সংযুক্ত আরব আমিরাতে নারী শিক্ষাগত ও বৈজ্ঞানিক অর্জনের ধারা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। দেশটি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় লিঙ্গ সমতা সূচকে প্রথম স্থান অর্জন করেছে, যা ২০২৫ সালের জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো; বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এর প্রায় ৭০ শতাংশই নারী, যাদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিত) ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ।
বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয়তা
প্রতিবছর ১১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক নারী ও কন্যা শিশু বিজ্ঞান দিবস হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নারীরা স্পেস ও নিউক্লিয়ার শক্তি সহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে তাদের অসীম উচ্চাভিলাষের প্রমাণ দেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিভিন্ন শাখায় নারীদের অংশগ্রহণ দেশের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ফলাফল।
নারীর ক্ষমতায়নে জাতীয় নীতি ও উদ্যোগ
সংযুক্ত আরব আমিরাত নারীর ক্ষমতায়নে দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। “ন্যাশনাল পলিসি ফর এমপাওয়ারমেন্ট অফ এমিরাতি উইমেন ২০২৩-২০৩১” এবং “মাদার অফ দ্য নেশন ৫০:৫০” ভিশনের মতো উদ্যোগ দেশের নারীর প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে নেতৃত্বের সুযোগ বাড়াচ্ছে। নারীরা বর্তমানে UAE ন্যাশনাল স্পেস প্রোগ্রামে কর্মশক্তির প্রায় অর্ধেক এবং এমিরাতি মার্স মিশন “হোপ প্রোব” বৈজ্ঞানিক দলের প্রায় ৮০ শতাংশ অংশীদার।
ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীর প্রভাব
নিউক্লিয়ার শক্তি, কোডিং, AI ও ক্লাউড কম্পিউটিং-এ নারীর অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। ‘সৈদাতি’ প্রোগ্রাম ৫০০ নারীকেই AI দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে। “ইনভেস্টমেন্ট রেডিনেস অ্যাকসেলেরেটর ফর ফিমেল এন্ট্রেপ্রেনার্স” নারীদের প্রযুক্তি স্টার্টআপে নেতৃত্ব ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম করছে। দেশে নারীর প্রভাব প্রতিফলিত হয়, ২০২৫ সালের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদক্ষেপে তারা বিশ্বব্যাপী সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অগ্রগতি
জেনারেল উইমেন্স ইউনিয়নের মাধ্যমে ‘প্রোডাকটিভ ফ্যামিলিজ’ কর্মসূচি চালু হয়েছে, যা মহিলাদের মাসিক বেতন, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করছে। UAE নারীর ক্ষমতায়ন ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের নারীর এই সাফল্য তাদের উচ্চাভিলাষ, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমের প্রতিফলন, যা দেশের উন্নয়ন ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।
Sarakhon Report 


















