে চান। তাদের প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। তারা মনে করেন জ্বালানিসহ যেসব বড় সংকট রয়েছে সেগুলোর টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা গেলে তিন বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারবে।

স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক তপন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এ সময়ে কিছু শিল্পকে ভুগতে হয়েছে। অতিসম্প্রতি বন্দরে কার্যক্রম স্থবির ছিল। সব মিলিয়ে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা ছিল। এখন সময় এসেছে একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব নেয়ার। আমাদের প্রত্যাশা তারা অন্তত দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করবেন। এ রকম ঘনবসতিপূর্ণ দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি খুব জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা সামনে একটা ভালো সময় আসবে।’

দেশের স্বার্থের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের নিজেদের স্বার্থও জড়িত উল্লেখ করে তপন চৌধুরী জানান, তারা কোনোক্রমেই অস্থির পরিস্থিতি হতে পারে এমন ঝুঁকিতে যেতে চান না। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যারা কারখানা পরিচালনায় রয়েছেন তারা চান দেশটা মসৃণভাবে চলুক। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সমষ্টিগতভাবে বিশ্বাস করি যে যারা শিল্প-কারখানা চালায়, তারা যে সরকারই আসুক তাদের পূর্ণ সমর্থন করবে। যারাই সরকার গঠন করুক তারা ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সমর্থন পাবে। কারণ আমরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি অ্যাফর্ড করতে পারব না। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের দিকে দৃষ্টি দিলেই বোঝা যায় যে আমরা খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। কাজেই দেশটা সুন্দরভাবে পরিচালিত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’

 

মানবজমিনের একটি শিরোন “ব্যালটের ভোটে বুলেটের থ্রেট”

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। গতকাল সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। আগামীকাল সকাল থেকে দেশের তিন শতাধিক আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। কিন্তু ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। ইতিমধ্যে নানা শঙ্কার কথা গোয়েন্দা রিপোর্টেও উঠে এসেছে। প্রার্থী ও ভোটাররা আগে থেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। এবারের ব্যালটে সবচেয়ে বড় থ্রেট বুলেট। আর ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, সংঘর্ষ, সহিংসতা, ভোটপ্রদানে বাধার শঙ্কাও আছে আলোচনায়। গোয়েন্দা রিপোর্টে দেশের কম-বেশি সব আসনে ঘটে যাওয়া সংঘাতের চিত্র উঠে এসেছে। সবক’টি সংসদীয় আসনের অতিঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘাত হতে পারে- এমন কেন্দ্রের তালিকাও করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে জানানো হয়েছে। অস্ত্রের ব্যবহার করতে পারে এমন পেশাদার শুটারদের তালিকা করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন প্রার্থীর হয়ে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই করতে পারে- এমন সন্ত্রাসীদের তালিকা করে তাদেরকে ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর বাইরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ সব কেন্দ্রে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোট বানচালের জন্য যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, নানা শঙ্কার কথা মাথায় রেখে এবারের জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, আনসার, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা ছক সাজিয়েছে। সবক’টি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ নেই সেসব এলাকায় সিসি ক্যামেরার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটের নিরাপত্তায় ২৫ হাজারের বেশি বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে পুলিশ। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। এবারের ভোটের নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী এক লাখ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনী তিন হাজার ৭৩০, পুলিশ এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড তিন হাজার ৫৮৫, র‍্যাব সাত হাজার ৭০০ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন।

গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে ১৩টি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা-৭, পাবনা-১ ও ৩, খুলনা-৫, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৪, শেরপুর-৩, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-৬ ও চট্টগ্রাম-১৫। গোয়েন্দাদের তালিকায় মধ্যম ঝুঁকি রয়েছে এমন একটি তালিকাও করেছেন। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে উঠে এসেছে, ঢাকা-১০, নারায়ণগঞ্জ-৩, ময়মনসিংহ-১০, ময়মনসিংহ-১১, নেত্রকোণা-৩, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ফরিদপুর-৪, সুনামগঞ্জ-২, মৌলভীবাজার-৩, কুমিল্লা-১১, চাঁদপুর-৪, নোয়াখালী-২, চট্টগ্রাম-১৪ ও চট্টগ্রাম-১৬, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও-৩, লালমনিরহাট-১, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২, খুলনা-৪, সাতক্ষীরা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-২, ভোলা-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-২, টাঙ্গাইল-৮, রংপুর-৩, রংপুর-৪, গাইবান্ধা-৫, বগুড়া-২, বগুড়া-৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-১, রাজশাহী-২, নাটোর-১, সিরাজগঞ্জ-৪, কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহ-৩।

আরেকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিভাগওয়ারী অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ভোট বানচাল করতে পারে এমন তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকায় দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগের ২২টি আসন, ময়মনসিংহের ৮, সিলেটের ২, চট্টগ্রামের ১৬, রংপুর বিভাগে ৭, রাজশাহী বিভাগের ১০, খুলনা ও বরিশালের ১৩ আসন রয়েছে। এ সব আসনের প্রায় ২৯০৬টি কেন্দ্রকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা বিভাগের আসনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে- টাঙ্গাইল-১ এর ২৭, টাঙ্গাইল-৪ এর ১১, টাঙ্গাইল-৮-এর ৯, কিশোরগঞ্জ-৪ এর ৪৮, কিশোরগঞ্জ-৫ এর ৩০, মানিকগঞ্জ-১ এর ৩৪, মুন্সীগঞ্জ-১ এর ১৭, ঢাকা-২ এর ১০, ঢাকা-৩ এর সাত, ঢাকা-৪ এর ৭০, ঢাকা-৭ এর ৯০, ঢাকা-৮ এর ৫৪, ঢাকা ১০-এর ৪৮, ঢাকা-১ এর ৬৩ এবং ঢাকা-১৫ এর ২৮টি কেন্দ্র আছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২ এর ৪৪, নারায়ণগঞ্জ-৩ এর ৩৯, নারায়ণগঞ্জ-৪৩ এর ২৭, ফরিদপুর-৪ এর ১৮, শরীয়তপুর-১ এর ৫৪, শরীয়তপুর-২ এর ৩৮ এবং মাদারীপুর-৩ এর ৫২টি কেন্দ্র এই তালিকায় রয়েছে।

রংপুরের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি আসনের মধ্যে আছে- পঞ্চগড়-১ এর ১৪টি, ঠাকুরগাঁও-১ এর ৮৪, ঠাকুরগাঁও-৩ এর ১১, লালমনিরহাট-১ এর ৪০ রংপুর-৩ এর ৩৩, রংপুর-৪ এর ৩১ এবং গাইবান্ধা-৫ এর ৩২টি কেন্দ্র। রাজশাহীর কেন্দ্রগুলোর মধ্যে- বগুড়া-২ এর ২৬, বগুড়া-৪ এর ৩১, বগুড়া-৫ এর ৪১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এর ২৫, রাজশাহী-১ এর ৫৪, রাজশাহী-২ এর ২৮, নাটোর-১ এর ১৩, সিরাজগঞ্জ-১ এর ৫২, সিরাজগঞ্জ-২ এর ১৮, সিরাজগঞ্জ-৪ এর ২৯, পাবনা-১ এর ছয় এবং পাবনা-২৩ এর ১৪টি কেন্দ্র আছে। অধিক ঝুঁকির মধ্যে আছে- খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া-১ এর ৭২, কুষ্টিয়া-৩ এর ২২, চুয়াডাঙ্গা-১ এর ১৬, ঝিনাইদহ-৩ এর ২১, ঝিনাইদহ-৪ এর সাত, যশোর-২ এর ১৮, যশোর-৫ এর ১৩, খুলনা-২ এর ৪৯, খুলনা-৩ এর ২১, খুলনা-৪ এর ৫৮, খুলনা-৫ এর ৪০, সাতক্ষীরা-১ এর পাঁচ এবং বাগেরহাট-১ এর ৫৯টি কেন্দ্র। বরিশালের অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে-বরগুনা-২ এর ১৪টি, ঝালকাঠি-১ এর ১৮, পটুয়াখালী-২ এর ২১, পটুয়াখালী-৩ এর ৮০টি। ভোলার চারটি (১, ২, ৩ ও ৪) আসনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা যথাক্রমে-১০, ৭১, ৪৩ এবং ২৫টি। বরিশাল ১, ৩ এবং ৫ আসনের যেক’টি কেন্দ্র অতিরিক্ত ব্যালট পেপার এবং দেশীয় অস্ত্রের ঝুঁকিতে আছে সেগুলো যথাক্রমে- ২, ৩১ এবং ১০০টি। এছাড়া আছে পিরোজপুর-২-এর ২৮ এবং পিরোজপুর-৩ এর ৪৭টি কেন্দ্র।

সিলেট বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জ-২ এর ১৩টি এবং মৌলভীবাজার-৩ এর ৫০ কেন্দ্র রয়েছে অধিক ঝুঁকিতে। চট্টগ্রাম বিভাগের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কুমিল্লা-৪ এর ১০, কুমিল্ল-৯ এর ১৮, কুমিল্লা-১১ এর ৫০, চাঁদপুর-৩ এর ৩৮, নোয়াখালী-২ এর দুই, নোয়াখালী-৬ এর ছয়, চট্টগ্রাম-২ এর ৩, চট্টগ্রাম-১০ এর ৯৪, চট্টগ্রাম-১১ এর ৪৬, চট্টগ্রাম-১৪ এর ৫১, চট্টগ্রাম-১৫ এর ৫৯, চট্টগ্রাম-১৬৭ এর ৪১, ফেনী-১ এর ২৫, ফেনী-৩ এর ৩০, লক্ষ্মীপুর-২ এর ৫৭ এবং লক্ষ্মীপুর-৩ এর ৬৮টি কেন্দ্র আছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৫১টি আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ হয়েছে।