শেরপুর ও চাঁদপুরে পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি হয়েছে। মঙ্গলবারের এই দুই দুর্ঘটনায় দুই কৃষক, এক গ্রামবাসী নারী ও তার ছেলে মারা যান। এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শেরপুরের নকলা: সেচ লাইনের ছেঁড়া তারে দুই কৃষকের মৃত্যু
শেরপুরের নকলা উপজেলার পুলদেশী গ্রামে বিকেলে ধানক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সেচ লাইনের একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে জমির পানিতে পড়ে ছিল। অজান্তেই সেই জীবন্ত তারে পা পড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন একজন কৃষক। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুজন বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসেন।
এ ঘটনায় নিহত হন মিন্টু মিয়া, বয়স পঞ্চান্ন, এবং আঙ্গুর, বয়স পঞ্চাশ। গুরুতর আহত হন সামিরুল, বয়স ষাট। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র গোপ জানান, সন্ধ্যায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ: খুঁটি থেকে সংযোগ নিতে গিয়ে মা-ছেলের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার দক্ষিণ নালুয়া গ্রামে রাত সাড়ে নয়টার দিকে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। নতুন নির্মিত একটি বাড়িতে অগভীর নলকূপের যন্ত্র বসাতে সড়কের পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন আমেনা বেগম রিনা, বয়স পঁয়ষট্টি, এবং তার ছেলে এনামুল হক রাসেল খান, বয়স পঁয়ত্রিশ।
সংযোগ দেওয়ার সময় হঠাৎ তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয়রা আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখতে পেয়ে ছুটে এসে বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে উদ্ধার করার আগেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাবির হুসনাইন সানিব।
গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
একদিনেই দুই জেলায় চারজনের মৃত্যু নতুন করে গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সেচ লাইন ও খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, এই ঘটনাগুলো তারই করুণ উদাহরণ হয়ে থাকল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















