০২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬: ছয়টি উপন্যাস পেল শীর্ষ ষ্ট্রিংলিস্ট, ঘোষণা নিয়ে সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যালে কানিয়ে ওয়েস্টকে ঘিরে স্পনসর সরে যাচ্ছে, বাড়ছে সাংস্কৃতিক অস্বস্তি পিকসার্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন আয়-পথ খুলছে, এআই ডিজাইন বাজারে বদল আসার ইঙ্গিত এআই অবকাঠামোর দৌড় থামাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট, যন্ত্রাংশের বিলম্ব আর শুল্কচাপ দুই সার কারখানার পর এবার বন্ধের পথে ডিএপিএফসিএল আজ রাতে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে – ট্রাম্প প্রথমবারের মতো প্রাণীর টিকাকার্ড চালুর প্রস্তাব, স্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ১২৮ সংসদে বিরোধী দল অত্যন্ত সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করছে- স্পিকার হুতি আন্দোলনের সংযমী পদক্ষেপ: ইরান যুদ্ধে সীমিত হামলা ও কৌশল

অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর প্রথম দিনেই বড় সংস্কার পরিকল্পনা, ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে জোর

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই উচ্চাভিলাষী সংস্কার পরিকল্পনার ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের কাজ করার সক্ষমতা পুরোপুরি নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শক্তি ও দক্ষতার ওপর। আর সেই জায়গাতেই এখন সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনই প্রথম অগ্রাধিকার

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এই সংকট দ্রুত সমাধান না করলে বড় কোনো অর্থনৈতিক কর্মসূচিও সফল হবে না। তাঁর ভাষায়, এখন প্রধান সমস্যা হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেঙে পড়া কাঠামো। তাই সবার আগে এগুলোকে ঠিক করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো উদ্যোগ টেকসই ফল দেবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এসব গুণাবলি ফিরিয়ে আনাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য। সুশাসনের ভিত মজবুত না হলে অর্থনীতির চাকা সঠিকভাবে ঘুরবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

BNP to abolish financial institutions division if voted to power: Amir  Khasru | Prothom Alo

পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান

অর্থনৈতিক নীতির প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে যে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি মনে করেন, অর্থনীতি কিছু মানুষের জন্য নয়, বরং সবার জন্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সমান সুযোগ থাকতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ ও সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। তাঁর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটাই হবে সাফল্যের বড় মানদণ্ড।

অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি

অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশ অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বেড়াজালে আটকে গেছে। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে, প্রতিযোগিতা সীমিত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি মনে করেন, জটিল ও অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। নিয়মকানুন যৌক্তিক ও সরল করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। এজন্য তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও উদারীকরণে।

অর্থনীতিই মূল ফোকাস

নিজের অগ্রাধিকার কী—এই প্রশ্নে আমির খসরু সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, অর্থনীতিই তাঁর প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। তবে সেই অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে আগে প্রতিষ্ঠান সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬: ছয়টি উপন্যাস পেল শীর্ষ ষ্ট্রিংলিস্ট, ঘোষণা নিয়ে সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন

অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর প্রথম দিনেই বড় সংস্কার পরিকল্পনা, ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে জোর

০৫:২৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই উচ্চাভিলাষী সংস্কার পরিকল্পনার ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের কাজ করার সক্ষমতা পুরোপুরি নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শক্তি ও দক্ষতার ওপর। আর সেই জায়গাতেই এখন সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনই প্রথম অগ্রাধিকার

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এই সংকট দ্রুত সমাধান না করলে বড় কোনো অর্থনৈতিক কর্মসূচিও সফল হবে না। তাঁর ভাষায়, এখন প্রধান সমস্যা হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেঙে পড়া কাঠামো। তাই সবার আগে এগুলোকে ঠিক করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো উদ্যোগ টেকসই ফল দেবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এসব গুণাবলি ফিরিয়ে আনাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য। সুশাসনের ভিত মজবুত না হলে অর্থনীতির চাকা সঠিকভাবে ঘুরবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

BNP to abolish financial institutions division if voted to power: Amir  Khasru | Prothom Alo

পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান

অর্থনৈতিক নীতির প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে যে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি মনে করেন, অর্থনীতি কিছু মানুষের জন্য নয়, বরং সবার জন্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সমান সুযোগ থাকতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ ও সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। তাঁর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটাই হবে সাফল্যের বড় মানদণ্ড।

অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি

অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশ অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বেড়াজালে আটকে গেছে। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে, প্রতিযোগিতা সীমিত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি মনে করেন, জটিল ও অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। নিয়মকানুন যৌক্তিক ও সরল করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। এজন্য তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও উদারীকরণে।

অর্থনীতিই মূল ফোকাস

নিজের অগ্রাধিকার কী—এই প্রশ্নে আমির খসরু সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, অর্থনীতিই তাঁর প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। তবে সেই অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে আগে প্রতিষ্ঠান সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।