রোজা শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপণ্যের বাজারে ফিরেছে পুরোনো চিত্র। বিশেষ করে বেগুন, লেবু ও কলার দাম বেগবান হয়ে উঠেছে। শসা, কাঁচামরিচসহ আরও কিছু পণ্যের দামও আকাশছোঁয়া। রাজধানীসহ দেশের জেলা শহরগুলোর বাজারে একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে।
ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, গত বছরের তুলনায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসায়ীরা আগের মতো কৌশল কাজে লাগাচ্ছেন। নির্বাচনের কারণে বাজারে যথাযথ তদারকি না থাকায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সরকার দ্রুত কঠোর বাজার নিয়ন্ত্রণে না এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী কিছু পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি আছে, যা দাম বৃদ্ধির কারণ।

বেগুনের দাম দেড়শ ছাড়ালো
গত মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুলে দেখা গেছে, শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। শসার দাম দুই দিন আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বেগুনের কেজি বেড়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে এই দাম ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায়, কাঁচা পেঁপে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় ও উচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লেবুর সরবরাহ বেড়েছে হলেও দাম কমেনি। মাঝারি আকারের লেবু প্রতি হালি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে চড়া দাম
নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য ভরসার ব্রয়লার মুরগির দাম দুই-আড়াই মাস ধরে ১৫০ টাকার বেশি ছিল। গত কয়েকদিনে দাম বেড়ে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি জাতের মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরায়ও দাম বেড়েছে।

কলা ও বরইয়ের সরবরাহ কম, দাম বাড়ছে
কলার বাজারে দুই-তিন দিন ধরে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলা কলা প্রতি ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, সবরি কলা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরইয়ের কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, রোজায় দাম বেশি পাওয়ার আশায় চাষিরা কম পরিমাণে কলা বাজারে আনছেন।
রাজধানীর বাইরেও একই পরিস্থিতি
বগুড়ায় নিত্যপণ্যের দাম ৭ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। কিশোরগঞ্জে লেবুর দাম তিন গুণ, বেগুনের দাম আড়াই গুণ বেড়েছে। সিলেটে এক সপ্তাহের মধ্যে দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। নওগাঁয় মুরগি, সবজি ও খেজুরের দাম বেড়েছে। ময়মনসিংহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরুতে ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে। শীতে মুরগি মারা যাওয়ায় এবং গরুর সরবরাহ কম থাকায় মুরগির দামও বাড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















