ময়মনসিংহের ত্রিশালে অটোরিকশা চালকরা জেলা অটো সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে ঢাকার দিকে সংযুক্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। সকালেই কয়েকশ অটোরিকশাচালক মহাসড়কে অবস্থান নিলে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এক ঘণ্টার বেশি চলা অবরোধ শেষে ত্রিশাল থানার পুলিশ চাঁদা বন্ধের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ তুলে নেন চালকরা।
অতিরিক্ত চাঁদার অভিযোগ
চালকরা অভিযোগ করেছেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দীর্ঘদিন ধরে দুকুল মিয়া নামে একজন নিজেকে পরিবহন শ্রমিক নেতা পরিচয় দিয়ে নিয়মহীন চাঁদা আদায় করতেন। তাঁর দুই সহযোগী রফিক হোসেন ও মদন মিয়ার মাধ্যমে অটোরিকশাপ্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা তুলতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাঁদা কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এরপর ৩০ টাকা, পরে ৪০ এবং নির্বাচনের পর ৭০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় শুরু হয়। কেউ চাঁদা না দিলে মারধর, গাড়ি আটক করা ও নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন চালকরা।

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট
আজ সকালে ত্রিশালের মো. ফয়সাল নামে এক চালক যখন মেডিকেল গেট এলাকায় যান, তখন তাঁকে ৭০ টাকা চাঁদা দিতে বলা হয়। প্রতিবাদ করলে তাকে যাত্রী তুলতে ও দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। ফয়সাল অন্য চালকদের বিষয়টি জানান এবং সকালের দশটায় মহাসড়ক অবরোধের মাধ্যমে বিক্ষোভ শুরু হয়। চালক মো. রহিম বলেন, চাঁদা না দিলে স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না, তাই বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি।
পুলিশের পদক্ষেপ
ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন জানিয়েছেন, মহাসড়কে চালকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর চাঁদা বন্ধের আশ্বাস পেয়ে তারা অবরোধ তুলে নেন।
দুকুল মিয়ার ছদ্মবেশ
জানা গেছে, দুকুল নিজেকে জেলা অটো সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায় করতেন। পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন, পরে বিএনপি ও নবনির্বাচিত এমপি ওয়াহাব আকন্দের লোক পরিচয় ব্যবহার শুরু করেন। এমপি ওয়াহাব আকন্দ অবশ্য দুকুলকে চেনে না বলে জানিয়ে বলেছেন, তার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে পুলিশকে জানাতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















