মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) সিন্ধ প্রদেশ পরিষদে করাচি আলাদা প্রদেশ গঠনের বিরোধিতায় গৃহীত সিদ্ধান্তকে “সংবিধিবিরোধী” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দলটির চেয়ারম্যান খালিদ মকবুল সিদ্দিকী বলেছেন, ১৯৭৩ সালের পাকিস্তান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩৯ নতুন প্রদেশ গঠনের অধিকার স্পষ্টভাবে অনুমোদন করেছে।
সিন্ধ প্রস্তাব ও এমকিউএম-পি’র আপত্তি
শনিবার সিন্ধ প্রদেশ পরিষদ একটি প্রস্তাব পাশ করে, যা করাচিকে আলাদা প্রদেশ হিসেবে গঠনের যে কোনো পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং শহরটিকে সিন্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। এমকিউএম-পি চেয়ারম্যান খালিদ মকবুল সিদ্দিকী এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গতকাল সিন্ধ প্রদেশ সংবিধির বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। এটা একেবারেই সংবিধিবিরোধী।” সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে ছিলেন ফারুক সত্তার, মুস্তাফা কামাল, সিনেটর ফয়সাল সুব্জওয়ারি ও দলের অন্যান্য নেতারা।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৬) অনুসারে গণভোটের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রদেশ সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “পিপিপি কিছু ভয়ের ছায়ায় এই প্রস্তাব পাশ করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, প্রায়শই সিন্ধ যেন সংবিধানের ঊর্ধ্বে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলে ভোটাভুটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কৃত্রিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পিপিপি সিন্ধের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।”

সংলাপ ছাড়া সমাধান নেই
খালিদ মকবুল সিদ্দিকী আরও বলেন, যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংলাপই একমাত্র পথ এবং তার দল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষপাতী। তিনি বলেন, “সিন্ধ পাকিস্তানের সবচেয়ে বহু ভাষিক প্রদেশ, কিন্তু গত ২০ বছর ধরে শহুরে এলাকায় অন্যায় ও অবহেলা চলছে।”
প্রাক্তন করাচি মেয়র মুস্তাফা কামালও সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ফেডারেশন শহরের ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, করাচি আলাদা প্রদেশ হিসেবে গঠনের দাবি সংবিধানের আওতায় পড়ে। এমকিউএম-পি’র প্রাক্তন মেয়র আরও বলেন, তাদের দল ১৮তম সংবিধান সংশোধনী সমর্থন করেছিল প্রাদেশিক ক্ষমতা পৌর প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে। তিনি অভিযোগ করেন, “পিপিপি জেলা পর্যায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরে আগ্রহী নয়।”

সিন্ধ সরকারের প্রতিক্রিয়া
সিন্ধ প্রদেশ পরিষদ শনিবার একটি প্রস্তাব পাশ করে, যা সিন্ধের বিভাজনের যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। সিন্ধের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলি শাহ বলেন, “সিন্ধের ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা অমিলযোগ্য এবং সংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত।” তিনি করাচি আলাদা প্রদেশ করার আহ্বানকে ইতিহাস, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক নীতির বিরুদ্ধে উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিন্ধ কেবল একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়, এটি বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার একটি অংশ।” তিনি ১৯৪৩ সালে পাকিস্তান প্রস্তাবনা পাশ করার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও স্মরণ করান। তিনি বলেন, করাচি সর্বদা সিন্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকবে এবং সকল রাজনৈতিক পক্ষকে বিভাজনমূলক বক্তব্য এড়াতে হবে।
মুরাদ শাহ আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুসারে কোনো প্রদেশের সীমা পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, “সিন্ধ একাধিকবার তার ঐক্য রক্ষা করেছে। এটি নতুন নয়।” তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে সিন্ধের জনগণ সংবিধান ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবসময় তাদের প্রদেশ রক্ষা করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















