ওইয়াশিংটন থেকে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিধিনিষেধ স্থগিত করেছে যা মূলত চীনের বিরুদ্ধে আরোপ করা হয়েছিলো, আগামী এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনের আগে। এই পদক্ষেপগুলোতে চীন টেলিকমের যুক্তরাষ্ট্রে সেবা বন্ধ করা, আমেরিকার ডেটা সেন্টারগুলিতে ব্যবহৃত চীনা প্রযুক্তি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য কিছু নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
প্রধান সিদ্ধান্ত ও স্থগিত
ট্রাম্প প্রশাসন নিম্নলিখিত প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিধিনিষেধগুলো স্থগিত করেছে, যেমন: চায়না টেলিকমের মার্কিন কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পিত নিষেধাজ্ঞা, চীনা সরঞ্জামাদি বিশেষত ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ওপর নিয়ন্ত্রণ, পি‑টি‑লিংক নামক রাউটারগুলো ও চীন ইউনিকম ও চীন মবাইলের মার্কিন ইন্টারনেট ব্যবসার ওপর নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া মার্কিন বাজারে বিক্রয়ের জন্য চীনে তৈরি ইলেকট্রিক ট্রাক ও বাসের ওপর বিধিনিষেধও স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তগুলো পূর্বে কখনো রিপোর্ট করা হয়নি এবং এগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ উদ্যোগ যা বেইজিংয়ের সঙ্গে অপ্রিয় সম্পর্ক সৃষ্টি হতে পারে এমন সরকারি পদক্ষেপগুলো কমিয়ে আনছে। এই পরিবর্তনটি নভেম্বর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে হওয়া একটি বাণিজ্য মুখোশ সমঝোতার পর এসেছে, যেখানে চীন দামী বিরল‑ধাতু রপ্তানি নিয়ন্ত্রণকে বিলম্ব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও সমর্থন
মার্চান্ডাইজিং বিভাগের দাবি, তারা বিদেশী প্রযুক্তি থেকে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সরাসরি তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করছে এবং এই কাজ অব্যাহত রাখবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপগুলো ট্রেড যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যেই নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সমালোচনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
কিন্তু কিছু সমালোচক বলছেন যে এই স্থগিতাদেশ মার্কিন সংবেদনশীল তথ্য, ডেটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে চীনের প্রভাবের মুখে অসুরক্ষিত করে দিতে পারে, বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন প্রযুক্তি ক্ষেত্রগুলোতে। মেট পটিংজার, যারা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন, বলেন, বিরল‑ধাতু সরবরাহ চেইন থেকে বেইজিংয়ের প্রভাব কমানোর জন্য চেষ্টা করা হলেও সম্প্রতি নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোতে বেইজিং আসলে মার্কিন অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন প্রভাব অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।

চীনা দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া
চীনা দূতাবাস বলেছে, তারা পণ্যে বা প্রযুক্তিতে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানোর বিরোধী এবং তারা আশা করে ২০২৬ হবে দুই বৃহৎ দেশ পরস্পরের প্রতি সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও লাভজনক সহযোগিতার দিকে অগ্রসর হবে এমন এক বছর।
পি‑টি‑লিংক ও মার্কিন মান
পি‑টি‑লিংক সিস্টেমস ইনকর্পোরেটেড, একটি ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক কোম্পানি, ২০২৪ সালে চীনা প্রতিষ্ঠানের শাখা থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া হলেও, তারা বলেছে তারা একটি স্বতন্ত্রভাবে মালিকানাধীন মার্কিন কোম্পানি, যার সফটওয়্যার মার্কিন ব্যবস্থাপনায়, ডেটা মার্কিন সার্ভারে হোস্ট এবং নিরাপত্তা চর্চা মার্কিন শিল্প মান অনুযায়ী। তারা বলেছে, যে কোনো বিদেশী নিয়ন্ত্রণের দাবি ভূল এবং তারা নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করে না।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
কিছু ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা এই সিদ্ধান্তের কঠিন সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, চীনের প্রযুক্তিকে মার্কিন অবকাঠামোতে প্রবেশ করতে দিয়ে “চীন‑এর বিরুদ্ধে কঠোর” হওয়া যায় না এবং ট্রাম্প প্রশাসন যদি বেইজিংয়ের খুশিতে এগোতে চায় তবে তা তাদের মতে জাতীয় নিরাপত্তা ও শিল্পের ক্ষতি করবে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
এই স্থগিতাদেশ পরবর্তী এপ্রিলের ট্রাম্প‑শি সম্মেলনের পরে সম্পর্ক খারাপ হলে পুনরায় প্রযুক্তি বিধিনিষেধ জোরদার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, মার্কিন ডেটা সেন্টার হার ও অন্যান্য প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমগুলোতে চীনা প্রভাবের ঝুঁকি এখনো বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















